সংবাদদাতা, হিলি: দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার প্রাচীন ঐতিহ্য খাঁপুরের সিংহবাহিনী মন্দির রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি উঠল। খাঁপুর গ্রামে এই মন্দিরটি অবহেলা-অযত্নে ধ্বংসের মুখে। জেলার ইতিহাসপ্রেমী মানুষ ও জেলা হেরিটেজ সোসাইটি বহুদিন ধরে মন্দিরটিকে হেরিটেজ তালিকাভুক্ত করার জোরালো দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু, প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ না করায় তাঁরা হতাশ। অবিলম্বে সিংহবাহিনী মন্দির সংরক্ষণ না করলে জেলার এই অমূল্য ঐতিহ্য হয়তো কালের গর্ভে হারিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা ইতিহাসবিদ ও সংস্কৃতি প্রেমীদের।
গবেষকদের মতে, এই টেরাকোটা মন্দিরটির স্থাপত্য শৈলী পাল ও সেন যুগের শিল্পভাবনার স্মৃতি বহন করে। মন্দিরের গায়ে ফুল, লতা-পাতা ও শিকারের টেরাকোটার কাজের অপূর্ব শিল্প কারুকার্যের বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। মন্দিরটির উল্লেখ পাওয়া যায় ১৭১০ সালে ওরঙ্গজেবের পৌত্রের সুবেদারিতে রচিত একটি দলিলে এবং ১৮৩৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ফার্সি ভাষায় লেখা মুর্শিদাবাদের একটি প্রাদেশিক মামলার রায়ে।
বিশিষ্ট গবেষক সমিত ঘোষ বলেন, খাঁপুরের সিংহবাহিনী মন্দিরটি রক্ষা করতে অতিদ্রুত পদক্ষেপ জরুরী। দীর্ঘসময় ধরে অবহেলায় মন্দিরের অনেকাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একমাত্র হেরিটেজ ঘোষণা করা হলেই মন্দিরটিকে রক্ষা করা সম্ভব। তিনি মনে করেন, সিংহবাহিনী মন্দির ও পার্শ্ববর্তী তেভাগা আন্দোলনের শহীদ স্মৃতি নিয়ে এলাকায় একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগও নেওয়া যেতে পারে।
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা হেরিটেজ সোসাইটির সম্পাদক দীপক মণ্ডল বলেন, আমরা একাধিকবার রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার এবং জেলা প্রশাসনের কাছে সিংহবাহিনী মন্দির রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছি। রাজ্য হেরিটেজ কমিশন দু’বার মন্দির পরিদর্শনও করেছে। কিন্তু, কার্যকর পদক্ষেপ না হওয়ায় আমরা অত্যন্ত হতাশ। এবিষয়ে বালুরঘাটের বিডিও সম্বল ঝা বলেছেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনব। নিজস্ব চিত্র