Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সিউড়ির আনন্দপুর সর্বজনীন: দুর্গাপুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস

স্বাধীনতার আগেই পুজো শুরু হয়েছিল। সিউড়ির প্রথম দুর্গাপুজোর রীতি আজও একই রয়ে গিয়েছে। বিবর্তনের যুগেও থিমের ছোঁয়া লাগেনি।

সিউড়ির আনন্দপুর সর্বজনীন: দুর্গাপুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস
  • ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: স্বাধীনতার আগেই পুজো শুরু হয়েছিল। সিউড়ির প্রথম দুর্গাপুজোর রীতি আজও একই রয়ে গিয়েছে। বিবর্তনের যুগেও থিমের ছোঁয়া লাগেনি। ডাকের সাজে দশভুজার সাবেকি রূপ দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে। স্বাধীনতা সংগ্রামী চিকিৎসক শরৎচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের হাত ধরে এই পুজোর সূচনা হয়েছিল। প্রথম পুজো হয়েছিল সিউড়ি জেলা সংশোধনাগারে। পরে আনন্দপুর সর্বজনীন দুর্গাপুজো সমিতি সেই পুজোর দায়িত্বভার গ্রহণ করে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। এবছর তাদের পুজোর ৭৭তম বর্ষ। সমিতির সম্পাদক সমর্পণ ভট্টাচার্য বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামীর হাত ধরে শুরু হওয়া পুজোর উত্তরসূরী হতে পেরে গর্ব বোধ হয়। প্রচলিত রীতি মেনেই আমাদের পুজো হয়। থিমের লড়াইয়ে আমরা বিশ্বাসী নই। ষষ্ঠী থেকে নিষ্ঠাভরে পুজো শুরু হয়। 

Advertisement

জানা গিয়েছে, ব্রিটিশ শাসনকালে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী চিকিৎসক শরৎচন্দ্র মুখোপাধ্যায়। তৎকালীন সিউড়ি জেলা কারাগার তথা বর্তমান সিউড়ি জেলা সংশোধনাগারে বন্দি ছিলেন। একসময় সেখানেই তিনি অন্যান্য বন্দিদের নিয়ে দুর্গাপুজো শুরু করেন। পুজো শেষে দশমীতে স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে দশভুজার প্রতিমা তুলে দেওয়া হতো। তাঁরাই প্রতিমা বিসর্জনের পর্ব সারতেন। পরবর্তীতে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর স্থানীয়ভাবে সিদ্ধান্ত হয়, ডাঙ্গালপাড়া সহ পৃথক চারটি জায়গায় এক বছর অন্তর পুজো হবে। ১৯৪৮সালে ডাঙালপাড়ায় উমার আরাধনা হয়। পরের বছর স্থান বদলের কথা ছিল। যদিও স্থানীয় বাসিন্দারা তাতে রাজি হননি। পরবর্তীতে স্বাধীনতা সংগ্রামীর হাত ধরে শুরু হওয়া পুজো পাকাপাকিভাবে ডাঙালপাড়াতেই আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়। এরপরই গড়ে উঠে আনন্দপুর সর্বজনীন দুর্গাপুজো সমিতি।  থিমের লড়াইয়ের মাঝেও সাবেকি পুজো হিসেবে আনন্দপুর সর্বজনীন দর্শনার্থীদের মন কাড়ে। পুজোর চারদিন মেলা বসে। সপ্তমী থেকেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। এবছর দর্শনার্থীদের জন্য অষ্টমীতে ছৌ নাচের আয়োজন করা হয়েছে। নবমী থেকে একাদশী পর্যন্ত নামী শিল্পীরা মঞ্চ মাতাবেন। সমিতির সভাপতি সত্যজিৎ মুখোপাধ্যায় বলেন, পুজোর কয়েকটা দিন প্রতিমা দেখতে বহু দর্শনার্থীদের আনাগোনা হয়। দূরদূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আসেন। তাঁদের মনোরঞ্জনের জন্য প্রতি বছরই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এবারও তার অন্যথা হয়নি।
• ফাইল চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ