Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বেড়ে চলেছে সাপের উপদ্রব, নিতাইনগরের ফাঁকা জমি নিয়ে কড়া অবস্থান পঞ্চায়েতের

ফাঁকা জমি ঝোপ-জঙ্গলে ঢেকে গিয়েছে। ফলে বিষধর সাপের উপদ্রব বাড়ছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়ার মশার সংখ্যাও।

বেড়ে চলেছে সাপের উপদ্রব, নিতাইনগরের ফাঁকা জমি নিয়ে কড়া অবস্থান পঞ্চায়েতের
  • ২৯ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: ফাঁকা জমি ঝোপ-জঙ্গলে ঢেকে গিয়েছে। ফলে বিষধর সাপের উপদ্রব বাড়ছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়ার মশার সংখ্যাও। এহেন অবস্থায় নবদ্বীপ ব্লকের বাবলারি পঞ্চায়েতের নিতাইনগর নিয়ে এবার কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ। জমির মালিকদের এবিষয়ে মৌখিকভাবে বহুবার বলেও কোনও কাজ হয়নি। এবার তাঁদের হাতে নোটিস ধরানো হবে। তাতেও কাজ না হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement

দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় একশ্রেণির মানুষ জমি কিনে ফেলে রেখেছে। সেগুলি দেখভাল করা হয় না। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর মশার উপদ্রবে বাড়ির দরজা-জানলা খুলে রাখা যাচ্ছে না। মাঝেমধ্যেই জঙ্গল থেকে সাপ ও বিষাক্ত পোকামাকড় বের হচ্ছে। বিষয়টি স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যকে জানিয়েও কোনও কাজ হচ্ছে না বলে অভিযোগ। বাসিন্দাদের দাবি, অবিলম্বে ওইসব জমির মালিককে পঞ্চায়েত অফিসে ডেকে সতর্ক করা হোক। কেউ পঞ্চায়েতের নির্দেশ অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
বাবলারি পঞ্চায়েতের প্রধান নারায়ণ কর্মকার বলেন, ওইসব জমির মালিকদের এখনও নোটিস করা হয়নি। তবে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য একাধিকবার জমির মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জঙ্গল পরিষ্কার করতে বলেছিলেন। কিন্তু তাঁরা জমি পরিষ্কারের আশ্বাস দিলেও শেষমেষ কথা রাখেননি। এবার পঞ্চায়েতের তরফে ওইসব জমির মালিককে দ্রুত জঙ্গল পরিষ্কার করে দেওয়ার নোটিস করা হবে। এখন বর্ষার মরশুমে চারিদিকে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব হচ্ছে। সাপের উপদ্রবও বাড়ছে। এরপরও যদি ওই জমির মালিকরা পঞ্চায়েতের নির্দেশ না মানেন, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নবদ্বীপ ব্লকের বাবলারি পঞ্চায়েতের নিতাইনগরে বহু মানুষ বসবাস করে। এই পঞ্চায়েতের প্রাণগোপাল নগরের শেষপ্রান্ত থেকে শুরু হয়ে নিতাইনগরের রাস্তাটি বাবলারি বাসস্ট্যান্ডের কাছে মূল সড়কে মিশেছে। এই রাস্তার দু’ধারে প্রায় দেড়শো পরিবারের বসবাস। এই অঞ্চলে বেশকিছু ব্যক্তি জমি কিনে ঘিরে রেখে দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রেখেছেন। সেইসব জমি নিয়ে বেজায় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা।
নিতাইনগরের বধূ মল্লিকা পাল ও সরস্বতী ভৌমিকরা বলেন, জমির মালিকরা জায়গা কিনে দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রেখেছেন। তাঁদের আর দেখতে পাওয়া যায় না। জমিগুলি জঙ্গলে ভরে গিয়েছে। নিতাইনগরের বাসিন্দা সোমনাথ দাস বলেন, এই বন-জঙ্গলের ফলে মশা ও পোকামাকড়ের উপদ্রব বাড়ছে। এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতেও ভয় লাগে। যাঁরা জায়গা কিনে রেখেছেন, তাঁদের সেগুলি পরিষ্কার করা উচিত। তিন-চার বছর ধরে একই অবস্থায় পড়ে আছে। নিতাইনগরের প্রবীণ বাসিন্দা জগন্নাথ সরকার বলেন, জমির মালিকদের উচিত ঝোপ-জঙ্গলে অন্তত একটু তেল স্প্রে করা। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য কৃষ্ণরঞ্জন শর্মা বলেন, নিতাইনগরের রাস্তার ধরে ওইসব জমির কয়েকজন মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে জঙ্গল পরিষ্কার করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা কথা রাখেননি। তবে এবার পঞ্চায়েত থেকে ওইসব জমির মালিককে নোটিস পাঠিয়ে আবারও সতর্ক করা হবে।  ফাঁকা জমির জঙ্গল দেখাচ্ছেন গ্রামবাসীরা। নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ