Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সচেতনতা বাড়ায় করিমপুর ও সংলগ্ন এলাকায় সাপের কামড়ে মৃত্যু কমেছে

সচেতনতা বাড়ায় সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে সাপে কাটা রোগীর মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে। এখন কাউকে সাপে কাটলে ওঝা বা গুনিনের কাছে নয়, পরিবারের লোকজন ছুটছেন হাসপাতালে।

সচেতনতা বাড়ায় করিমপুর ও সংলগ্ন এলাকায় সাপের কামড়ে মৃত্যু কমেছে
  • ৩০ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, করিমপুর: সচেতনতা বাড়ায় সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে সাপে কাটা রোগীর মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে। এখন কাউকে সাপে কাটলে ওঝা বা গুনিনের কাছে নয়, পরিবারের লোকজন ছুটছেন হাসপাতালে। গত দু’ মাসে করিমপুর লাগোয়া এলাকার মাঠেঘাটে সাপের উপদ্রবের পাশাপাশি সাপে কাটার ঘটনাও বেড়েছে। কিন্তু মৃত্যু হয়নি। তার মূল কারণ, করিমপুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের সচেতনতা। গত প্রায় পনেরো বছর ধরে করিমপুরের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যরা গ্রামে গ্রামে গিয়ে সাপ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করেছেন। তাই সাপে কাটা রোগীরা এখন হাসপাতালমুখী হচ্ছেন। হাসপাতাল সুত্রে জানা গিয়েছে, গত মে ও জুন মাসে শুধুমাত্র করিমপুর গ্রামীণ হাসপাতালেই প্রায় একশো কুড়ি জন সাপে কাটা রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং সকলেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। করিমপুরের এক শিক্ষক সুপ্রকাশ প্রামানিক বলেন, আগে কাউকে সাপে কাটলে তাকে ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়া হতো। কিন্তু সাপে কাটা রোগীকে সঠিক সময়ে অ্যান্টি ভেনাম দিতে পারলেই তাকে বাঁচানো সম্ভব। তাই এমন রোগীকে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। গত প্রায় পনেরো বছর ধরে এলাকার বিভিন্ন গ্রামে এবং স্কুলে শিবির করে এই কথাই সবাইকে বোঝানো হয়েছে। ফলে মানুষ এখন হাসপাতালমুখী হয়েছে এবং সাপে কাটা রোগীর মৃত্যু কমেছে। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার এক সদস্য গোলক বিশ্বাস বলেন, এখন বর্ষায় খালবিল, গর্তে জল জমতেই  লোকালয়ে সাপের উপদ্রব বাড়বে। সাপে কাটা রোগীর সংখ্যাও বাড়বে। 

Advertisement

এই সময় সাপের প্রজনন সময় এবং এখন সাপের ডিম ফুটে বাচ্চা হবে। তারা খাবারের সন্ধানে বা শুকনো জায়গার খোঁজে লোকালয়ে ঢুকবে। সাপ নিরিবিলি জায়গায় থাকতে পছন্দ করে। যে কারণে করিমপুরের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নো ম্যানস ল্যান্ডের আশেপাশের গ্রামগুলোতে সাপের উপদ্রব বেশি। গত কয়েক মাসে ঘরের মেঝে, শৌচালয় এমনকী শোয়ার ঘর থেকেও সাপ উদ্ধার হয়েছে। সীমান্তবর্তী এই এলাকায় বিভিন্ন সাপ দেখা গেলেও কালাচ ও খরিশ সাপের উপস্থিতি বেশি। কালাচ এশিয়ার সর্বাধিক ও খরিশ সাপের থেকে ষোলোগুণ বেশি বিষধর। বর্ষার বৃষ্টি হলেই কালাচ ঘরে ঢুকে বিছানা বা বালিশ, তোষকের নীচে আশ্রয় নেয়। দিনে চলাচল না করলেও রাতে এরা ভীষণ ভাবে সক্রিয়। বেশিরভাগ সময়ে কালাচের কামড়ের কোনও চিহ্ন  পাওয়া যায় না এবং জ্বালা যন্ত্রণা না থাকায় মানুষ বুঝতেই পারে না। করিমপুর গ্রামীণ হাসপাতালের সুপার মনীষা মণ্ডল জানান, সাপ নিয়ে মানুষের অনেক বেশি সতর্ক থাকা উচিত এবং কাউকে সাপে কাটলে ওঝার উপর নির্ভর না করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসা দরকার। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩-৪ জন সাপে কাটা রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। সকলেই স্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। প্রতিটি হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টি ভেনাম রয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ