Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

যুদ্ধের আবহে ডিউটিতে যাওয়ার পথে জওয়ানকে জরিমানা, সাসপেন্ড টিটিই

জেনারেল কোচের টিকিট নিয়ে উঠেছিলেন ট্রেনের সংরক্ষিত কামরায়।

যুদ্ধের আবহে ডিউটিতে যাওয়ার পথে জওয়ানকে জরিমানা, সাসপেন্ড টিটিই
  • ১১ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: জেনারেল কোচের টিকিট নিয়ে উঠেছিলেন ট্রেনের সংরক্ষিত কামরায়। ‘অপরাধ’ বলতে এটুকুই। তাও এই পদক্ষেপ করতে হয়েছিল একপ্রকার বাধ্য হয়েই। কারণ জেনারেল কোচে ন্যূনতম বসার জায়গাও পাননি। শুধুমাত্র এই কারণে সংশ্লিষ্ট ট্রেনের টিটিইর চরম দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হল ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক জওয়ান এবং তাঁর সঙ্গী অগ্নিবীরকে। অভিযোগ, ওই জওয়ান এবং তাঁর সঙ্গীর কোনও অনুরোধেই কর্ণপাত করেননি ওই টিটিই। পরিবর্তে তাঁদের কাছ থেকে রীতিমতো জরিমানা আদায় করে কোচ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। বলা হয় যে, জেনারেল কোচের শেষে গিয়ে বসে থাকতে। চরম অপমানিত ওই সেনা জওয়ান এবং তাঁর সঙ্গী অগ্নিবীর এরপরই এই বিষয়ে রেলের কাছে নির্দিষ্ট মর্মে অভিযোগ জানান। 

Advertisement

তাঁরা জানান, বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আচমকাই ডিউটি জয়েন করার নির্দেশ এসেছে তাঁদের কাছে। এত সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে সংরক্ষিত কামরায় কনফার্মড টিকিট পাননি তাঁরা। জেনারেল কোচে বসার জায়গা পেলে সেভাবেই গন্তব্যে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। কিন্তু অসংরক্ষিত কামরায় ভিড় দেখে ওই সেনা জওয়ান সিদ্ধান্ত নেন যে, সংরক্ষিত কোচে উঠে যাবেন। এরপর টিটিইকে জানিয়ে নির্দিষ্ট ভাড়া দিয়ে এক রাতের জন্য আসন সংরক্ষিত করবেন। কিন্তু এই দুর্ব্যবহার হবে, তা তাঁরা ভাবতে পারেননি। সরকারি সূত্রের দাবি, রেলের কাছে দায়ের করা অভিযোগে এই কথাই জানিয়েছেন ওই সেনা জওয়ান বিনোদ কুমার এবং তাঁর সঙ্গী অগ্নিবীর জাহির খান। বৃহস্পতিবার মালওয়া এক্সপ্রেসে এহেন ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার নর্দার্ন রেলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ‘অভিযুক্ত টিকিট পরীক্ষক দলজিৎ সিংকে ইতিমধ্যেই চাকরি থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সেইমতো অভিযুক্ত রেল কর্মীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ একইসঙ্গে এদিন রেলমন্ত্রক জানিয়েছে, ভারতীয় সেনা জওয়ানের সঙ্গে কোনওরকম দুর্ব্যবহার বরদাস্ত করা হবে না। 
অন্যদিকে, সুরক্ষা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে রাজস্থানের জয়সলমির স্টেশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রেলমন্ত্রক। হরিয়ানার আম্বালা রেল শাখাতেও ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি পাঞ্জাব, গুজরাতের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে রাতের অন্ধকারে যাত্রীবাহী ট্রেন না চালানোরই পরিকল্পনা ছিল রেলের। যদিও শনিবার বিকেল ৫টা থেকে ভারত, পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ায় যাবতীয় পরিকল্পনা ফের পুনর্বিবেচনা করে দেখছে রেলমন্ত্রক। সেইমতোই নয়া সিদ্ধান্ত হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ