নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। চোখে মুখে প্রচণ্ড ক্লান্তির ছাপ। কিন্তু উপায় কী! বাবার নামে গোলমাল থাকায় হিয়ারিংয়ে ডাকা হয়েছে রুকি খাতুনকে। হাজার কষ্ট সত্ত্বেও এসআইআর হিয়ারিংয়ের শেষদিনে ইংলিশবাজার শহরের জিলা স্কুলে হাজির তিনি।
নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। চোখে মুখে প্রচণ্ড ক্লান্তির ছাপ। কিন্তু উপায় কী! বাবার নামে গোলমাল থাকায় হিয়ারিংয়ে ডাকা হয়েছে রুকি খাতুনকে। হাজার কষ্ট সত্ত্বেও এসআইআর হিয়ারিংয়ের শেষদিনে ইংলিশবাজার শহরের জিলা স্কুলে হাজির তিনি।
তখন দুপুর প্রায় একটা। রুকির প্রসব যন্ত্রণা শুরু হয়ে গিয়েছে। খুব কষ্ট করে বললেন, আমি ন’মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আজ, কালের মধ্যেই আমার সন্তান হবে। সকাল ন’টায় এসেছি। আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারছি না। পেটে যন্ত্রণা হচ্ছে। শুনানি হয়ে গেলেই সোজা ডাক্তারের কাছে যাব। এমন ঘটনা প্রশাসনের নজরে আসতেই দ্রুত রুকির শুনানি করে ছেড়ে দেওয়া হয়।
শুনানির শেষ দিন শনিবার শহরের জিলা স্কুলের শুনানি কেন্দ্রে তখন বিশাল লাইন। কেউ এক মাসের সন্তান কোলে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে, অনেকে আবার ছোট্ট সন্তান কোলে মাটিতে বসে অপেক্ষা করছেন। সিজার করে সন্তান হওয়ার পর অনেকের বিশ্রামে থাকার কথা। পাছে নাম বাদ যায়, তাই সব ছেড়ে হিয়ারিংয়ের লাইনে ইংলিশবাজার ব্লকের অসংখ্য মায়েরা। তাঁদের অনেকের স্বামী রুজির টানে ভিনরাজ্যে কর্মরত।
ইংলিশবাজার ব্লকের লক্ষ্মীঘাটের বাসিন্দা টগরি খাতুন বেলা বারোটার সময় দেড়শো জনের পিছনে ছিলেন। দাঁড়িয়ে থেকে শরীর খারাপ লাগছিল বলে মাটিতেই সন্তানকে কোলে নিয়ে বসে পড়েন। বলেন, আমার সিজার করে সন্তান হয়েছে। ডাক্তার বিশ্রামে থাকতে বললেও সন্তান কোলে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। খুব কষ্ট হলেও অন্য উপায় নেই।
মালদহের ইংলিশবাজার ব্লকের নরহাট্টার দুর্গাপুরের বাসিন্দা শাকিলা বিবি দুর্গাপুর প্রাথমিক স্কুলের ৮৬ নম্বর বুথের ভোটার। এক মাস দু’দিন বয়সী সন্তান নিয়ে বাড়ি থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে শহরে শুনানিতে এসেছেন। বললেন, আমার নামে ভুল রয়েছে বলে শুনানিতে ডাকা হয়েছে। সকাল গড়িয়ে দুপুর হয়ে গেল। কখন ডাক আসবে কে জানে! তাই রোদের মধ্যেই সন্তান কোলে দাঁড়িয়ে আছি।