সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: বিষ্ণুপুর, সোনামুখী এবং বাঁকুড়া এই তিন শহরে মোট ৬টি সাব পোস্ট অফিস চিরতরে বন্ধ করে দিল ডাকবিভাগ। ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ওই সব পোস্ট অফিসগুলির ঝাঁপ চলতি সপ্তাহেই বন্ধ হয়ে গেল। এতে ভীষণ ক্ষুব্ধ হাজার হাজার গ্রাহক। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষ্ণুপুরের লালবাঁধ এবং স্টেশন রোডে থাকা দু’টি সাব পোস্ট অফিস সোমবার থেকে চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও সোনামুখী শহরের রথতলা এবং বাঁকুড়া শহরের নতুনচটি, পিলগ্রিম রোড এবং লোকপুর সাব পোস্ট অফিস বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকরা বেশ বিপাকে পড়েছেন। ডাক কর্মচারীদের একাংশও গ্রাহকদের অসুবিধার কথা স্বীকার করেছেন।
বিষ্ণুপুর মহকুমার পোস্টাল ইনস্পেক্টর বিল্লেশ্বর রানা বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বেশ কিছু টাউন সাব পোস্ট অফিস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ওই পোস্ট অফিসগুলিকে মুখ্য ডাকঘরের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে গ্রাহকদের কোনও সমস্যা হবে না। তাঁরা মুখ্য ডাকঘরে এসে আর্থিক লেনদেন করতে পারবেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সাব পোস্ট অফিসগুলিতে ভিড় কম থাকে। গ্রাহকরা নিশ্চিন্তে সেখানে আর্থিক লেনদেন করতে পারতেন। কিন্তু মুখ্য ডাকঘরে প্রতিদিন লম্বা লাইন পড়ে। তার উপর সাব পোস্ট অফিসগুলি মিশিয়ে দেওয়ায় সেখানে আরও ভিড় বাড়বে। সব মিলিয়ে গ্রাহকরাই বিপাকে পড়বেন।
বিষ্ণুপুর শহরের তিলবাড়ি এলাকার বাসিন্দা বিদ্যুৎকুমার দাস বলেন, আমি বহু বছর ধরে লালবাঁধ পোস্ট অফিসে আর্থিক লেনদেন করে আসছি। ওই পোস্ট অফিসে সেভিংস থেকে শুরু করে কেবিপি, এনএসসি, রেকারিং ডিপোজিট, স্পিড পোস্ট, মানি অর্ডার সমস্ত পরিষেবা পাওয়া যেত। ভিড়ও কম থাকত। বিশেষ করে প্রবীণ গ্রাহকদের ভীষণ সুবিধা হচ্ছিল। কিন্তু সোমবার পোস্ট অফিসে গিয়ে দেখলাম তালা বন্ধ। পরে জানতে পারলাম যে, মুখ্য ডাকঘরের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। ন্যাশনাল অ্যাসোশিয়েশন অফ পোস্টাল এমপ্লয়িজের (গ্রেড-সি) বাঁকুড়া জেলা সভাপতি আশিস বোস বলেন, এর আগেও ডাকবিভাগের পক্ষ থেকে টাউন সাব পোস্ট অফিসগুলিকে বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। গ্রাহকদের কথা ভেবে তখন আমরা তীব্র আপত্তি তুলেছিলাম। তার জেরে থমকে ছিল। কিন্তু এবারে পোস্ট মাস্টার জেনারেলের নির্দেশে আমাদের জেলার মোট ৬টি টাউন সাব পোস্ট অফিস বন্ধ করে দেওয়া হল। এতে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের অসুবিধার মুখে পড়তে হবে।
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা বুদ্ধদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, এতদিন বাড়ির কাছে হেঁটে পোস্ট অফিসে যাতায়াত করতাম। এবার টোটোয় করে মুখ্য ডাকঘরে যেতে হবে। সেখানে প্রতিদিন লম্বা লাইন পড়ে। আমরা কীভাবে সেখানে গিয়ে আর্থিক লেনদেন করব বুঝে উঠতে পারছি না। একই বক্তব্য বিষ্ণুপুর স্টেশন রোডের ভৈরবতলার বাসিন্দা সত্তোরোর্ধ সুরেশ মজুমদারের। একইভাবে বিপাকে পড়েছেন বাঁকুড়া শহরের নতুন চটি, পিলগ্রিম রোড এবং লোকপুর পোস্ট অফিস এলাকার বাসিন্দারা। -নিজস্ব চিত্র