নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এজেন্সি নবীকরণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিমায় যেমন খুশি প্রিমিয়াম নেওয়ার বিরুদ্ধে সরব হলেন ডাকঘর এজেন্টরা। পাশাপাশি কমিশন বৃদ্ধি এবং সচিত্র পরিচয়পত্র দেওয়ার দাবিও জানালেন তাঁরা।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এজেন্সি নবীকরণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিমায় যেমন খুশি প্রিমিয়াম নেওয়ার বিরুদ্ধে সরব হলেন ডাকঘর এজেন্টরা। পাশাপাশি কমিশন বৃদ্ধি এবং সচিত্র পরিচয়পত্র দেওয়ার দাবিও জানালেন তাঁরা।
ডাকঘরের এজেন্ট হিসেবে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের তিনবছর অন্তর এজেন্সি নবীকরণ করতে হয়। এক্ষেত্রে প্রতিবারই একটি বিমা পলিসি কিনতে বা নবীকরণ করতে হয় এজেন্টদের। ফিডালিটি গ্যারান্টি ইনশিওরেন্স নামে ওই বিমার প্রিমিয়াম জমা করতে হয় একটি রাষ্ট্রায়ত্ত বিমা সংস্থায়। বিমার অঙ্ক কত হবে, তা আগে থেকেই স্থির করা থাকে। ডাকবিভাগের এজেন্টদের দু’রকমের এজেন্সি আছে। স্ট্যান্ডার্ডাইজড এজেন্সি সিস্টেমের জন্য প্রিমিয়াম জমা হওয়ার কথা ১০০ টাকা। মহিলা প্রধান ক্ষেত্রীয় বচত যোজনার জন্য প্রিমিয়াম জমা হওয়ার কথা ২৫০ টাকার। এর উপর জিএসটি প্রযোজ্য।
অভিযোগ, রাজ্যের নানা প্রান্তে এর জন্য ৩০০ থেকে শুরু করে ৮০০ টাকা পর্যন্ত প্রিমিয়াম নেওয়া হচ্ছে! কীসের ভিত্তিতে ওই প্রিমিয়াম চাওয়া হচ্ছে, তার কোনও নথি দেখানো হচ্ছে না। রবিবার ওয়েস্ট বেঙ্গল স্মল সেভিংস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের দ্বিবার্ষিক সার্কেল সম্মেলনে তা নিয়ে সরব হয়েছেন এজেন্টরা। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নির্মল দাস বলেন, প্রিমিয়ামের টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়ে স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন। আমাদের বক্তব্য, রাজ্য সরকার বিষয়টিতে নজর দিক। কারণ, এজেন্টকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং বিমার নবীকরণ করার দায়িত্ব রাজ্য স্বল্প সঞ্চয় দপ্তরের। বিমার প্রিমিয়াম নিয়ে যেখানে অনিয়ম হচ্ছে, সেখানে আমাদের দাবি করছি বিমা সংস্থা বদল করা হোক। এদিন সংগঠনের কর্তারা বিভিন্ন সঞ্চয় প্রকল্পে কমিশন ফেরানোর দাবি তোলেন। তাঁদের কথায়, পিপিএফ, সুকন্যা সমৃদ্ধি-সহ কয়েকটি প্রকল্পে কোনও কমিশনই নেই। যে প্রকল্পগুলিতে কমিশন চালু আছে, সেখানে আমরা ০.৫ শতাংশের বেশি কমিশন পাই না। অথচ তা আগে অনেক বেশি ছিল। সঙ্গে ছিল নগদ ‘রিওয়ার্ড’। সেই প্রথাও তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। সাধারণ মানুষকে সঞ্চয়মুখী করার স্বার্থেই ওই কমিশন বাড়ানোর দাবি করেন তাঁরা। বলেন, নতুন গ্রাহকের দেখানোর মতো আমাদের কোনও পরিচয়পত্র নেই। এতে গ্রাহকদের আর্থিক সুরক্ষার প্রশ্নও জড়িয়ে থাকে। কেন্দ্র বা রাজ্য, যেকোনও সরকার তা আমাদের দিতে পারে। কিন্তু কেউই উদ্যোগ নেয়নি। রাজ্য সরকার আমাদের পরিচয়পত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা কার্যকর হয়নি এখনও। সেই পরিচয়পত্রের পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা থেকেও যে তাঁরা বঞ্চিত, সেই বিষয়টি নিয়েও এদিন সরব হয়েছেন এজেন্টরা।