সংবাদদাতা, রামপুরহাট : এলাকার বহু স্কুলের পড়ুয়ারা এখনও সবুজ সাথীর সরকারি সাইকেল পায়নি। অথচ খোলা আকাশের নীচে হেলায় পড়ে নষ্ট হচ্ছে শয়ে শয়ে সাইকেল। অবহেলার এই ছবি নলহাটির। যা নিয়ে ব্লক প্রশাসন ও পুরসভার মধ্যে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
সংবাদদাতা, রামপুরহাট : এলাকার বহু স্কুলের পড়ুয়ারা এখনও সবুজ সাথীর সরকারি সাইকেল পায়নি। অথচ খোলা আকাশের নীচে হেলায় পড়ে নষ্ট হচ্ছে শয়ে শয়ে সাইকেল। অবহেলার এই ছবি নলহাটির। যা নিয়ে ব্লক প্রশাসন ও পুরসভার মধ্যে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
রাজ্য সরকার সবুজ সাথী প্রকল্পের মাধ্যমে পড়ুয়াদের সাইকেল প্রদান চালু করেছে। যাতায়াতের সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীরা যাতে স্কুলছুট না হয়, সেটাই এই প্রকল্পের লক্ষ্য। কিন্তু নলহাটি ১ ব্লকের কিষাণ মাণ্ডিতে খোলা আকাশের নীচে অযত্নে পড়ে রয়েছে শতাধিক সাইকেল। সেগুলির চাকা ঢাকা পড়েছে আগাছায়। মরচে ধরে গিয়েছে সাইকেলের যন্ত্রাংশে। ক্ষুব্ধ অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে এভাবে সরকারি টাকার অপচয় হচ্ছে। বর্তমানে এই সাইকেলগুলির যা অবস্থা তাতে সারাই করতে মোটা টাকা খরচ হবে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
নলহাটির উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের এখনও দু’শোর বেশি ছাত্রী সাইকেল পায়নি বলে অভিযোগ। প্রধান শিক্ষিকা বিদিশা সিন্হা বলেন, স্কুলে ৩৩৪ জন ছাত্রীর সবুজসাথীর সাইকেল পাওয়ার কথা। সেখানে মাস দুয়েক আগে মাত্র ১৩০ জন সাইকেল পেয়েছে। কিষাণ মান্ডিতে বহু সাইকেল পড়ে রয়েছে জানি। কিন্তু সেগুলি নেওয়ার মতো অবস্থায় নেই। সাইকেল এসেছে কি আসেনি সেটাও জানানো হয় না।
এই ব্যাপারে নলহাটি পুরসভার প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যান রাজেন্দ্রপ্রসাদ সিং বলেন, কিষাণ মান্ডিতে সাইকেল পড়ে নষ্ট হচ্ছে জানি। কিন্তু ওই সাইকেলগুলি তো পুরসভার নয়। বিডিও স্কুলে-স্কুলে সাইকেল পৌঁছে দেন।
অন্যদিকে, বিডিও সৌরভ মেহেতা বলেন, কিষাণ মান্ডিতে সবুজসাথীর যে সাইকেল পড়ে রয়েছে সেটা পুরসভার। ব্লক এলাকার সব স্কুলেরই সাইকেল বিলি শেষ হয়ে গিয়েছে। পুর এলাকার স্কুলগুলিতে আমরা সাইকেল বিলি করি না। তবে বিষয়টি দেখছি।
এনিয়ে নলহাটিতে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতা শান্তনু মণ্ডল বলেন, প্রশাসনের নজরদারির অভাবেই জনগণের করের টাকায় কেনা সাইকেল পড়ে নষ্ট হচ্ছে। এরপর দেখবেন ওই সাইকেলগুলি ওখানে নেই।
যদিও নলহাটির তৃণমূল নেতা তথা পুরসভার প্রশাসক বোর্ডের সদস্য তহিদ শেখ বলেন, প্রতি বছরই কিছু ছেলে-মেয়ে মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দেয় বা বাইরে কাজে চলে যায়। ওদের সই ছাড়া তো সাইকেল দেওয়া যাচ্ছে না। দিন কয়েক আগে মিটিং করে বলা হয়েছে, কিষাণ মান্ডিতে পড়ে থাকা সাইকেলগুলি গোডাউনে পাঠিয়ে দিতে। ওই পড়ুয়ারা যখন স্কুলে আসবে, তখন ব্যবস্থা হবে। তবে শহরের কোন স্কুলে এখনও পড়ুয়ারা সাইকেল পায়নি তার রিপোর্ট আমার কাছে নেই। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। -নিজস্ব চিত্র