বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: মোদির ভারতে কি সামাজিক সুরক্ষা শুধু ঢাক পেটানোতেই সীমাবদ্ধ? এই প্রশ্ন উঠছে। আর তা তুলছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকেরই দেওয়া তথ্য। সামাজিক সুরক্ষার অন্যতম দু’টি স্তম্ভ পেনশন ও বিমায় হাড়ির হালের বাস্তব ছবি বেআব্রু হয়ে গিয়েছে স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার রিপোর্টে। তারা জানিয়েছে, কেন্দ্র যেখানে ২০৪৭ সালের মধ্যে সবাইকে বিমার আওতায় আনার গালভরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, সেখানে ক্রমশ পিছিয়ে যাচ্ছে বিমা পরিষেবায় সাধারণ মানুষের অন্তর্ভুক্তির হার। আর পেনশনের অবস্থা আরও খারাপ। বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির জ্বালায় ধুঁকছে বললেও কম বলা হয়।
ইনস্যুরেন্স রেগুলেটরি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়ার তথ্য উল্লেখ করে স্টেট ব্যাংক জানিয়েছে, দেশে বিমা ক্রয়ের হার ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ছিল ৩.৭ শতাংশ। এর অর্থ, দেশের জিডিপি ১০০ টাকা হলে, বিমা বাবদ প্রিমিয়াম মেটানো হয়েছে ৩ টাকা ৭০ পয়সা। এবং এই প্রবণতা লাগাতার কমেছে। আর স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বিমা পরিষেবায় ধস নামাটাও। স্টেট ব্যাংক বুঝিয়ে দিয়েছে, প্রত্যেক দেশবাসীকে বিমার আওতায় আনার দাবি এখনও আকাশকুসুম। সবচেয়ে বড় কথা, দেশে বিমা সংক্রান্ত অভিযোগের ৬৯ শতাংশই ক্লেইম নিয়ে। গ্রাহকের থেকে বছরের পর বছর প্রিমিয়ামের টাকা আদায় করেও, ক্লেইমের টাকা দিতে অস্বীকার করছে বিমা সংস্থা। বিরক্ত হয়ে অনেক গ্রাহকই পুনর্নবীকরণ করাতে চাইছেন না। পাশাপাশি বিপর্যয় সংক্রান্ত বিমা নিয়ে অনীহা তো রয়েইছে। গত এক দশকে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং তার জেরে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ। তা সত্ত্বেও এই ধরনের বিমা করতে চাইছে না মানুষ। কারণ, ‘রিটার্ন’ অনিশ্চিত। তাই দেখা যাচ্ছে, এই ধরনের ক্ষতির নিরিখে ৯৩ শতাংশেরই বিমা করা নেই।



