নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: এসআইআরের প্রভাব পর্যটনে। সাধারণত শীতের প্রথমেই সুন্দরবনে শুরু হয়ে যায় পর্যটকদের ভিড়। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সেই চেনা ছবিটা দেখা যাচ্ছে না। অনেক কম পর্যটক আসছেন বেড়াতে। এমনকী কিছু হোটেল এবং বোট বুকিং বাতিলও হয়েছে। বোট মালিকদের দাবি, পুজোর পর গড়ে রোজ ৬০-৭০টি করে নৌকা বেরত। সেটা কিছুদিন ধরে ২০-৩০টায় ঠেকেছে। এতে আমরা অবাক। হয়তো এসআইআরের জন্য অনেকেই বাড়ি থেকে বেরচ্ছেন না। এই পর্ব মিটলে আবার হয়তো পর্যটকরা ভিড় করবেন এখানে। সাধারণত সারা বছরই সুন্দরবনের পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে। বর্ষার সময় ইলিশ উৎসব হোক কিংবা শীতের ছুটি– কখনও খালি থাকে না এই পর্যটন কেন্দ্রটি। হোটেল ব্যবসায়ী থেকে বোট মালিক, প্রত্যেকেই কম-বেশি লাভও করেন পর্যটন ব্যবসা থেকে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে একটু চিন্তিত তাঁরা। সুন্দরবন ট্যুরিস্ট বোট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গোলাম রসুল সর্দার বলেন, দিনে ১২০টি নৌকা সুন্দরবনের নদীতে বেরতে পারে। এটাই নিয়ম। কিন্তু এখন হাতে গোনা কয়েকটি বোটের বুকিং হচ্ছে। ফলে বেশিরভাগ বোট মালিককেই সারাদিন বসে থাকতে হচ্ছে। রাজ্যজুড়ে এসআইআর চলছে। বুথ লেভেল অফিসাররা বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। তার জন্যই হয়তো বেরতে চাইছেন না অনেকে। বিএলও বাড়ি এসেও ফিরে গেলে কী হবে, সেসব ভেবেই আপাতত ঝুঁকি নিয়ে বাড়ির বাইরে যেতে নারাজ তাঁরা। ফলে পর্যটন ব্যবসা কিছুটা মার খাচ্ছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। বাসন্তীর সোনাখালি ফেরিঘাটে এখন সারি সারি নৌকা দাঁড়িয়ে আছে। বোট চালক, হেল্পাররা সারা বছরই পর্যটকের আশায় বসে থাকেন। তাঁরা হতাশ। হোটেল ব্যবসায়ীদের মতে, বুকিং এখন কম। বেশ কিছু বাতিলও হয়েছে। এক মাস বাদে পরিস্থিতি বদলাবে বলে আশা করি।



