সংবাদদাতা, সাঁইথিয়া: বর্ষার জলে সিউড়ি শহরের রাস্তাঘাট যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। অলিগলি তো বটেই, প্রধান রাস্তাতেও জলকাদায় ভোগান্তির মুখে শহরবাসী। বেহাল রাস্তায় টোটো, বাইক, সাইকেল দুর্ঘটনাগ্রস্ত হচ্ছে। হেলদোল নেই পুরসভার। শহরবাসী তাই মজার সুরে বলছেন, সিউড়ির রাস্তা যেন চাঁদের পাহাড় হয়ে গিয়েছে। বিনে পয়সায় চাঁদে সফর করা যাচ্ছে!
শহরবাসীর অভিযোগ, গতবছর পুজোর আগে শহরের ভালো রাস্তাই সংস্কার করা হয়েছে। তাই যে সমস্ত রাস্তা বেহাল ছিল, সেগুলি এবছর বৃষ্টিতে আরও খারাপ হয়ে পড়েছে। পুরসভার ২১টি ওয়ার্ডের প্রায় প্রতিটিতে রাস্তার অবস্থা খারাপ। পুরসভার চেয়ারম্যান উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় বলেন, শহরের বেশ কিছু রাস্তা সংস্কার করা দরকার। আমরা ডিপিআর পাঠিয়েছি। আশা করছি, তাড়াতাড়ি কাজ শুরু হবে।
জাতীয় সড়ক থেকে সিউড়ি ঢোকার মুখে রেল ফুঁকোর কাছে রাস্তায় কাদা ভরে গিয়েছে। মোটরবাইক, টোটো সেই রাস্তায় উল্টে যাচ্ছে। বিবেকানন্দপল্লির কাছে পুরসভার রাস্তায় নিকাশি ব্যবস্থা ঠিক নেই। খানাখন্দে ভরা রাস্তার উপরই জল দাঁড়িয়ে রয়েছে। বোবা স্কুল মোড় থেকে আরটি স্কুল মোড় পর্যন্ত রাস্তার একাংশ খানাখন্দে ভরা। স্টেশন মোড়, ফকিরপাড়ার রাস্তাও চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
কলেজপাড়া, রক্ষাকালীতলার কাছেও রাস্তার দশা ভালো নয়। মল্লিকগুনা পাড়া থেকে সিউড়ি-সাঁইথিয়া বাইপাস রাস্তায় পিচের আস্তরণ উঠে বড় বড় পাথর বেরিয়ে পড়েছে। ওই রাস্তায় পথবাতি না থাকায় রাতে দুর্ঘটনাও ঘটছে। শুড়িপুকুরপাড়ায় পিচের রাস্তা, এসপির মোড় থেকে অরবিন্দপল্লির রাস্তার একাংশ বেহাল। সাজানোপল্লিতে ঢালাই রাস্তা খানাখন্দে ভরেছে।
স্থানীয়দের দাবি, রাস্তা কেটে পানীয় জলের পাইপলাইন নিয়ে যাওয়ায় কিছু রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু পুরসভা সমস্যা মেটাতে কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় বর্ষায় দুর্ভোগ বেড়েছে। এছাড়া, শহরের বিভিন্ন নিকাশিনালা আবর্জনায় ভরাট হয়ে থাকায় বৃষ্টিতে নালার জল উপচে ওঠে। সেই জল রাস্তাতেই জমে থাকায় রাস্তা আরও বেহাল হয়ে পড়েছে।
শহরের বাসিন্দা মিহির দাস বলেন, সিউড়ি নামেই সদর শহর। সবদিক থেকেই এশহর অনুন্নত। পুরসভার কোনও ভূমিকা নেই বললেই চলে। বর্ষার আগেই রাস্তাঘাট সংস্কার করা দরকার। গতবছর বেশ কিছু রাস্তা সংস্কার করতে দেখেছিলাম। এবার তা হয়নি। সম্প্রতি শহরের ভিতর দিয়ে রাতে ডাম্পার চলাচলে রাস্তা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।