নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিউ (এসআইআর) শুরুর আগে সুতো গোটাচ্ছে কমিশন। এবার গত এক বছরে রাজ্যের ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত হওয়া ‘ভুয়ো’ ভোটার ধরতে জেলাগুলিকে বিশেষ দল গঠনের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর (সিইও অফিস)। মঙ্গলবার সমস্ত জেলাকে এই মর্মে নির্দেশিকা পাঠিয়েছেন রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল।
এর আগেই ভোটার তালিকায় ভুয়ো ভোটার নথিভুক্তিকরণের অভিযোগে দুই ইআরও’কে শোকজ করেছে কমিশন। এদিন এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে কমিশন জানিয়েছে, গত এক বছরে রাজ্যে নতুন ভোটার হিসাবে নাম নথিভুক্তিকরণের জন্য জমা পড়া ৬ নম্বর ফর্মের সঙ্গে দেওয়া সমস্ত নথি পুনরায় খতিয়ে দেখতে হবে। এজন্য সমস্ত জেলাকে সিনিয়র অফিসারদের নিয়ে দল গঠন করতে হবে। ওই দল সমস্ত নথি খতিয়ে দেখবে। সমস্ত নথি যাচাইয়ের পর জেলাগুলিকে ১৪ আগস্টের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সিইও অফিস।
কিন্তু হঠাৎ করে কেন বিগত বছরের নয়া ভোটারদের তথ্য যাচাই করতে চাইছে কমিশন? ওয়াকিবহাল মহলের ব্যাখ্যা, আসলে এটাও বাংলায় এসআইআর প্রস্তুতির অন্যতম অঙ্গ হতে পারে। তবে সিইও মনোজ আগরওয়ালের জারি করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ রয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধনীর কাজে নিযুক্ত ইলেকশন রিটার্নিং অফিসার বা ইআরও’রা অনেক ক্ষেত্রেই ‘ইআরও নেট’ নামক অ্যাপ ব্যবহারের জন্য এইআরও, ওসি ইলেকশন এবং বিডিও অফিসে নিযুক্ত অস্থায়ী ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের অনুমতি দিয়েছিলেন। তালিকা সংশোধনীর কাজে নিযুক্ত দুই ইআরও সেকথা স্বীকার করেছেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ। যে কারণেই গত এক বছরে সমস্ত ৬ নম্বর ফর্মের সঙ্গে জমা পড়া নথি ফের খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, বিডিও অফিসে নিযুক্ত ওসি ইলেকশন, অস্থায়ী ডেটা এন্ট্রি অপারেটরা এখন থেকে ভোটার তালিকার সংশোধনী কাজ অর্থাৎ ফর্ম ৬, ৭ এবং ৮’এর মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ বা ফর্ম ইআরও নেটে আপলোড সংক্রান্ত কোনও কাজ করতে পারবেন না। জেলাগুলিকে কঠোরভাবে এই নির্দেশ পালন করতে বলেছে সিইও অফিস।