Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পাঁচজনের পরিবারে ছ’টি ইনিউমারেশন ফর্ম শান্তিপুরে! বিজেপি বিএলএর বাড়িতে ভূতুড়ে ভোটার

খোদ বিজেপি বিএলএর বাড়িতেই ভূতুড়ে ভোটার! এসআইআর আবহে এমনই কাণ্ড প্রকাশ্যে এসেছে শান্তিপুর ব্লকে।

পাঁচজনের পরিবারে ছ’টি ইনিউমারেশন ফর্ম শান্তিপুরে! বিজেপি বিএলএর বাড়িতে ভূতুড়ে ভোটার
  • ১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

দীপন ঘোষাল, রানাঘাট: খোদ বিজেপি বিএলএর বাড়িতেই ভূতুড়ে ভোটার! এসআইআর আবহে এমনই কাণ্ড প্রকাশ্যে এসেছে শান্তিপুর ব্লকে। যেখানে পাঁচ সদস্যের ওই বিজেপির বুথ লেভেল এজেন্টের বাড়িতে এসেছে ছয়টি ফর্ম! যেখানে তাঁদের পরিবারে ষষ্ঠ ভোটারের অস্তিত্বই নেই। বিষয়টি কীভাবে হল, তা নিয়ে নিজেই সন্দিহান বলে দাবি বিজেপির ওই বিএলএর। এ নিয়ে রাজনৈতিক আক্রমণ করতে পিছপা হয়নি তৃণমূল। তাদের ব্যাখ্যা ‹সর্ষের মধ্যেই ভূত। 

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ৮৭ নম্বর রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম বিধানসভার ৬০ নম্বর বুথের ঘটনা এটি। সেই বুথে বিজেপির বিএলএ গোবিন্দ রায়। পিতা সুভাষচন্দ্র রায়। গোবিন্দ ছাড়াও বৃদ্ধ সুভাষের রয়েছে আরও এক ছেলে। সবমিলিয়ে বাড়িতে মোট পাঁচজন সদস্য। কিন্তু সম্প্রতি ছ’জনের ইনিউমারেশন ফর্ম এসে পৌঁছয় তাঁর বাড়িতে। তাতে দেখা যায়, গোবিন্দর বাবা সুভাষ রায়ের তৃতীয় সন্তান হিসেবে শান্তনু রায় নামে এক ব্যক্তির ফর্ম এসেছে! ফর্মে দেওয়া বার কোড স্ক্যান করলেও নির্বাচন কমিশনের তথ্য দেখাচ্ছে, এই শান্তনু বৃদ্ধ সুভাষবাবুর তৃতীয় পুত্র। অথচ বাস্তবে ৭৫ বছর বয়সি সুভাষচন্দ্র রায়ের দুই সন্তান। যাদের মধ্যে শান্তনু বলে কেউ নেই! তাহলে কীভাবে অস্তিত্বহীন এই ভূতুড়ে ভোটারের নাম উঠল বিজেপি নেতার ওই পরিবারে? উঠছে প্রশ্ন। এদিকে, পরিবারের বাকি পাঁচজনের ফর্ম নিয়ম অনুযায়ী ওই বুথের বিএলওকে জমা করলেও সেই ভূতুড়ে ফর্ম জমা করেনি গোবিন্দর পরিবার। যদিও তাঁদের দাবি, কীভাবে এই কাণ্ড ঘটল তা তাঁদের জানা নেই। শান্তনু নামে যে পরিবারে কোনও সদস্য নেই তাও স্বীকার করে নেন তাঁরা। কিন্তু তার পরেও কীভাবে তাঁরই সত্তরোর্ধ বাবার নাম দিয়ে এই ফর্ম এল, সে বিষয়ে অবশ্য স্পষ্ট করতে পারেননি বিজেপি কর্মী গোবিন্দ। তিনি বলেন, ফর্ম আসার পরে আমরা জানতে পারি আমাদের পরিবারে বা বাবার তৃতীয় পুত্র হিসেবে আরেকজনের নাম রয়েছে। এই ভূতুড়ে ভোটার সম্পর্কে আমরা অবগত ছিলাম না। উল্টে আমাদের তো এখন আশঙ্কা হচ্ছে শান্তনু নামে এই ব্যক্তি পরিবারের সদস্য হিসেবে সিলমোহর পেলে সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ হতে পারে নিজেদের মধ্যে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএলও আশা মণ্ডল বলেন, ওই নামে ওঁদের পরিবারের কোনও সদস্য নেই। এটা আমি জানি। কিন্তু কীভাবে সেই নাম তাঁদের পরিবারের সঙ্গে নথিবদ্ধ হল, তা আমি জানি না। আমি বার বার ফর্মটা ফেরত চাইছি। কিন্তু সেটাও দিচ্ছে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ