নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: ওয়ার্ডে উন্নয়নমূলক কাজ করতে চাইলে বাধা দিচ্ছেন খোদ দলেরই চেয়ারম্যান। এমনই অভিযোগ তুলে এর আগেও একাধিকবার মুখ খুলেছিলেন সিউড়ি পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার মহম্মদ আব্দুল সফি। তিনি শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতিও। পুরসভার চেয়ারম্যান উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে উগরে দিয়েছিলেন জমে থাকা সমস্ত ক্ষোভ। তাঁর অভিযোগ, এত কিছুর পরেও বদল হয়নি পরিস্থিতির। তাই এবার পুরসভায় নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিলেন। সফির দাবি, ওয়ার্ডের কয়েক হাজার ভোটারকে পুর পরিষেবা দিতে তিনি ব্যর্থ। তাই পদত্যাগ করতে চান। চিঠি পাঠিয়েছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্বকেও। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
তবে, এপ্রসঙ্গে মুখ খুলতে নারাজ সকলেই। পুরসভার চেয়ারম্যান উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় বলেন, চিঠি অফিসে জমা পড়তে পারে। কিন্তু আমার এখনও নজরে আসেনি। তাই এনিয়ে কিছু বলতে পারব না। একই মন্তব্য বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরীর। তিনি বলেন, আমি সফিকে ফোন করেছিলাম। কিন্তু চিকিত্সার জন্য কলকাতায় গিয়েছেন বলে কথা হয়নি। তাই কী হয়েছে সঠিক বলতে পারব না।
সিউড়ি পুরসভার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কাউন্সিলারদের অভিযোগ নেহাতই কম নয়। গত জুলাইয়েই আম্রুত প্রকল্পে জলের পাইপ লাইন বসানো থেকে শুরু করে টেন্ডার সংক্রান্ত একাধিক বেনিয়মের অভিযোগ তুলে রাজ্য পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরে চিঠি জমা দিয়েছিলেন কাউন্সিলারদের একাংশ। সেই ভিত্তিতে পুরসভায় তদন্তেও এসেছিলেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দুই পদস্থ কর্তা। বিষয়টি নিয়ে শহরে শোরগোল পড়ে যায়। পাশাপাশি, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তথা শহর সভাপতিরও।
এর আগে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একাধিকবার দলের অন্দরে নিজের ক্ষোভের কথা জানিয়েছিলেন আব্দুল সফি। তাঁর অভিযোগ ছিল, ওয়ার্ডে কোনও উন্নয়নমূলক কাজের জন্য চেয়ারম্যানকে বললে তিনি কথা কানে তোলেন না। অর্থের সমবণ্টন হয় না। এর ফলে ওয়ার্ডে তাঁর নিজের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। তবে, সমস্ত ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে যখন তাঁর ওয়ার্ডে জল বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেদিন প্রকাশ্যে মুখ খুলেছিলেন তিনি। চেয়ারম্যানকে ইঙ্গিত করে আক্রমণও শানাতে শোনা গিয়েছিল সফিকে। চেয়ারম্যানের সঙ্গে ওয়ার্ডে কাজ করতে যে সমস্যা হচ্ছে, সে ব্যাপারে দলীয় বিধায়ককেও জানিয়েছিলেন একাধিকবার। যদিও তারপরেও যে সমস্যার সমাধান কিছুই হয়নি, তা পুরসভায় পদত্যাগপত্র জমা দেওয়াতেই স্পষ্ট।
দলীয় সূত্রে খবর, এই ঘটনার পড়েই নড়েচড়ে বসেছে নেতৃত্ব। ওই কাউন্সিলারের সঙ্গে জেলা শীর্ষ নেতাদের অনেকেই যোগাযোগ করেছেন। তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থার লোকজনও বিষয়টি নিয়ে কথা বলছেন। সিউড়ি ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার মহম্মদ আব্দুল
সফি। -নিজস্ব চিত্র