নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: ভাইয়ের সন্তান ছোট। সে কাঁদলে ঘুম নষ্ট হয়। সেই রাগে ভাইয়ের বউকে হাঁসুয়া দিয়ে কোপানোর অভিযোগ ভাশুরের বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে নদীয়ার শান্তিপুর থানার অন্তর্গত বাইগাছি বাগানে পাড়া ইটভাটা এলাকায়। মঙ্গলবার ভোররাতে ওই গৃহবধূর আর্তনাদ শুনে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য শান্তিপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার ভোররাতে কমলা বিশ্বাস নামে ওই গৃহবধূর ওপর ধারালো হাসুয়া নিয়ে হামলা চালান তাঁর ভাশুর সুব্রত বিশ্বাস। ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন ওই গৃহবধূ। প্রতিবেশীরা ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় ওই মহিলাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগে অভিযুক্ত সুব্রতকে ধরে গাছে বেঁধে রাখেন। পরে খবর পেয়ে শান্তিপুর থানার পুলিশ এসে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যায়।
এদিকে, আহত কমলা বিশ্বাসকে প্রথমে শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে কৃষ্ণনগরের শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। তাঁর মাথা ও ঘাড়ের পিছনের অংশে কোপানোর গভীর ক্ষতচিহ্ন রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। আঘাত গুরুতর হওয়ায় প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। তবে সময় মতো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কারণে মহিলার জীবনহানির আশঙ্কা আর নেই।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সময় কমলা বিশ্বাসের স্বামী সুশান্ত বিশ্বাস বাড়িতে ছিলেন না। তিনি কর্মসূত্রে ওই রাতে কলকাতায় ছিলেন। এছাড়া তাঁদের শাশুড়িও আগের রাত থেকে বাড়িতে ছিলেন না। প্রতিবেশীদের দাবি,ওই গৃহবধুর সন্তান অসুস্থ থাকায় কান্নাকাটি করছিল। এ কারণে নাকি ঘুমের অসুবিধা হচ্ছিল ভাসুর সুব্রতর। তা নিয়ে সে বারবার বিরক্তি প্রকাশ করেছিল বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু বাচ্চার কান্নাকাটি না থামায় শেষমেশ ধারালো অস্ত্র নিয়ে ভাইয়ের বউকেই কোপ মারে সুব্রত। তবে শুধুমাত্র এই কারণেই হামলা, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা তদন্ত করে দেখছেন শান্তিপুর থানার তদন্তকারী আধিকারিকরা। পুলিশ ঘটনার স্থান পরিদর্শন করেছে এবং প্রতিবেশীদের বয়ান সংগ্রহ শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে পারিবারিক বিবাদ থেকে উদ্ভুত বলে মনে করা হলেও সঠিক কারণ জানতে তদন্ত চলছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আহত কমলা বিশ্বাসের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
জখম গৃহবধূ।-নিজস্ব চিত্র