Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

সামাজিক সুরক্ষা ধুঁকছে মোদির ভারতে, পেনশন তলানিতে, বিমা পরিষেবাও উদ্বেগজনক, রিপোর্ট স্টেট ব্যাংকের

মোদির ভারতে কি সামাজিক সুরক্ষা শুধু ঢাকা পেটানোতেই সীমাবদ্ধ? এই প্রশ্ন উঠছে। আর তা তুলছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকেরই দেওয়া তথ্য

সামাজিক সুরক্ষা ধুঁকছে মোদির ভারতে, পেনশন তলানিতে, বিমা পরিষেবাও উদ্বেগজনক, রিপোর্ট স্টেট ব্যাংকের
  • ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: মোদির ভারতে কি সামাজিক সুরক্ষা শুধু ঢাক পেটানোতেই সীমাবদ্ধ? এই প্রশ্ন উঠছে। আর তা তুলছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকেরই দেওয়া তথ্য। সামাজিক সুরক্ষার অন্যতম দু’টি স্তম্ভ পেনশন ও বিমায় হাড়ির হালের বাস্তব ছবি বেআব্রু হয়ে গিয়েছে স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার রিপোর্টে। তারা জানিয়েছে, কেন্দ্র যেখানে ২০৪৭ সালের মধ্যে সবাইকে বিমার আওতায় আনার গালভরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, সেখানে ক্রমশ পিছিয়ে যাচ্ছে বিমা পরিষেবায় সাধারণ মানুষের অন্তর্ভুক্তির হার। আর পেনশনের অবস্থা আরও খারাপ। বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির জ্বালায় ধুঁকছে বললেও কম বলা হয়।
ইনস্যুরেন্স রেগুলেটরি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়ার তথ্য উল্লেখ করে স্টেট ব্যাংক জানিয়েছে, দেশে বিমা ক্রয়ের হার ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ছিল ৩.৭ শতাংশ। এর অর্থ, দেশের জিডিপি ১০০ টাকা হলে, বিমা বাবদ প্রিমিয়াম মেটানো হয়েছে ৩ টাকা ৭০ পয়সা। এবং এই প্রবণতা লাগাতার কমেছে। আর স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বিমা পরিষেবায় ধস নামাটাও। স্টেট ব্যাংক বুঝিয়ে দিয়েছে, প্রত্যেক দেশবাসীকে বিমার আওতায় আনার দাবি এখনও আকাশকুসুম। সবচেয়ে বড় কথা, দেশে বিমা সংক্রান্ত অভিযোগের ৬৯ শতাংশই ক্লেইম নিয়ে। গ্রাহকের থেকে বছরের পর বছর প্রিমিয়ামের টাকা আদায় করেও, ক্লেইমের টাকা দিতে অস্বীকার করছে বিমা সংস্থা। বিরক্ত হয়ে অনেক গ্রাহকই পুনর্নবীকরণ করাতে চাইছেন না। পাশাপাশি বিপর্যয় সংক্রান্ত বিমা নিয়ে অনীহা তো রয়েইছে। গত এক দশকে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং তার জেরে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ। তা সত্ত্বেও এই ধরনের বিমা করতে চাইছে না মানুষ। কারণ, ‘রিটার্ন’ অনিশ্চিত। তাই দেখা যাচ্ছে, এই ধরনের ক্ষতির নিরিখে ৯৩ শতাংশেরই বিমা করা নেই।

Advertisement


আর কী পরিস্থিতি পেনশনে? ২৪ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীকে পেনশন দেওয়ার লক্ষ্যে গত বছর ইউনিফায়েড পেনশন স্কিম চালু করেছে কেন্দ্র। সেখানে এ পর্যন্ত নাম লিখিয়েছেন ১ লক্ষ ২০ হাজার কর্মী। অর্থাৎ, সাফল্যের হার মাত্র পাঁচ শতাংশ। সাধারণ মানুষকে কম বয়সে পেনশন প্রকল্পে আগ্রহী করতে চালু হয়েছিল ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম বা এনপিএস বাৎসল্য। এক বছরে তাতে নাম লিখিয়েছেন ১ লক্ষ ৩ হাজার। অর্থাৎ পরিস্থিতি হতাশাজনক। স্টেট ব্যাংকের এই রিপোর্টের সঙ্গে যথারীতি মিল এমপ্লয়িজ পেনশন স্কিমের দুরবস্থার। বেসরকারি সংস্থার কর্মীরা বিলক্ষণ জানেন, এর হাল কতটা করুণ। চাকরি জীবনে লক্ষ লক্ষ টাকা পিএফের মাধ্যমে পেনশন ফান্ডে জমা করেও কর্মজীবন শেষে পেনশন জোটে নামমাত্র। নিজের জমানো টাকার উপর অধিকারই নেই মানুষের। প্রায় ৭০ লক্ষ পেনশনভোগী। তার ৩০ লক্ষেরও বেশি গ্রাহক হাজার টাকাও পেনশন পান না। অথচ এই পেনশন প্রকল্পের বাইরে যাওয়ার সুযোগও নেই। এই প্রকল্প আরও স্বচ্ছ করার পরামর্শ দিয়েছে এসবিআই।


কেন্দ্রকে স্টেট ব্যাংকের পরামর্শ, এনপিএস গ্রাহকরা আলাদাভাবে যেমন আয়করে ছাড় পান, বিমার ক্ষেত্রেও তেমন আলাদা করছাড়ের ব্যবস্থা করা দরকার। অন্যদিকে, দেশে মজবুত পেনশন কাঠামোরও প্রয়োজন। অসংগঠিত ক্ষেত্রের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষ ন্যূনতম পেনশনের গ্যারান্টি পেলে, তা আর্থিক সুরক্ষা সুনিশ্চিত করবে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ও রাজ্য সরকারি কর্মচারীদেরও ইউনিফায়েড পেনশন স্কিমের আওতায় আনার পরামর্শ দিয়েছে এসবিআই। তাদের প্রস্তাব, পিএফের আওতায় থাকা এমপ্লয়িজ পেনশন ফান্ডের সঙ্গে এনপিএসের পারস্পরিক যোগসূত্র বা ইন্টার-অপারেবিলিটি ব্যবস্থা রাখতে হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ