


নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: অ্যাম্বুলেন্সের দালাল চক্র ভাঙতে কড়া পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। কোনো চালক ভুল বুঝিয়ে রোগীদের নার্সিংহোমে নিয়ে গিয়ে ফায়দা তুললে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অনেক সময় এক হাসপাতাল থেকে অন্য সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে রোগীদের রেফার করা হয়। রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার পরই চালকদের একাংশ রোগীর আত্মীয়দের মগজধোলাই শুরু করে। রেফার হওয়া সরকারি হাসপাতালে রোগীদের ঠিকমতো চিকিৎসা করা হয় না বলে তারা বোঝাতে থাকে। পরিবর্তে তারা কোনো নার্সিংহোমের নাম বলে। সেখানে নাকি ‘সেরা’ পরিষেবা পাওয়া যায়। তা বুঝিয়েই রোগীদের সেই নার্সিংহোমে নিয়ে গিয়ে ফায়দা তোলে। অ্যাম্বুলেন্স চালকরা মোটা টাকা কমিশন পেয়ে যায়। রোগীর আত্মীয়দের সর্বস্বান্ত হতে হয়।
স্থানীয়রা বলেন, বহুদিন ধরেই এই দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে। কাটোয়া বা কালনা হাসপাতাল থেকে অনেক সময় রোগীদের বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। পাশের জেলা বীরভূম বা মুর্শিদাবাদ থেকেও বহু রোগীকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাঁদের নিয়ে আসার জন্য অ্যাম্বুলেন্স চালকদের উপর নির্ভর করতে হয়। এক শ্রেণির চালকদের সঙ্গে বহু নার্সিংহোমের আঁতাত থাকে। ওই নার্সিংহোমগুলিতে সেভাবে পরিকাঠামো নেই। নামী চিকিৎসকও বসেন না। তারপরও ভুল বুঝিয়ে রোগীদের সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়। কোনো রোগীকে নার্সিংহোমে পৌঁছে দিতে পারলে চালকরা ২৫-৩০ হাজার টাকা কমিশন পায় বলে অভিযোগ। বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র বলেন, চক্র ভাঙতে যা যা ব্যবস্থা নেওয়া দরকার সবটাই করা হবে।
রোগীর আত্মীয়দের অভিযোগ, বহুদিন ধরে চক্রটি সক্রিয় থাকলেও এতদিন কেউ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ভুল জায়গায় যাওয়ার খেসারত রোগীর আত্মীয়দের দিতে হয়েছে। কয়েকদিন আগে নবাবহাটের একটি নার্সিংহোমে প্রসূতির মৃত্যু হয়। চিকিৎসায় গাফিলতির কারণেই রোগীর মৃত্যু হয় বলে পরিবারের লোকজন দাবি করেন। এরকম একাধিক ঘটনা বিভিন্ন নার্সিংহোমে হয়েছে।
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশের পর একাধিক পদক্ষেপ বাস্তবায়িত করা হচ্ছে। অকারণে সরকারি হাসপাতালগুলি থেকে যাতে রোগীদের রেফার না করা হয়, সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলিতেও দালাল চক্র সক্রিয় রয়েছে। তাদের সঙ্গেও ওই অ্যাম্বুলেন্স চালকদের অনেকেরই যোগাযোগ রয়েছে। কোনো রোগীকে হাসপাতাল থেকে রেফার করে দিতে পারলে তারাও কমিশন পায়। এই ব্যবস্থার অবসান হতে চলেছে। কোনো রোগীর পরিবার অ্যাম্বুলেন্স চালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে রোগীর পরিবার নিজে থেকে কোনো বেসরকারি হাসপাতাল বা নার্সিংহোমে যেতে চাইলে সেক্ষেত্রে কোনও অসুবিধা নেই। এক আধিকারিক বলেন, কিছুদিনের মধ্যে অনেক পরিবর্তন চোখে পড়বে।