নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: গোবরডাঙায় জঙ্গল থেকে বেরিয়ে একটি শিয়াল পরপর ছ’জনকে কামড়ে জখম করেছে। এই ঘটনায় ভয়ানক আতঙ্ক তৈরি হয় শনিবার।
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: গোবরডাঙায় জঙ্গল থেকে বেরিয়ে একটি শিয়াল পরপর ছ’জনকে কামড়ে জখম করেছে। এই ঘটনায় ভয়ানক আতঙ্ক তৈরি হয় শনিবার।
দুপুরে হঠাৎ জঙ্গল থেকে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে পূর্ণবয়স্ক শিয়ালটি। তারপর দৌড়ে বেরিয়েছে। একের পর এক মানুষকে কামড়েছে। একটি পথকুকুরকেও কামড় দিয়েছে। স্থানীয় মানুষের বক্তব্য, ঘণ্টাখানেকের মধ্যে ছ’জনকে কামড়েছে প্রাণীটি। গোবরডাঙার পায়রাগাছির মধ্যপাড়া গ্রামে এরপর গভীর আতঙ্ক ছড়ায়। ঘরবন্দি হয়ে পড়ে মানুষ। কয়েকজন লাঠি হাতে পাহারায় বেরন। বনদপ্তর এসে খাঁচা পাতে গ্রামে।
চারদিকে জঙ্গল ও বাঁশবাগান দিয়ে ঘেরা মধ্যপাড়া গ্রাম। বসতি জঙ্গলের গা ঘেঁষেই। দুপুরে বাড়ির সামনে বসেছিলেন স্বপ্না বিশ্বাস। হঠাৎ ঝোপ থেকে বেরিয়ে তাঁর পায়ে কামড় বসায় শিয়ালটি। পায়ের মাংস খুবলে নেয়। তার পরমুহূর্তেই ঢুকে যায় জঙ্গলে। একজনকে কামড়ানোর পর ঘটনাটিকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি গ্রামবাসীরা। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই বদলে যায় পরিস্থিতি। পরপর কয়েকবার জঙ্গল ও বাঁশঝোপ থেকে বেরিয়ে আসে শিয়ালটি। একের পর এক পথচলতি মানুষ এবং বাড়ির সামনে থাকা বাসিন্দার উপর হামলা চালায়। এরপর আতঙ্কে ঘরবন্দি হয়ে পড়েন গ্রামবাসীরা। শিশুদের বাড়ির ভিতরে আটকে রাখা হয়। নিরাপত্তায় গ্রামের রাস্তায় এবং বাড়ির সামনে লাঠি হাতে পাহারা শুরু করেন কয়েকজন সাহসী ব্যক্তি।
এরমধ্যে প্রাণীটির খোঁজে আসেন বনদপ্তরের কর্মীরা। বাঘ ধরার মতো খাঁচা পাতেন গ্রামের ভিতর। গোবরডাঙা থানার পুলিশও যায়। বনদপ্তর জঙ্গল ও বাঁশঝাড়ে তল্লাশি চালায়। কিন্তু শিয়ালটি হাপিস। পম্পা দে নামে এক গ্রামবাসী বলেন, ‘শিয়ালটা ছ’জনকে কামড়েছে। ধরা না পড়া পর্যন্ত
স্বস্তি পাচ্ছি না।’