সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: অণ্ডাল থানার খান্দরা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রায় ১৬টি বাড়িতে ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিল আসায় বিপাকে পড়েছে ওই পরিবারগুলি। এক একটি বাড়িতে ২০-৪০ হাজার টাকার বিল এসেছে। তাঁদের অভিযোগ, এক সময় বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়া হবে বলে সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। এখন হঠাৎই বিলের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই বিলের মূল্য মকুব করার আর্জি জানিয়েছেন ওই দরিদ্র পরিবারগুলি।
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন দপ্তরের দাবি, যতটুকু বিদ্যুৎ খরচ হয়েছে, সেইমতো বিল দেওয়া হয়েছে। পরিবারগুলিকে বিল মেটানোর জন্য সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।
জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন দপ্তরের গ্রামীণ বিদ্যুতায়ন প্রকল্পে সরকার গ্রামীণ এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার উদ্যোগ নিয়েছিল। সেই সময় খান্দরা এলাকায় রুইদাস পাড়া ও প্রেস পাড়ার বিপিএল তালিকাভুক্ত বাসিন্দারা বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়েছিলেন। ভুক্তভোগী উপভোক্তা জলধর বাউরি বলেন, ২০১৬ সালে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। প্রথমে আমাদের বলা হয়েছিল, একটি লাইট ও একটি ফ্যানের বিদ্যুৎ খরচ বিনামূল্যে দেওয়া হবে। মোট ৭০ইউনিটের জন্য কোনও টাকা লাগবে না। বিদ্যুৎ সংযোগের পর একদিনও বিল আসেনি। কয়েকবছর আগে হঠাৎ একবার বিল আসে। তখন কোনও রকমে মিটিয়েছিলাম। আর বিল আসত না। এখন হঠাৎ এলাকার বহু বাড়িতে ভূতুড়ে বিল এসেছে। কারও ২০ হাজার, কারও আবার ৩০ কিংবা ৪০ হাজার। আমরা দিনমজুরির কাজ করি। এলাকার অধিকাংশ মহিলা পরিচারিকার কাজ করে সংসার চালায়। আমরা এত টাকার বিল কোথা থেকে দেব? আমাদের দাবি, এই বিল মকুব করতে হবে। আর এক ভুক্তভোগী ভাদু রুইদাস বলেন, আমাদের ৩০ হাজার টাকা বিল এসেছে। আমি লোকের বাড়িতে কাজ করি। এত বিল আমরা দিতে পারব না।
খান্দরা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান আশিস ভট্টাচার্য বলেন, ওই এলাকাগুলিতে দিনমজুর মানুষের বসবাস। তাঁরা এত টাকার বিল কীভাবে দেবেন? তাছাড়া, এত বিল কেন এল, বিষয়টি দেখে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার দুর্গাপুর বিভাগের ডিএম সাহেল হাসান বলেন, ওই এলাকায় ১৬জন গ্রাহকের বিদ্যুৎবিল দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া ছিল। আগে বিল পাঠানো হতো। ওঁরা বিল জমা করেননি। তারপরে দীর্ঘদিন পর ফের বিল পাঠানো হয়েছে। আমরা ওঁদের ওই বিলের টাকা প্রতিমাসে অল্প অল্প করে মিটিয়ে দিতে বলেছি।