শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: পঞ্চায়েত প্রধান ভাইয়ের স্ত্রীর হয়ে প্রক্সি দিচ্ছেন তৃণমূল নেতা। তিনিই বকলমে প্রধান হিসেবে কাজকর্ম করছেন। এলাকার লোকজন তাঁকে ‘ডামি প্রধান’ বলেন। চণ্ডীপুর ব্লকের নন্দপুর-বরাঘুনি পঞ্চায়েতের প্রধান সুস্মিতা দাস। কিন্তু, সুস্মিতা প্রায়ই পঞ্চায়েত অফিসে অনুপস্থিত থাকেন বলে অভিযোগ। পরিবর্তে তাঁর হয়ে কাজ করেন তাঁর ভাশুর অসিত দাস। ওই তৃণমূল নেতা চণ্ডীপুর ব্লক কিষান সেলের সভাপতি। একসময় সিপিএমের দাপুটে নেতা অসিত ২০১৫সালে দল বদল করে তৃণমূলে আসেন।
ব্লক তৃণমূল নেতা অসিতবাবু বলেন, ওই পঞ্চায়েতে প্রধান পদ নিয়ে আমাদের দলের দু’জন মহিলা ওবিসি প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল। শেষপর্যন্ত আমার ভাইয়ের স্ত্রী সুস্মিতা প্রধান হন। এজন্য দলেরই একটা শিবির আমাদের বিরুদ্ধে লেগে রয়েছে। তাই পঞ্চায়েত প্রধানের প্রতিনিধি হিসেবে সবসময় তাঁর পাশে থাকার চেষ্টা করি। তাছাড়া ভাইয়ের স্ত্রী উচ্চ মাধ্যমিক পাশ। তাঁকে ভুল বুঝিয়ে পঞ্চায়েত কর্মীর সই করে নেওয়ার ঘটনা অতীতে ঘটেছে। সেজন্য একটা স্পেশাল অডিট করানো হচ্ছে। এধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে যাতে না ঘটে সেজন্য আমি গাইড করি।
পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা খরচের নিরিখে জেলায় ২২৩টি পঞ্চায়েতের মধ্যে নন্দপুর-বরাঘুনি পঞ্চায়েতের স্থান ২২১নম্বরে। অত্যন্ত খারাপ পারফরমেন্স। ২০২৪-’২৫আর্থিক বছরে ওই পঞ্চায়েত ৪৭লক্ষ ৭৬হাজার ৪১৫টাকা পেয়েছিল। খরচ হয়েছে মাত্র ২০লক্ষ ৮৫হাজার ৭৭৮টাকা। এখনও পড়ে রয়েছে ২৬লক্ষ ৯০হাজার ৬৩৭টাকা। মাত্র ৪৩.৬৭শতাংশ অর্থ খরচ হয়েছে। চণ্ডীপুরে ব্লকে মোট ১০টি পঞ্চায়েতের মধ্যে সবার নীচে রয়েছে নন্দপুর-বরাঘুনি।
পঞ্চায়েত প্রধান বলেন, আমাদের দলীয় কিছু সমস্যার জন্য মাঝে উন্নয়নের কাজ ব্যাহত হয়েছে। পঞ্চায়েত কর্মীর কাছ থেকে ঠিকমতো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। পঞ্চায়েত কর্মীর বদলির পর এখন পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। তাছাড়া দলীয়স্তরে যে সমস্যা ছিল তাও অনেকটা সমাধান হয়েছে। আগামী ১০-১৫দিনের মধ্যে বাকি টাকার অনেকটাই খরচ সম্ভব হবে। শরীর খারাপ থাকায় মাঝে নিয়মিত অফিসে যেতে পারিনি। এখন নিয়মিত অফিসে যাই। আমার ভাশুর প্রধানের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন।
পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেতা অনুপম বেরা বলেন, প্রধানের ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নিয়ে ন্যূনতম ধারণা নেই। তাঁকে গাইড করার নামে চেয়ারের পাশে আরও একটি চেয়ার রাখা হয়েছে। প্রধান প্রায়ই গরহাজির থাকেন। পরিবর্তে তাঁর ভাশুর পঞ্চায়েতে এসে বসেন। পাশাপাশি পঞ্চায়েত কর্মী থেকে ঠিকাদারদের সামলান। একনজরে মনে হবে, তিনিই প্রধান।
বিডিও শাশ্বতপ্রকাশ লাহিড়ি বলেন, নন্দপুর-বরাঘুনি পঞ্চায়েতে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের পারফরমেন্স বেশ খারাপ। স্কিম বাছাই এবং নির্দিষ্ট পরিকল্পনার অভাবে এমনটা হয়েছে। পঞ্চায়েতে নিজেদের মধ্যেও কিছু সমস্যা রয়েছে। যাবতীয় সমস্যা কাটিয়ে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের অর্থ দ্রুত খরচের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে অনেকটাই অর্থ খরচ হয়ে যাবে।