নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া ও সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: এসআইআরের কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে ব্লকে ব্লকে সারপ্রাইজ ভিজিট করবেন সেচমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা মানস ভুঁইয়া। শুক্রবার দলের বাঁকুড়া ও বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার নেতা-নেত্রীদের নিয়ে বৈঠকের পর সেচমন্ত্রী একথা জানিয়েছেন। রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কয়েকটি ব্লকের কাজের গতিপ্রকৃতি নিয়ে মানসবাবু উষ্মা প্রকাশ করেন বলে তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে।
এদিন বিকেল ৩টে নাগাদ বাঁকুড়া শহরের জুনবেদিয়া বাইপাস সংলগ্ন জেলা তৃণমূল ভবনে মানসবাবু পৌঁছন। সেখানে দুপুর থেকেই জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের পাশাপাশি বিধায়ক, শাখা সংগঠনের পদাধিকারী ও বিভিন্ন ব্লক থেকে আসা নেতা-নেত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের নিয়ে মানসবাবু ঘণ্টাখানেক বৈঠক করেন। মানসবাবু বলেন, বাঁকুড়া শহরের দু-একটি ওয়ার্ড ও সাংগঠনিক জেলার বিভিন্ন ব্লকের কিছু বুথে এসআইআরের কাজ সন্তোষজনক নয়। সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী ও পুর চেয়ারম্যান অলকা সেনমজুমদারকে বিষয়টি দেখার জন্য আমি বলেছি। নির্বাচন কমিশন দীর্ঘদিনের কাজ মাত্র এক মাসের মধ্যে করতে চাইছে। এসআইআরের বিপদ সম্পর্কে দলের নেতা-নেত্রীদের আমি সতর্ক করে দিয়েছি। এব্যাপারে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা আমি জেলা নেতৃত্বের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। আগামী দু’-তিন দিন আমি বাঁকুড়ায় ঘাঁটি গেড়ে থাকব। আগাম না জানিয়ে বিভিন্ন ব্লকে সারপ্রাইজ ভিজিটে যাব। এসআইআরের কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে বুথে বুথে আমি পৌঁছে যাব।
বাঁকুড়ার পর বিষ্ণুপুরের যদুভট্ট মঞ্চে মানুষবাবু বৈঠক করেন। সেখানে তৃণমূলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার নেতা-নেত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠক শেষ করে মানসবাবু সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, এজেলায় এসআইআরের কাজ ভালো হয়েছে। বিষ্ণুপুর ও সোনামুখী শহরের কিছু ওয়ার্ডে সমস্যা রয়েছে। আমি বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার বিভিন্ন বুথেও আগামী দু’দিন ধরে যাব।
উল্লেখ্য, বাঁকুড়ায় এসআইআরের কাজ নিয়ে তেমন অভিযোগ না উঠলেও ‘বিএলএ-টু’ নিয়োগ নিয়ে তৃণমূলের মধ্যে গোষ্ঠীকোন্দল প্রকট হয়। জেলা নেতৃত্বের উদাসীনতায় ব্লক ও অঞ্চল নেতৃত্ব বহু জায়গায় বিএলএ-টু দেয়নি। কিছু জায়গায় বুথ সভাপতিদের সঙ্গে আলোচনা না করেই বিএলএ-টু দেওয়া হয়েছে। ফলে ওইসব জায়গায় বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) সঙ্গে তৃণমূলের বিএলএ-টু›দের দেখা যায়নি। তারফলে ইনিউমারেশন ফর্ম বণ্টন ও জমার ক্ষেত্রে শাসকদলের নজরদারির অভাব লক্ষ্য করা গিয়েছে। তবে বাঁকুড়া শহর, শালতোড়া, গঙ্গাজলঘাটি, বড়জোড়ার মতো কয়েকটি জায়গায় তৃণমূল নেতানেত্রীরা সক্রিয় ছিলেন। তাঁরা প্রথম থেকেই বিভিন্ন ওয়ার্ড ও অঞ্চলে শিবির করে সাধারণ মানুষকে ফর্ম পূরণে সহায়তা করেন। শালতোড়ায় ব্লক তৃণমূল সভাপতি সন্তোষ মণ্ডলকে মাঠে নেমে খেতমজুরদের ফর্ম পূরণ করতে দেখা যায়। বড়জোড়ায় বিধায়ক অলোক মুখোপাধ্যায়, জেলাপরিষদ পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ অর্চিতা বিদ, জেলা আইএনটিটিইউসি সভাপতি রথীন বন্দ্যোপাধ্যায় কলকারখানায় গিয়ে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের ইনিউমারেশন ফর্ম পূরণের ব্যাপারে খোঁজ নেন। সবমিলিয়ে এসআইআর নিয়ে বাঁকুড়ায় তৃণমূল নেতৃত্বের মধ্যে মিশ্র সক্রিয়তা লক্ষ্য করা যায়। -নিজস্ব চিত্র