সংবাদদাতা, কাটোয়া: কাটোয়া বিধানসভা এলাকায় এবার এসআইআর নিয়ে নতুন সমস্যা। কারও স্বামীর নাম ২০০২ সালের তালিকায় নেই, অথচ স্ত্রীর নাম রয়েছে। আবার কোনও ক্ষেত্রে স্ত্রীর নাম থাকলেও স্বামীর নাম নেই। বাবা-মায়ের নাম না থাকায় বিবাহিত মেয়েদের শ্বশুরবাড়িতে গঞ্জনা শুনতে হচ্ছে। কাটোয়ার চর সাহাপুর গ্রামে এমন সমস্যায় জর্জরিত বাসিন্দারা। ইনিউমারেশন ফর্ম ডিজিটাইজেশন করতে পারছেন না খোদ বিএলও।
কাটোয়া-২ ব্লকের অগ্রদ্বীপ অঞ্চলের চর সাহাপুর গ্রামে ১৭৮ নম্বর বুথে ৫৪৫ জন ভোটার। এমন সমস্যায় পড়তে হয়েছে বহু পরিবারকে। তাঁরা বাধ্য হয়েই পরিবারের অন্যান্য আত্মীয়দের নাম দিয়ে ইনিউমারেশন ফর্ম জমা দিয়েছেন। কিন্তু তাঁদের শুনানির মুখোমুখি হতে হবে ভেবে দুশ্চিন্তায় ঘুম উড়েছে। গ্রামের সত্তরোর্ধ্ব বাসিন্দা আরতি বিশ্বাস বলছেন, আমরা চৌদ্দ পুরুষ ধরে ভারতে বসবাস করছি। বাধর্ক্য ভাতা পাই, ২০০২ সালের আগেও ভোট দিয়েছি। আমাদের পুরনো ভোটার কার্ড রয়েছে। অথচ ২০০২ সালের তালিকায় নাম নেই। আমার মেয়ে সুলতা মণ্ডলের বিয়ে দিয়েছি নদীয়ার বেথুয়াডহরিতে। মেয়েকে শ্বশুরবাড়িতে গঞ্জনা শুনতে হচ্ছে। আমাদের নামের তালিকা পাঠাতে পারিনি। তিনকড়ি বিশ্বাস ও তাঁর স্ত্রী জয়ন্তী বিশ্বাস দু’ জনের যথেষ্ট বয়স হয়েছে। তাঁদেরও নাম নেই ২০০২ সালের তালিকায়। যার জন্যে তাঁদের মেয়ে শ্যামলী দাসকেও শ্বশুরবাড়িতে কথা শুনতে হচ্ছে।
গ্রামের বাসিন্দা তাপস মণ্ডল ও তাঁর স্ত্রী অপর্ণা মণ্ডলের বার্ধক্য এসে গেলেও ২০০২ সালের তালিকায় নাম নেই। একই অবস্থা শচীন মণ্ডল, কল্যাণী সেনদেরও। কল্যাণী দেবী বলছেন, আমার নাম তালিকায় নেই, অথচ আমার স্বামী সদ্য প্রয়াত মানিকচন্দ্র সেনের নাম রয়েছে। আমাদের বয়স হয়েছে, এখন বাপের বাড়িতে সেরকম কেউ নেই। আমাদের বলছে শুনানির লাইনে নাকি দাঁড়াতে হবে। আমাদের প্রশ্ন, তাহলে আমরা ২০০২ সালে ভোট দিলাম কীভাবে। এখন সেই তালিকাটাই পাওয়া যাচ্ছে না। ১৭৮ নম্বর বুথের বিএলও বলেন, আমাদের বুথে একটা অদ্ভুত সমস্যা দেখা দিয়েছে। দেখা যাচ্ছে স্বামীর নাম নেই, অথচ স্ত্রীর নাম রয়েছে। আবার কারও বাবা ও মায়ের নাম নেই, তাঁদের ছেলের নাম রয়েছে। তাঁরা তাঁদের পরিবারের অন্যান্য কোনও সম্পর্কের লিঙ্ক দেখিয়ে ইনিউমারেশন ফর্ম জমা দিয়েছেন। আমিও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কথা অনুযায়ী ওইসমস্ত বৃদ্ধদের ইনিউমারেশন ডিজিটাইজ করিনি।
কাটোয়ার মহকুমা শাসক অনির্বাণ বসু বলেন, আমরা বিষয়টা দেখছি। সংশোধনী তালিকাতে খোঁজ নিচ্ছি কারও নাম রয়েছে কি না। আমরাও চাই না কোনও বয়স্ক মানুষ জনশুনানির লাইনে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়ুন। তৃণমূলের জেলা পরিষদ সদস্য নিতাইসুন্দর মুখোপাধ্যায় বলেন, এঁরা কেউ বাংলাদেশ থেকে আসেননি। প্রত্যেকেই এদেশের নাগরিক। ২০০২ সালের আগেও তাঁরা ভোট দিয়েছেন। পুরনো ভোটার কার্ডও রয়েছে। কিন্তু অনেকেরই দেখা যাচ্ছে পরিবারের কারও ২০০২ সালের তালিকায় নাম রয়েছে, আবার কারও নাম নেই। এটা কেন হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা তারকনাথ বিশ্বাস বলছিলেন, এলাকার গরিব মানুষরা জনশুনানির লাইনে গিয়ে জমির দলিল কীভাবে দেখাবে? কারণ অনেকেই টাকার অভাবে জমি রেজিস্ট্রি করাতে পারেননি। তাছাড়া তাঁরা ২০০২ সালে ভোট দিয়েছেন। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে তালিকায় নাম নেই। এদের অনেকের মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে নামের তালিকা পাঠাতে পারছেন না৷ আমরা চাই নির্বাচন কমিশন গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টা দেখুক।