Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দক্ষিণবঙ্গজুড়ে এসআইআর: ভীষণ কাজের চাপ, প্রশাসনের বৈঠক ছাড়লেন ক্ষুব্ধ বিএলওরা

শুক্রবার দুপুরে সামশেরগঞ্জে নিমতিতা পঞ্চায়েত ভবনে বিএলওদের নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়।

দক্ষিণবঙ্গজুড়ে এসআইআর: ভীষণ কাজের চাপ, প্রশাসনের বৈঠক ছাড়লেন ক্ষুব্ধ বিএলওরা
  • ১৫ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: শুক্রবার দুপুরে সামশেরগঞ্জে নিমতিতা পঞ্চায়েত ভবনে বিএলওদের নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়। সেখানে অত্যধিক কাজের চাপ, দুর্বল অনলাইন সিস্টেম সহ একাধিক অভিযোগ তোলেন বিএলওরা। প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। তারপরেই প্রশাসনের ডাকা বৈঠক থেকে বেরিয়ে যান তাঁরা। বিএলওদের দাবি, প্রায় প্রতিদিনই মৌখিকভাবে নতুন নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। বাস্তবে সেই কাজ করতে বেগ পেতে হচ্ছে। যথেষ্ট সময়, কাজের পরিবেশ ও পরিকল্পিত লিখিত নির্দেশ ছাড়া কাজ করবেন না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা। যদিও এবিষয়ে মিটিংয়ে উপস্থিত প্রশাসনিক কর্তারা কোনও মন্তব্য করতে চাননি। এপ্রসঙ্গে জঙ্গিপুরের মহকুমা শাসক সুধীরকুমার রেড্ডি বলেন, অনলাইনে কাজ করতে সমস্যা হলে সেটা সময় নিয়ে করতে হবে। এক্ষেত্রে কী সমস্যা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে।

Advertisement

সামশেরগঞ্জের বিডিও সুজিতচন্দ্র লোধ বলেন, বিএলওরা কয়েকটি বিষয়ে জানতে চান। কিছু অপশনাল বিষয় থাকে, তারজন্য লিখিতভাবে ঘোষণার প্রয়োজন নেই। তাছাড়া সবকিছু নিজেদের দাবি মোতাবেক হয় না।
প্রাশসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সামশেরগঞ্জ ব্লকের নিমতিতায় বিএলওদের নিয়ে জরুরি মিটিংয়ে ডাকা হয়। সেই মিটিংয়ে ৩১জন বিএলও উপস্থিত হন। মিটিংয়ে বিএলওদের ১০০ শতাংশ এসআইআর ফর্ম বিতরণের জন্য চাপ দেওয়া হয় বলে দাবি। এছাড়া ফিলআপ করা ইনিউমারেশন  ফর্ম অনলাইনে আপলোড করারও নির্দেশ দেন। অনলাইনে কীভাবে ফর্ম আপলোড করা হবে সে বিষয়ে উপস্থিত বিএলওদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণের সময় অনলাইনে ফর্ম ফিলআপ করতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। অনলাইনে ফর্ম আপলোডের সময় তা ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। তাঁদের দাবি, ফর্ম ফিলআপই করতেই ১৫-২০ মিনিট সময় লাগছে। এছাড়াও ছবি আপলোড করতেও আরও বেশি সময় ব্যয় হচ্ছে। যা নিয়ে অতিরিক্ত কাজের চাপ নেওয়া সম্ভব নয় বলে বিএলওরা জানান। অবিলম্বে তাঁরা স্পষ্ট নির্দেশিকা ও কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
বিএলও শাহনাওয়াজ খান চৌধুরী বলেন, আমাদের মিটিংয়ে ডাকা হয়। সেখানে বলা হচ্ছে ১০০ শতাংশ ফর্ম বিতরণ দেখাতে হবে। এটা ভাঙন কবলিত এলাকা, অনেকেই অন্যত্র চলে গিয়েছে। তাদের খুঁজে পেতে সমস্যা হচ্ছে। তাছাড়া আমাদেরই অনলাইনে ফর্ম আপলোড করতে বলছেন। যিনি আমাদের শেখাচ্ছিলেন তিনি নিজেই একটিও ফর্ম আপলোড করতে পারেননি। অপর বিএলও পূরবী সিংহ বলেন, আমরা ফর্ম বিতরণ, সংগ্রহ সবই করব, তবে অনলাইনে ডেটা এন্ট্রি করতে পারব না। আমরা অনলাইনে দক্ষ নই, তাছাড়া একটা ফর্মে ১৫ মিনিটের বেশি সময় লাগছে। ১৪০০ ফর্মের কাজ এই অল্প সময়ের মধ্যে কীভাবে সম্পন্ন করব। বিষয়টা নির্বাচন কমিশন গুরুত্ব দিয়ে দেখুক।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ