পাকিস্তান: ১২৭/৯
ভারত: ১৩১/৩ (১৫.৫ ওভার)
পাকিস্তান: ১২৭/৯
ভারত: ১৩১/৩ (১৫.৫ ওভার)
দুবাই: ‘তুম দুধ মাঙ্গোগে হাম ক্ষীর দেঙ্গে, তুম কাশ্মীর মাঙ্গোগে হাম চির দেঙ্গে’... গদর সিনেমায় তারা সিংয়ের (সানি দেওল) সেই ডায়লগ এখনও ঠোঁটস্থ আসমুদ্রহিমাচলের। রবিবার দুবাইয়ের ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে এশিয়া কাপের ম্যাচের আগে নিশ্চয়ই তা আউড়ে ছিল টিম ইন্ডিয়ার নক্ষত্ররা। তাই ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর পার্ট টু দেখিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের মন জয়ে সফল গৌতম গম্ভীর-ব্রিগেড। আসলে পহেলগাঁও কাণ্ড মন থেকে মুছে ফেলতে পারেননি কুলদীপ যাদব-অক্ষর প্যাটেলরা। তাই টসের সময় বিপক্ষ ক্যাপ্টেন সলমন আগার সঙ্গে করমর্দনের সৌজন্য দেখাননি সূর্যকুমার যাদব। কারণটা জানেন? ‘এভরিথিং ইজ ফেয়ার ইন লাভ অ্যান্ড ওয়ার।’ আর ভারতীয় ক্রিকেটারদের আছে এই ম্যাচ নিছকই খেলা নয়, যুদ্ধও বটে। রবিবার দেশপ্রেমে শান দিয়েই সেরা পারফরম্যান্স মেলে ধরলেন তাঁরা। নিট ফল, ৭ উইকেটে পাকিস্তান বধ এবং সুপার ফোর নিশ্চিত।
রবিবারের ম্যাচে ভারতই যে হট ফেভারিট তা জানার জন্য বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ, টিম ইন্ডিয়ার কাছে পাকিস্তান নেহাতই দুধেভাতে। না হলে হাসান নওয়াজের আউটটা মনে করুন। ওভারের তৃতীয় বলে সহজ কট অ্যান্ড বোল্ডের সুযোগ নষ্ট করেন কুলদীপ। কিন্তু তাঁর হাবেভাবে বিন্দুমাত্র আপশোস নেই। কারণ বাঁ হাতি চায়নাম্যান জানেন, পাকিস্তান ব্যাটারদের রিংটোন হল, ‘এলি আর গেলি।’ ঠিক তার পরের বলেই অক্ষরের হাতে ধরা পড়লেন হাসান। শেষ ওভারে হার্দিক পান্ডিয়া একটু বেসামাল না হলে লজ্জা আরও বাড়ত ওয়াঘা পারের দেশের। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান তোলে ১২৭ রান। সর্বাধিক রান শাহিবজাদা ফারহানের (৪০)। তারপরেই বোলার শাহিন শাহ আফ্রিদি (৩৩ নট আউট)। ৩ উইকেট নিয়ে ভারতের সফলতম বোলার কুলদীপ যাদব। ম্যাচের সেরাও তিনি। দু’টি করে শিকার যশপ্রীত বুমরাহ ও অক্ষর প্যাটেলের। ম্যাচের দ্বিতীয় বলেই সায়িম আয়ুবকে ডাগ-আউটে ফেরান হার্দিক। তখনই বোঝা গিয়েছিল, এই পাকিস্তানের বেশি দূর দৌড়নোর ক্ষমতা নেই। মিডল অর্ডারকে মাথা তুলে দাঁড়াতে দেয়নি ভারতের স্পিন আক্রমণ।
ব্যাটিংয়েও শুরুটা গোলাগুলি চালিয়েই করেন অভিষেক শর্মা ও শুভমান গিল। খেলা দেখে মনে হচ্ছিল, দশ ওভারেই ইতি টানবেন তাঁরা। তবে দ্বিতীয় ওভারে আউট হন শুভমান। কিন্তু অভিষেকের তাণ্ডবে পিছু হটে পাকিস্তান। ১৩ বলে তাঁর অবদান ঠিক উল্টো, ৩১। রয়েছে ৪টি বাউন্ডারি এবং ২টি বিশাল ওভার-বাউন্ডারি। শাহিন আফ্রিদিদের আত্মবিশ্বাস গুঁড়িয়ে দেওয়ার সময় তাঁর ব্যাটে কান পাতলে শোনা যাচ্ছিল, ‘হামারা হিন্দুস্তান জিন্দাবাদ থা, জিন্দাবাদ হ্যায় আওর জিন্দাবাদ রহেগা।’
দুই ওপেনার ফিরে যাওয়া সত্ত্বেও রান তোলার গতিতে হেরফের হয়নি ভারতের। সূর্যকুমার যাদব ও তিলক ভার্মার সাবলীল ব্যাটিংয়ে ভারত এগিয়ে চলে জয়ের লক্ষ্যে। এই পর্বে পাকিস্তান ক্রিকেটারদের কাজ ছিল, ফিল্ডিং খেটে যাওয়া। বল হাতে আবরার, মহম্মদ নাওয়াজ, সুফিয়ান মুকিমরা নিতান্তই এলেবেলে। বডি ল্যাঙ্গুয়েজে স্পষ্ট, হারার আগেই মাথা নত করে দিয়েছেন তাঁরা। সত্যিই কী দুরবস্থা ইমরান খান, ওয়াসিম আক্রামদের উত্তরসূরিদের! তিলক ভার্মার ক্যাচ যেভাবে নাওয়াজ মিস করলেন তা দেখে মনে হচ্ছিল তিনি খেলতে নয়, নাচতে নেমেছেন।
দলের ৯৭ রানে তিলক ভার্মা ডাগ-আউটে ফিরলেও ততক্ষণে জয়ের গন্ধ পেয়ে গিয়েছে ভারত। সুফিয়ান মুকিমের বলে লম্বা ছক্কা মেরে ২৫ বল বাকি থাকতেই দলকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিলেন সূর্যকুমার যাদব (৪৭ নট আউট) ও শিবম দুবে (১০ নট আউট)। ম্যাচ শেষে দুবাইয়ের স্টেডিয়ামে উড়ল ভারতের ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকা। আর পাকিস্তান সমর্থকরা? হারের অন্ধকারে মুখ লোকাতে ব্যস্ত।