সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা বা এসআইআর নিয়ে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস চা বাগানে হেল্প ডেস্ক খুলবে। এদিকে, এসআইআরে পর্যবেক্ষণের জন্য রাজনৈতিক দলগুলির বিএলএ নিয়োগ নিয়ে তৎপরতা তুঙ্গে। তবে বিএলএ নিয়োগে বিরোধীদের অনেক পিছনে ফেলে দিয়েছে তৃণমূল। শাসক দলের নেতাদের দাবি, বিজেপি সব জায়গায় বিএলএ দিতে পারবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। যদিও বিজেপির দাবি, বিএলএ নিয়োগে তৎপরতা শুরু করেছে তারা।
এসআইআর নিয়ে চা শ্রমিকদের সাহায্য করতে বাগানে হেল্প ডেস্ক খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল। জেলায় সরকারিভাবে ৬১টি বাগান। প্রতিটি বাগানে শাসক দলের চা শ্রমিক সংগঠনের ইউনিট আছে। সেই ইউনিটগুলিকেই শ্রমিকদের সাহায্য করতে হেল্প ডেস্ক হিসেবে ব্যবহার করবে তৃণমূল।
দলের জেলা চেয়ারম্যান গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা বলেন, চা বাগানের বহু মানুষ ভিনরাজ্যে কাজ করে। শ্রমিকরা বেশিরভাগই সহজসরল। তাই দল মনে করছে এসআইআরে শ্রমিকদের নানা সমস্যা হতে পারে। সেজন্যই বাগানে বাগানে দলীয় হেল্প ডেস্ক খোলা হবে।
এদিকে, ৪ নভেম্বরের আগেই জেলার রাজনৈতিক দলগুলি প্রতিটি বুথে দলীয় বিএলএ নিয়োগে তৎপর হয়েছে। জেলায় ১৩৫০টি বুথ। বিএলএ নিয়োগে শাসক দল বিরোধীদের ইতিমধ্যেই টেক্কা দিয়েছে। তৃণমূলের জেলা সাধারণ সম্পাদক ভাস্কর মজুমদার বলেন, আমাদের ১০০ শতাংশ বুথেই বিএলএ নিয়োগ হয়েছে। দলের বিএলএ’রা একদফা ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজও করে ফেলেছেন।
অন্যদিকে, তৃণমূলের প্রধান প্রতিপক্ষ গেরুয়া শিবির সব বুথে বিএলএ দিতে পারবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে দলেরই একাংশের মধ্যে। দলের জেলা সভাপতি মিঠু দাস বলেন, আমরা সব বুথে বিএলএ দিতে পারব কি না এসব বিরোধীদের অপপ্রচার। এসআইআরে জেলার সব বুথেই আমাদের দলের বিএলএ থাকবে।
সিপিএম যে সব বুথে বিএলএ দিতে পারবে না তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কোনও সংশয় নেই। সিপিএমের জেলা সম্পাদক কিশোর দাস বলেন, আমরা আলিপুরদুয়ার, কুমারগ্রাম ও ফালাকাটা এই তিনটি বিধানসভায় ৯০ শতাংশ বুথেই বিএলএ দিয়েছি। সব মিলিয়ে জেলার পাঁচটি বিধানসভায় ১৩৫০টি বুথের মধ্যে ৭৬৪টি বুথে বিএলএ দিতে পেরেছি। বাকি বুথগুলিতেও চেষ্টা চলছে।