Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সাঁতুড়িতে লক্ষ-লক্ষ টাকার সোলার সাবমার্সিবল অকেজো, দপ্তরে চিঠি

সাঁতুড়ি ব্লকজুড়ে লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়ে তৈরি সোলার সাবমার্সিবল অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে।

সাঁতুড়িতে লক্ষ-লক্ষ টাকার সোলার সাবমার্সিবল অকেজো, দপ্তরে চিঠি
  • ১০ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: সাঁতুড়ি ব্লকজুড়ে লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়ে তৈরি সোলার সাবমার্সিবল অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। একসময় জেলার বিভিন্ন দপ্তরের তরফ থেকে সাঁতুড়ি ব্লকের বিভিন্ন জায়গায় পানীয় জলের জন্য সোলার পাওয়ার পরিচালিত সাবমার্সিবল পাম্প লাগানো হয়েছিল। বর্তমানে ব্লক এলাকায় ৫০টির বেশি সোলার সাবমার্সিবল খারাপ হয়ে পড়ে রয়েছে। একটি সোলার সাবমার্সিবল লাগানোর জন্য ৫ থেকে ৭ লক্ষ টাকা পর্যন্ত খরচ করা হয়েছিল। ফলে প্রায় ৩ কোটি টাকার বেশি জলের সোলার পাম্প খারাপ হয়ে পড়ে রয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ জানিয়েও কাজ হয়নি। ফলে সরকারি উদাসীনতার জন্য কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি পড়ে নষ্ট হচ্ছে।

Advertisement

সাঁতুড়ি ব্লকের বিডিও পার্থ দাস বলেন, জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরের তরফ থেকে বিকল সোলার সাবমার্সিবলগুলির অধিকাংশই চিঠি করে সারানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাকি কিছু পাম্পের মেশিন চুরি হয়ে গিয়েছে। কিছু পাম্প খারাপ থাকার বিষয়ে অভিযোগ আসার পরেই সেইগুলি সারানোর জন্য দপ্তরগুলিকে চিঠি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র থেকে বিদ্যালয় ও গ্রামে পানীয় জলের সমস্যা দূর করতে সোলার সাবমার্সিবলের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তর, জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির অর্থে সোলার সাবমার্সিবলগুলির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। যার ফলে এলাকায় পানীয় জলের সমস্যা দূর হয়েছিল। কিন্তু কোথাও ছ’মাস, কোথাও আবার এক বছর যেতে না যেতেই পাম্পগুলি খারাপ হয়ে যায়। ফলে পরবর্তী সময়ে সেইগুলি আর সারানোর কোনও ব্যবস্থা করা হয়নি। সেই থেকে পাম্পগুলি অকেজো হয়ে পড়েছে।
এলাকার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, বর্তমানে তিয়াশি, ঢেঁকশিলা, কালিপাহাড়ী মুচিপাড়া, জুলাই, ভগনকুলি, কেন্দবেড়িয়ার, বেনাগড়িয়ার মতো গ্রাম থেকে শুরু করে বড়শাল উচ্চ বিদ্যালয়, গড়শিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়, গড়শিকা হেল্থ সেন্টার, আটুমাঝুরডি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের সোলার সাবমার্সিবল পাম্পগুলি দীর্ঘদিন ধরে খারাপ হয়ে পড়ে রয়েছে। যে টাকা খরচ করে একটি সোলার সাবমার্সিবল করা হয়েছে, সেই টাকায় একটি গ্রামে চার থেকে পাঁচটি ডিপ টিউবওয়েল কাজ করা যেত।
বড়শাল উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামাপদ হাজরা বলেন, বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ জানানোর পর জেলা পরিষদের তরফ থেকে পানীয় জলের সমস্যার জন্য বিদ্যালয়ে সোলার সাবমার্সিবল করা হয়েছিল। এক বছর যেতে না যেতেই সেটি খারাপ হয়ে পড়ে। বিভিন্ন জায়গায় চিঠি করেও আর ঠিক করা যায়নি।
সাঁতুড়ি ব্লকের বিজেপির সাধারণ সম্পাদক অনিরুদ্ধ গোস্বামী বলেন, তৃণমূল নেতাদের কাটমানির জন্য কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি নষ্ট হচ্ছে। সোলার সাবমার্সিবল থেকে নেতারা মোটা অঙ্কের কাটমানি পাচ্ছে। কিন্তু সেগুলি খারাপ হয়ে পড়লে আর সারানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে না।
 সাঁতুড়ি ব্লক তৃণমূল সভাপতি তথা সাঁতুড়ি পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি রামপ্রসাদ চক্রবর্তী বলেন, যে সমস্ত সোলার সাবমার্সিবল খারাপ হয়ে রয়েছে সেগুলি সারানোর জন্য পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বাৎসরিক একটি টাকায় সোলার পাম্পগুলি যাতে সারানোর ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়, তার জন্য ভাবনা করা হচ্ছে।  ফাইল চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ