নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: এসআইআরে চা ও সিঙ্কোনা বাগানের নথিকে নির্বাচন কমিশন মান্যতা দেওয়ার কৃতিত্ব নিয়ে জোড়াফুল ও পদ্মফুলের মধ্যে তরজা শুরু হয়েছে। শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি তথা ফাঁসিদেওয়ার তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী রোমা রেশমি এক্কা বলেন, আমাদের আন্দোলনের জেরেই নির্বাচন কমিশন চা ও সিঙ্কোনা বাগানের নথি গ্রাহ্য করার নির্দেশ দিয়েছে। পাল্টা দার্জিলিংয়ের বিজেপি এমপি রাজু বিস্তা জানান, তাঁর দাবি মতো কমিশন চা ও সিঙ্কোনা শ্রমিকদের নথি মান্যতা দিয়েছে। উভয়পক্ষের এমন তরজা ঘিরে স্থানীয় রাজনীতি সরগরম।
শিলিগুড়ি মহকুমা সহ দার্জিলিং জেলার পাহাড় ও সমতলে ছড়িয়ে রয়েছে চা বাগান। পাহাড়ে রয়েছে সিঙ্কোনা বাগান। সংশ্লিষ্ট বাগানগুলির অধিকাংশ আদিবাসী সম্প্রদায়ভুক্ত। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ইনিউমারেশন ফর্ম ফিলাপের সময় সংশ্লিষ্ট বাগানগুলির একাংশ ২০০২ সালের তথ্য উল্লেখ করেনি বলে অভিযোগ। তাঁদের ফর্ম ম্যাপিং হীন ছিল। এজন্য তাঁদের হিয়ারিংয়ে ডাকা হয়। কিন্তু তাঁরা জন্মের নথি সহ কোনও সার্টিফিকেট হিয়ারিংয়ে দেখাতে পারছিলেন না। তাতে তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
এই অবস্থায় মহকুমা প্রশাসনকে জানানোর পাশাপাশি ফাঁসিদেওয়া বিডিও অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি। তিনি বলেন, দেশের মূলনিবাসী হলেন আদিবাসীরা। জন্মের নথি না থাকায় তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কথা প্রচার করেছিল একাংশ। এই সমস্যা দূর করতে চা বাগান ও পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের রেসিডেনশিয়াল সার্টিফিকেট এসআইআরে মান্যতা দেওয়ার দাবি কমিশনের কাছে জানানো হয়। নির্বাচন কমিশন তা মেনে নিয়েছে। এখানেই আমাদের নৈতিক জয় হয়েছে। কিন্তু আমরা যখন এধরনের আন্দোলন করছিলাম, তখন বিজেপি নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছিল। কাজেই এখানে তাদের কোনও কৃতিত্ব নেই। এদিকে দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ বলেন, চা ও সিঙ্কোনা বাগানের শ্রমিকদের কাছে কোনও নথি নেই। নেই জমির পাট্টা। তাই এসআইআরে বাগানের নথি মান্যতা দেওয়ার প্রস্তাব নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রস্তাব আমি দিয়েছিলাম। কমিশন তা মেনেছে। বিধানসভা ভোটের মুখে দু’পক্ষের এমন তরজা চললেও আদিবাসীরা বলেন, এসআইআরের হিয়ারিংয়ের নোটিস পাওয়ার পর থেকেই দেশ ছাড়া হওয়ার আতঙ্কে ছিলাম। এখন কমিশন নয়া নির্দেশ দেওয়ায় কিছুটা দুশ্চিন্তামুক্ত হয়েছি।