নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: গ্রাম থেকে শুরু করে শহরের নানা প্রান্তে ইতিমধ্যে থাবা বসিয়েছে ডেঙ্গু। এক, দুই করে আক্রান্তের সংখ্যাও সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। যদিও জেলার সিউড়ি পুর এলাকা এখনও ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে মুক্ত রয়েছে, সম্প্রতি এমনটাই দাবি করে পুরসভা। চেয়ারম্যান উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় ডেঙ্গু মোকাবিলায় বাড়তি নজরদারি চালানোর কথাও স্পষ্ট করেছেন। পুরসভার তরফে জানা গিয়েছে, ডেঙ্গু মোকাবিলায় শহরের প্রতিটি বাড়িতে আবারও পুরকর্মীরা হানা দেবেন। কোথাও জল জমে থাকার ঘটনা নজরে এলেই এবার নির্দিষ্ট বাড়ির মালিকদের নোটিস পাঠানো হবে। এরপরও পরিস্থিতির বদল না হলে জরিমানার পথে হাঁটবে পুরসভা কর্তৃপক্ষ।
পুরসভার চেয়ারম্যান বলেন, সিউড়ি শহর এখনও ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে মুক্ত রয়েছে। আমরা সেই ধারা বজায় রাখতে চাই। সেই লক্ষ্যে পরিচ্ছন্নতার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। বাড়ি বাড়ি সার্ভের কাজেও গতি আনা হচ্ছে। বছরের শুরু থেকেই ডেঙ্গু মোকাবিলায় অভিযান শুরু হয়। যদিও তা সত্ত্বেও জেলার বহু জায়গায় ডেঙ্গুর থাবা ক্রমশ চওড়া হতে শুরু করেছে। বর্ষার মরশুমে যা নিয়ে উদ্বেগে জেলা প্রশাসন। এই আবহে সিউড়ি পুরসভার ২১টি ওয়ার্ড এখনও পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে মুক্ত রয়েছে। পুরসভার দাবি, এখনও পর্যন্ত শহরে একটিও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর খোঁজ পাওয়া যায়নি। বছরের শুরু থেকেই ডেঙ্গু মোকাবিলার কাজ করার ফল এটা। তবে বর্ষার মরশুমে এই ধারা বজায় রাখা চ্যালেঞ্জের বিষয়। পুর কর্তাদের কথায়, এই মরশুমে জমা জল থেকে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠে। এই পরিস্থিতিতে শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে বর্ষার মরশুমে পুরসভা কর্তৃপক্ষ বাড়তি নজরদারি শুরু করেছে। পুরসভার তরফে জানা গিয়েছে, ডেঙ্গু মোকাবিলায় পুরকর্মীরা সাধারণ মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতনতার পাঠ দিচ্ছেন। সেই সঙ্গে কোনও বাড়িতে জল জমে রয়েছে কি না তাও নিশ্চিত করা হচ্ছে।
পুরসভার তরফে জানা গিয়েছে, বহুক্ষেত্রে জমা জলের হদিশ পাওয়া গেলে বাড়ির মালিকপক্ষকে সচেতন করা হলেও কোনও কাজ হয় না। ডেঙ্গু ইস্যুতে এখনও অনেকেই সচেতন নন। এই পরিস্থিতিতে এবার কোনও বাড়িতে জমা জলের হদিশ পাওয়া গেলে সরাসরি নোটিস পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুর কর্তৃপক্ষের দাবি, ডেঙ্গু মোকাবিলায় নিয়ম ভাঙলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না। আমাদের লক্ষ্য ডেঙ্গুমুক্ত শহর গড়ে তোলা। ফাইল চিত্র