Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সিনেমার গল্প শোনাবে সমাজসেবা সমিতি, নাকতলা উদয়নে ‘অর্পণ’, কোথাও হাজার কোশাকুশি, কোথাও চলচ্চিত্রের খুঁটিনাটি

উত্তম কুমারের ‘অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি’ হোক কিংবা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘অপুর সংসার’ বা রবি ঘোষের ‘গল্প হলেও সত্যি’। এই ছায়াছবিগুলি বাঙালির কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থেকে গিয়েছে।

সিনেমার গল্প শোনাবে সমাজসেবা সমিতি, নাকতলা উদয়নে ‘অর্পণ’, কোথাও হাজার কোশাকুশি, কোথাও চলচ্চিত্রের খুঁটিনাটি
  • ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা:  উত্তম কুমারের ‘অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি’ হোক কিংবা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘অপুর সংসার’ বা রবি ঘোষের ‘গল্প হলেও সত্যি’। এই ছায়াছবিগুলি বাঙালির কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থেকে গিয়েছে। আবার গৌতম ঘোষ পরিচালিত ‘মনের মানুষ’ ছবিতে বাউল ফকির প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের অভিনয়ও কোনওদিন ভোলার নয়। পুজোর সময় এইসব স্মৃতির আরও একবার রোমন্থন ঘটাতে চলেছে নিউ আলিপুরের সমাজসেবা সমিতি। যেখানে গিয়ে আমজনতা জানতে পারবে সত্যজিৎ রায় নিজের ছবিতে কি ধরনের ক্যামেরা ব্যবহার করতেন। আবার দেখা যাবে সিনেমায় ব্যবহৃত অভিনেতাদের পোশাক, আলো। শোনা যাবে সাউন্ড। ৪৩ বছরে পা রাখা এই পুজোর এবারের নিবেদন, ‘অবাক সবাক ছবির দল।’ প্রথম নির্বাক ছবি থেকে আজকের সবাক চলচ্চিত্রের এক অপরূপ মেলবন্ধন পুজোর পরিবেশে ঘটিয়েছেন উদ্যোক্তারা। তাঁরা দেখিয়েছেন, প্রথম সিনেমা কবে, কিভাবে তৈরি হয়েছিল। আর ২০২৫ সালের সিনেমায় কি ক্যামেরায় শুটিং হচ্ছে। যাবতীয় বিষয় পুরোটাই বাংলা সিনেমাকেন্দ্রিক। যেখানে হাজারের উপর বাংলা ছবির পোস্টার দেখতে পাওয়া যাবে পুজোর চৌহদ্দিতে। তার সঙ্গে পরিচালক, অভিনেতা কলাকুশলীদের সম্পর্কে তথ্য, স্টুডিও, মেকআপ সহ ক্যামেরার খুঁটিনাটি বিবরণ। শিল্পী শিবশঙ্কর দাসের কথায়, ‘একটি ছায়াছবি সমাজকে বার্তা দেয়, দিকনির্দেশ করে। সেই প্রেক্ষাপটেই পুজোর আঙ্গিকে ছবির প্রদর্শন। আমাদের এটি তথ্যভিত্তিক কাজ। যেখানে সাধারণ মানুষ সিনেমা সম্পর্কে এ টু জেড জানতে পারবে। যেহেতু সিনেমার বিষয়ই পুজোর থিম, তাই উদ্বোধন করবেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। থিম সং তৈরি করেছেন গায়ক নচিকেতা চক্রবর্তী।’ পুজো কমিটির অন্যতম কর্মকর্তা অনিকেত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমাদের এবারের কাজ এককথায় একটি মিউজিয়াম। বাংলা সিনেমার গৌরবগাথা নিয়ে আমাদের এবারের পথ চলা।’

Advertisement

অন্যদিকে নাকতলা উদয়ন সংঘে দর্শনার্থীর নতুন ধরনের কাজ উপভোগ করতে পারবেন। পুজো সামগ্রীর প্রধান উপকরণ কোশাকুশির চলমান এবং ঘূর্ণায়মাণ পথ। মহালয়ার দিন পিতৃপক্ষের অবসান ঘটে এবং দেবীপক্ষের সূচনা হয়। ওই দিন গঙ্গার ঘাটে গিয়ে পিতৃপুরুষদের উদ্দেশে জল দান করেন বহু মানুষ। তাঁদের হাতে থাকে কোশাকুশি। সেখান থেকে তিল সহ শুদ্ধ জল পিতৃপুরুষদের কাছে অর্পিত হয়। তর্পনের ওই পরিবেশই এবার ৩৯তম বর্ষে তুলে ধরছে নাকতলা উদয়ন। তাদের থিমের নাম ‘অর্পণ’। শিল্পী রিন্টু দাস পুজো প্রাঙ্গণে হাজির করেছেন কয়েক হাজার বিভিন্ন মাপের কোশাকুশি। সেগুলি ঘূর্ণায়মাণ। তা থেকে জল পড়বে। সঙ্গে আলো এবং শব্দের কারুকাজ। মহালয়ার ভোরের পরিবেশ উঠে আসবে পুজো প্রাঙ্গণে। শিল্পী রিন্টু দাসের কথায়, ‘রামায়ণ ও মহাভারতে তর্পনের পৃথক দু’টি কাহিনি আমরা শুনতে পেয়েছি। তা সামনে রেখে ৯০০ কোশাকুশি এবং দেড় হাজার জলবিন্দুর সঙ্গে সুরের মূর্ছনার এক অনাবিল অভিজ্ঞতা পুজো প্রাঙ্গণ থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন দর্শনার্থীরা। কমিটির সভাপতি প্রসেনজিৎ দাস জানিয়েছেন, জল শঙ্খের মধ্যে দেবী দুর্গার অধিষ্ঠান এবারের পুজোয় প্রতিমার আঙ্গিকে অন্যতম সেরা আকর্ষণ হতে চলেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ