নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: আজ, মঙ্গলবার থেকেই পূর্ব মেদিনীপুরে বাড়ি বাড়ি এসআইআর নোটিশ পাঠানোর কাজ শুরু হচ্ছে। আপাতত ৪০ হাজার ভোটারের বাড়িতে নোটিশ নিয়ে হাজির হবেন বুথ লেভেল অফিসাররা। সোমবার বিকেলে এনিয়ে জেলাশাসকের অফিসে বৈঠক হয়। সেখানে জেলাশাসক ইউনিস ঋষিণ ইসমাইল, অতিরিক্ত জেলাশাসক (ইলেকশন) বৈভব চৌধুরী, অফিসার ইন-চার্জ ইলেকশন অনিরুদ্ধ নন্দী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচন কমিশন শুনানিতে মাইক্রো অবজার্ভার রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেইমতো পূর্ব মেদিনীপুরে ৩০০জন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক কর্মীকে চিঠি করা হয়েছে। আগামী ২৪ডিসেম্বর কলকাতায় নজরুল মঞ্চে তাঁদের ট্রেনিং দেওয়া হবে। এজন্য প্রত্যেকের কাছে ট্রেনিংয়ের চিঠি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
পূর্ব মেদিনীপুরে মোট ৩৩হাজার ভোটার নন ম্যাপিং হিসেবে চিহ্নিত। অর্থাৎ ওই সংখ্যক ভোটারকে ২০০২সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে লিঙ্ক করা যায়নি। এর পাশাপাশি সন্দেহজনক(লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি) আরও কয়েক হাজার ভোটারকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরে মোট লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি ভোটারের সংখ্যা এই মুহূর্তে ছয় লক্ষ। নাম কিংবা ছোটখাট ভুলত্রুটি থাকা ভোটারদের কাছ থেকে নথি সংগ্রহ করে তা সংশোধনের জন্য বিএলওদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই কাজ চলছে। কিন্তু বড়সড় গোলমাল থাকা ভোটারদের ক্ষেত্রে সেটা সম্ভব নয়। সেইসব ভোটারের ক্ষেত্রে কী হবে, সেটা এখনও পরিষ্কার নয়। তবুও এই জেলায় আপাতত ৪০হাজার ভোটারকে এসআইআর নোটিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসআইআর নোটিশ জেনারেট হওয়ার তারিখ থেকে সাতদিনের ব্যবধানে শুনানিতে হাজির হতে হবে। জেলাশাসক, মহকুমা শাসক এবং বিডিও অফিসে শুনানি হবে। প্রতিটি জায়গায় এনিয়ে প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছেন জেলাশাসক। প্রত্যেক বিডিও অফিসে ৮-১০টি ক্যাম্প হবে। দৈনিক ১০০জনকে নিয়ে শুনানি হবে। সন্দেহজনক ভোটারদের প্রত্যেককে শুনানিতে ডাকতে হবে কি না, এনিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর। সেক্ষেত্রে কয়েক লক্ষ ভোটারকে নোটিশ দিয়ে ডাকতে হবে। শুনানি প্রক্রিয়া শেষ করতেও অনেকটা সময় লেগে যাবে।
জেলার ১৬টি বিধানসভার প্রত্যেক অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার(এইআরও) শুনানিতে উপস্থিত থাকবেন। ২৬ডিসেম্বরের পর থেকে শুনানি প্রক্রিয়া শুরু হবে। বয়স্ক ও অসুস্থদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে শুনানি হবে। অ্যাডিশনাল এইআরও এবং সুপারভাইজাররা বাড়ি বাড়ি যাবেন। তাঁদের নিয়ে প্রশাসন বৈঠক করেছে।
আজ, মঙ্গলবার থেকেই বিএলও’রা ২০০২সালের তালিকার সঙ্গে ম্যাপিং না হওয়া ভোটারদের বাড়ি যাবেন। প্রত্যেকের জন্য নোটিশের দু’টি করে কপি থাকবে। একটি সই করে বিএলওকে ফেরত দিতে হবে। অপরটি সংগ্রহ করে নেবেন ভোটার। নির্ধারিত দিনে ভেন্যুতে নোটিশের কপি নিয়ে নন ম্যাপিং ভোটারকে হাজির হতে হবে। প্রতিটি জায়গায় একজন করে মাইক্রো অবজার্ভার থাকবেন। কমিশনের পক্ষ থেকে তাঁরা নজরদারি করবেন।