সংবাদদাতা, কান্দি: গর্ভে ন’মাসের সন্তান। এসময়ে চিন্তা না করে হাসিখুশি থাকতে বলেছেন চিকিৎসক। কিন্তু, কান্দি পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বধূ পুতুল দাসকে এখন এসআইআর আতঙ্ক গ্রাস করেছে। কারণ চিকিৎসক ওই বধূকে ডেলিভারির জন্য যে তারিখ দিয়েছেন, ওই দিনই তাঁকে কান্দি বিডিও অফিসে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে। নোটিস আসার পর থেকেই ওই বধূর পরিবার দুশ্চিন্তায় ভুগছে। একই অবস্থা কান্দি ব্লকের ৭১ বছরের পক্ষাঘাতগ্রস্ত বৃদ্ধা মাকসুরা বিবির। আজ, শুক্রবার তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে। তাঁকে ৪০কিমি দূরে কীভাবে নিয়ে যাওয়া হবে-তা নিয়ে পরিবার চিন্তিত। কান্দির বিধায়ক অপূর্ব সরকার ও পুরসভা অবশ্য দুই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে। দু’জনকেই অ্যাম্বুলেন্সে করে শুনানি কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কান্দি শহরের ছাতিনাকান্দির বাসিন্দা পুতুল দাস। তাঁর স্বামী বাপন দাস পেশায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। কোনওমতে দিন চলে। পুতুলদেবী গর্ভবতী হওয়ায় সংসারে আনন্দের ছোঁয়া লেগেছিল। কিন্তু আগামী মঙ্গলবার ডেলিভারির তারিখে শুনানির নোটিস আসার পর থেকেই পুরো ছবিটা পাল্টে যায়। এখন দিনরাত নেতাদের কাছে ছুটোছুটি শুরু করছেন বাপনবাবু। তিনি বলেন, চিকিৎসকের কাছে গেলে বলছেন, কিছু করার নেই। নেতাদের কাছেও দরবার করছি। এসআইআরে নাম বাদ গেলে কী হবে-সেই আতঙ্কও তাড়া করছে। সবমিলিয়ে, আমি পাগল হতে বসেছি।
পুরো ঘটনায় চরম দুশ্চিন্তায় ভুগছেন তাঁর অন্তঃসত্ত্বা বধূও। পুতুলদেবী বলেন, এসময় টেনশন করা যাবে না, সেটা ডাক্তাররা বলে দিয়েছেন। কিন্তু এই অবস্থায় নড়াচড়াও করতে পারছি না। প্রসবযন্ত্রণা নিয়ে কীভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে থাকব-তা নিয়ে চিন্তা হচ্ছে।
কান্দির বিধায়ক অপূর্ব সরকারের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বাপনবাবু। বিধায়ক বলেন, চিকিৎসকের সঙ্গে কথা হয়েছে। দুপুরের দিকে যাতে প্রসব করানো যায়-তা নিয়ে আলোচনা করেছি। আশা করছি, দুপুরের আগেই শুনানির কাজ শেষ হবে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই ওই বধূর বাড়ির সামনে কান্দি পুরসভার অ্যাম্বুলেন্স রাখা হবে। আমরা পরিস্থিতি বুঝে ব্যবস্থা নেব। তবে এটা বলা যায়, সবটাই ভাগ্যের উপর নির্ভর করছে। কান্দির মহালন্দি পঞ্চায়েতের বুনিয়াদিপাড়ার বাসিন্দা মাকসুরা বিবি। দু’বছর আগেই ঘুমন্ত অবস্থায় স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। তখন থেকেই শরীরের ডানদিক পক্ষাঘাতগ্রস্ত। এরপর থেকে শয্যাশায়ী হয়ে পড়ে রয়েছেন। কথা অস্পষ্ট। নিজের হাতে খাবারও খেতে পারেন না। ছেলে-বউমারা স্নান, কাপড় পরিয়ে দেওয়ার কাজ করেন। এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে।
বৃদ্ধার বউমা তহিমিনা বিবি বলেন, আমরা গরিব মানুষ। কীভাবে অত দূরে ওঁকে নিয়ে যাব-ভেবে দিশেহারা হয়ে পড়ছি। বৃদ্ধাও অস্পষ্ট কথায় বলেন, ‘আমাকে নিয়ে যাও তোমরা’।তবে এই সমস্যার অনেকটা সমাধান হয়েছে। পরিবারের লোকজন কান্দির বিধায়কের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। এদিন অপূর্ববাবু বলেন, নির্বাচন কমিশনের যা নিয়ম-তাতে বৃদ্ধা শুনানিতে হাজির না হলে আগামীতে তাঁর পরিবার সমস্যায় পড়তে পারে। সেই জন্য কান্দি পুরসভাকে বিনা খরচে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। কান্দি পুরসভার চেয়ারম্যান জয়দেব ঘটক বলেন, শুক্রবার ওই বৃদ্ধার বাড়িতে অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হবে। আর মঙ্গলবার ওই অন্তঃসত্ত্বা বধূর বাড়িতে আমরা অ্যাম্বুলেন্স পাঠাব। প্রয়োজনে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেব।