Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এসআইআর: শুনানিতে হাজির কার্গিল যুদ্ধের সেনা জওয়ানও

‘বিন্নাগুড়ি সেনা ছাউনি থেকে কার্গিল। দেশরক্ষায় ব্যস্ত ছিলাম। তাই ২০০২ সালে ভোটার তালিকায় নাম তোলা হয়নি। এজন্যই এসআইআর নিয়ে শুনানিতে হাজির হয়েছি’।

এসআইআর: শুনানিতে হাজির কার্গিল যুদ্ধের সেনা জওয়ানও
  • ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: ‘বিন্নাগুড়ি সেনা ছাউনি থেকে কার্গিল। দেশরক্ষায় ব্যস্ত ছিলাম। তাই ২০০২ সালে ভোটার তালিকায় নাম তোলা হয়নি। এজন্যই এসআইআর নিয়ে শুনানিতে হাজির হয়েছি’। শিলিগুড়ি এসডিও অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে একথা বলেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা জওয়ান সুধীর সাহা। এদিকে, ‘নিজভূমি’ পরবাসী হওয়ার আশঙ্কা করছেন মিষ্টির কারিগর ভোলা ঘোষ। তিনি এসআইআর নিয়ে চরম হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে, ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে এসআইআর নিয়ে ময়দানে ঝাঁপিয়েছে জোড়াফুল ও পদ্ম শিবির। তারা বিভিন্ন জায়গায় ক্যাম্প করে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন। কিন্তু দেখা নেই হাত ও কাস্তে-হাতুড়ি-তারার। শিলিগুড়ি শহরের বাঘাযতীন কলোনির বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত ওই সেনা জওয়ান। তাঁর স্ত্রী অনিতাদেবী গৃহবধূ। এই দম্পত্তির দুই ছেলে ও এক মেয়ে। সেনা জওয়ানের হার্টের সমস্যা। শনিবার স্ত্রীকে নিয়ে এসডিও অফিসে শুনানিতে হাজির হয়েছিলেন। শুনানির পর বলেন, ‘১৯৯৮ সালে বিন্নাগুড়িতে পোস্টিং ছিল। এরপর ১৯৯৯ সালে কার্গিল যুদ্ধ নিয়ে সতর্ক থাকতে হয়েছিল। যুদ্ধের ঠিক পরপরই ২০০০ সালে কার্গিলে পোস্টিং হয়। ওই বছরই  চাকরি থেকে অবসর নিই। কিন্তু ভোটার তালিকায় নাম তুলতে পারিনি। তাই শুনানিতে আসতে হয়েছে। কর্মজীবনের নথি দেখানোয় আমার ও স্ত্রীর কোনও অসুবিধা হয়নি’। 

Advertisement

মহকুমা প্রশাসনিক ভবন থেকে বেরিয়ে অবসরপ্রাপ্ত সেনা জওয়ান বলেন, জঙ্গি ও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ রুখতে এসআইআর জরুরি ছিল। তাই অসুস্থ থাকলেও এসেছি। আমার দুই ছেলেকেও শুনানিতে ডেকেছে। একজনের শুনানি হয়েছে। অন্যজন বেঙ্গালুরুতে থাকে। তার ক্ষেত্রে কী হবে, বুঝতে পারছি না। 
এদিকে, এসআইআর নিয়ে চরম হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জ্যোতিনগর কলোনির বাসিন্দা ভোলা ঘোষ। তিনি মিষ্টির কারিগর। সিকিমে কাজ করেন। ২০১৩ সাল থেকে শিলিগুড়ির ভোটার। ২০০২ সালের তালিকায় নাম না থাকায় তাঁকে শুনানিতে হাজির হতে হয়েছে। তিনি বলেন, আধারকার্ড, প্যানকার্ড নিয়ে শুনানিতে আসি। সেটা হবে না বলে অফিসাররা জানিয়ে দিয়েছেন। বাবা-মায়ের ভোটারকার্ড কিংবা জন্মের সার্টিফিকেট চাইছেন। ওসব নেই। দাদাকে নিয়ে এসেও লাভ হয়নি। বাড়ির দলিলও জমা দিয়েছি। কাজ বাদ দিয়ে এখানে এসে হয়রান হতে হল। এবার হয়তো ‘নিজভূমে পরবাসী’ হতে হবে। অন্যদিকে, দু’দিন ধরে দার্জিলিং জেলায় শুনানি চললেও ময়দানে কংগ্রেস ও সিপিএমের দেখা নেই। শিলিগুড়ি সহ প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্র ক্যাম্প করেছে তৃণমূল ও বিজেপি। রবিবার শিলিগুড়ি এসডিও অফিসের সামনের ক্যাম্পে মেয়র গৌতম দেব, বিএলএ-১ পাপিয়া ঘোষ ছিলেন। পাপিয়া বলেন, শুনানিতে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার পরও বাবা-মা’কে হাজির করতে হয়েছিল এক ভোটারকে। আর বিডিও অফিসগুলিতে ভোটারদের লম্বা লাইন। এজন্যই প্রতিটি জায়গায় হয়রান হচ্ছেন ভোটাররা।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ