সংবাদদাতা, রামপুরহাট: প্রশাসনের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রামপুরহাটের ব্রাহ্মণী নদী থেকে বালি তোলা চলছেই। সোমবার ভোররাতে রামপুরহাট থানার পাঁচটি পুলিস দল অভিযানে নেমে ২০টি অবৈধ বালি বোঝাই নম্বর বিহীন ট্রাক্টর আটক করল। যদিও কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। পুলিসের দাবি, তাদের দেখে ট্রাক্টর ফেলে চম্পট দেয় চালকরা। আটক ট্রাক্টরগুলির মালিকের খোঁজ চলছে।
বর্ষায় নদী থেকে বালি তোলা বন্ধ থাকে। এ বছরও সেই নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। কিন্তু তার পরেও যথেচ্ছ বালি তোলার অভিযোগ উঠেছে রামপুরহাটের ব্রাহ্মণী নদীর পাড়ের নারায়ণপুর, খড়িডাঙা, শালবুনি, লালডাঙা সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে। সারা রাত ধরে গ্রামের রাস্তা দিয়ে ট্রাক্টরে করে বালি পাচার হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মদতে এই অবৈধ কারবার চালাচ্ছে স্থানীয় কিছু লোক। এই নদীর বৈধরা ব্যারেজ থেকে কিছুটা দূরে বালি তোলা হচ্ছে অবাধে। তাতে যে কোনও সময়ে তিলপাড়া ব্যারেজের মতো এই ব্যারেজেরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভবনা প্রবল। অন্যদিকে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। নদী থেকে বালি তোলার ফলে পরিবেশের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। এতে নদীর বাস্তুতন্ত্র নষ্ট হয়ে গতিপথ পরিবর্তন হতে পারে এবং বর্ষাকালে বন্যা পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
পুলিসের দাবি, এদিন ভোররাত থেকে পাঁচটি দলে ভাগ হয়ে অভিযানে নামে রামপুরহাট থানা। ছিলেন মহকুমা পুলিস আধিকারিক গোবিন্দ শিকদারও। তাঁরা ওই সমস্ত অবৈধ নদী ঘাট থেকে বেরনোর রাস্তায় ওত পেতে বসে থাকে। কিন্তু পুলিসের গাড়ি দেখে রাস্তায় ট্রাক্টর দাঁড় করিয়ে চম্পট দেয় চালকরা। পুলিস ২০টি বালি বোঝাই ট্রাক্টর আটক করে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করেছে।
উল্লেখ্য, বীরভূমে বালি পাচার নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষোভ প্রকাশের পর গত ৯ জানুয়ারি নারায়ণপুরের লালডাঙা এলাকায় অভিযানে আসে পুলিস। অবৈধ বালি বোঝাই ট্রাক্টর আটকাতেই পুলিসকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি শুরু করে মাফিয়ারা। ভেঙে দেওয়া হয় পুলিসের গাড়ির কাচ। ইটের আঘাতে দুজন সিভিক ভলান্টিয়ার জখম হন। কিন্তু তারপরও বালির বেআইনি কারবার যে চলছে, প্রশাসনের ধরপাকড় থেকেই তা স্পষ্ট।
জানা গিয়েছে, রামপুরহাট ১ ব্লকে কোনও বৈধ বালির ঘাট নেই। কিন্তু তারপরও নারায়ণপুর, খড়িডাঙা, শালবুনি, লালডাঙা সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে অবৈধ ভাবে বালি তোলা চলছে। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, নদী তীরবর্তী ওই গ্রামের বাসিন্দাদের অনেকেই ট্রাক্টর কিনেছেন। নদীতে শ্রমিকদের নামিয়ে সেই ট্রাক্টরে বালি বোঝাই করে পাচার করছেন। বর্তমানে পাথর শিল্পাঞ্চলগুলিতে যন্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে। কর্মহীন হয়ে পড়ছেন শ্রমিকরা। তাই পেট চালাতে তাঁরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভরা নদী থেকে বালি তোলার কাজ করছেন।
জেলাশাসক বিধান রায় বলেন, বর্ষাকালে নদনদী থেকে বালি তোলা নিষিদ্ধ। কিন্তু তারপরও জেলার কয়েকটি জায়গায় বালি উঠছে বলে খবর আছে। তাই নজরদারি জারি থাকবে এবং কঠোর পদক্ষেপ করা হচ্ছে ও হবে।