Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এসআইআর আতঙ্ক, সবার চাই পুরনো দলিল, কৃষ্ণনগর রেজিস্ট্রি অফিসে ব্যস্ততা

স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের আতঙ্ক ছড়িয়েছে নদীয়া জেলাতেও। আবার সিএএ-এনআরসির কারণে ছিন্নমূল হওয়ার আশঙ্কাও এখন তাড়া করে বেড়াচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

এসআইআর আতঙ্ক, সবার চাই পুরনো দলিল, কৃষ্ণনগর রেজিস্ট্রি অফিসে ব্যস্ততা
  • ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৬:০৯
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের আতঙ্ক ছড়িয়েছে নদীয়া জেলাতেও। আবার সিএএ-এনআরসির কারণে ছিন্নমূল হওয়ার আশঙ্কাও এখন তাড়া করে বেড়াচ্ছে সাধারণ মানুষকে। যার জেরেই বহু মানুষ জমির পুরনো রেকর্ড সংগ্রহ করে রাখতে চাইছে। কারণ, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের জমির দলিলকে এবার অন্যতম শর্ত হিসেবে রাখা হয়েছে। আর সেই কারণেই সীমান্তবর্তী নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগর রেজিস্ট্রি অফিসে প্রতিদিন জমির রেকর্ডের খোঁজে সাধারণ মানুষ ভিড় করছে। যদিও শুধুমাত্র এসআইআর নয়, সিএএ-এনআরসির আতঙ্কেও অনেকে আগেভাগে জমির রেকর্ড জোগাড় করছেন। এক্ষেত্রেও জমির দলিল অন্যতম নথি। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৫০-৬০জন নাগরিক জমির দলিলের নথি সংগ্রহ করছেন। যদিও কয়েকমাস আগেও এই সংখ্যা দৈনিক একশো ছাড়িয়ে যেত। অর্থাৎ, কিছুটা কমলেও কাজের চাপ এখনও কমেনি।

Advertisement

কৃষ্ণনগর রেজিস্ট্রি অফিসের এক আধিকারিক বলেন, আমাদের এখানে বহু পুরনো জমির রেকর্ড রয়েছে। এখন সেগুলি ডিজিটাল পোর্টালেও পাওয়া যায়। প্রতিদিন বহু মানুষ সেই রেকর্ডের কপি নেওয়ার জন্য আবেদন করছেন। আমরা সেগুলির অনুমোদন দিচ্ছি। অনেকের পূর্বপুরুষের নামে জমি থাকে। কিন্তু অনেক সময় সেই জমির আসল দলিল পাওয়া যায় না। সেই সমস্ত দলিলের ডুপ্লিকেট কপি রেজিস্ট্রি অফিসে রাখা থাকে। আসলটি হারিয়ে গেলেও, সেই ডুপ্লিকেট কপি তার সমতুল্য। সম্প্রতি রাজ্য সরকারের তরফ থেকে গোটা প্রক্রিয়াটিকেই ডিজিটাল করা হয়েছে। এখন সেই রেকর্ড অনলাইনে নির্দিষ্ট পোর্টালে পাওয়া যায়। তার জন্য আবেদন করতে হয়। রেজিস্ট্রি অফিস থেকে অনুমোদন দিলেই আবেদনকারী ডুপ্লিকেট কপি পেয়ে যান। এবার এসআইআর ও সিএএ বিতর্কের মধ্যে সীমান্ত জেলার মানুষের কাছে সেই সমস্ত জমির দলিল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া ঘিরে এখন উত্তাল রাজনৈতিক মহল। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তেই এই ইস্যুতে আলোচনার ঝড় উঠেছে। নির্বাচন কমিশন প্রতি বছরই নিয়মিত সংশোধনের পথে হাঁটে। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে আরও খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখতে নেওয়া হয় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন। যা এখন রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ইতিমধ্যেই এই প্রক্রিয়া বিহারে চালু হওয়ার পর ভোটার তালিকায় ভয়াবহ হেরফের দেখা গিয়েছে। তালিকা থেকে বহু নাম বাদ পড়েছে। আবার তালিকায় নতুন নামও উঠে এসেছে। বিহারের এই অভিজ্ঞতা এখন বাংলার রাজনীতিতেও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনে পাসপোর্ট, জন্ম সার্টিফিকেট, ডোমিশিয়াল সার্টিফিকেটের পাশাপাশি জমির দলিলও অন্যতম নথি। অন্যদিকে, সিএএতে আবেদন করলেও জমির নথি থাকা বাধ্যতামূলক। তাই কারও পূর্বপুরুষ যদি বাংলাদেশি হন এবং তাঁর সমস্ত নথিপত্র ভারতের হয়, তা সত্ত্বেও তাঁরা জমির রেকর্ড সংগ্রহ করতে আসছেন। কৃষ্ণনগর রেজিস্ট্রি অফিসে এসেছিলেন তন্ময় দাস(নাম পরিবর্তিত)। তিনি বলেন, আমার পূর্বপুরুষ বাংলাদেশের বাসিন্দা। আমার ও আমার পরিবারের ২০০২ সালের ভোটার তালিকাতেও নাম আছে। বহু বছর ধরে আমরা এখানেই বসবাস করছি। কিন্তু তবুও জমির রেকর্ডটা তুলে রাখছি। ওটা আমাদের কাছে ছিল না। কাজকর্ম ফেলে রেখে অযথা আমাদের এসব নিয়ে মাথাব্যথা করতে হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ