নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: অনলাইনে এসআইআরের কাজ নিয়ে আপত্তি তুলেছেন বিএলওদের একাংশ। তাঁরা বিক্ষোভও দেখিয়েছেন। তা সত্ত্বেও শিলিগুড়িতে একদিনে ইনিউমারেশন ফর্ম ডিজিটাইজেশন হয়েছে প্রায় ৫ শতাংশ। একইসঙ্গে প্রশাসন বিএলওদের পারফরম্যান্স পর্যালোচনা করছে। ইতিমধ্যে তাদের তলিকায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষক, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও বিয়ে ঠিক হওয়া শিক্ষকের নাম ঠাঁই পেয়েছে। প্রশাসন তাঁদের সম্মানীত করতে পারে বলে খবর।
শিলিগুড়ির মহকুমা শাসক ভিকাশ রুহেলা বলেন, মহকুমার তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রায় অধিকাংশ ভোটারের বাড়িতে ইনিউমারেশন ফর্ম বিলি করা হয়েছে। এখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংশ্লিষ্ট ফর্ম ডিজিটাইজেশনের কাজ চলছে। বিএলও’রা তা সুষ্ঠুমতো করছেন।
ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে ইনিউমারেশন ফর্ম অনলাইনে ফিলআপ করতে ভোটারদের সহযোগিতা করার নির্দেশ বিএলওদের দেওয়া হয়েছে। এজন্য শনিবার শিলিগুড়ির দীনবন্ধু মঞ্চে একটি প্রশিক্ষণ শিবির করে প্রশাসন। তা নিয়ে আপত্তি তুলেই কয়েকজন বিএলও সংশ্লিষ্ট মঞ্চ চত্বরে বিক্ষোভ দেখান। রবিবার কয়েকজন বিএলও ভোটারদের বাড়ি থেকে ফর্ম সংগ্রহ করলেও তা ডিজিটাইজেশন করেননি।
শহরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিএলও সৌমেন মল্লিক বলেন, এসআইআরের শুরুতেই ভোটারদের বাড়িতে ফর্ম বিলি ও সংগ্রহ করার দায়িত্ব বিএলওদের দেওয়া হয়েছিল। এখন হঠাৎ করেই কমিশন বিএলওদের অনলাইনে ফিলআপ করে দিতে বলছে। যা করা সম্ভব নয়। তাই আমরা ফর্ম ফিলআপ করছি না। তা ভোটারদের কাছ থেকে সংগ্রহ করছি। শীঘ্রই সেগুলি কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হবে।
কয়েকজন বিএলও আপত্তি তুললেও ওইদিন অনলাইন কিংবা ডিজিটাইজেশনের প্রশিক্ষণ শিবির সফল হয়েছিল বলে প্রশাসনের দাবি। প্রশাসন সূত্রের খবর, মহকুমার শিলিগুড়ি, মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি ও ফাঁসিদেওয়া বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৮ লক্ষ ৪ হাজার। অধিকাংশের মধ্যে ইনিউমারেশন ফর্ম বিলি করা হয়েছে। এবার ভোটারদের তথ্য অ্যাপের মাধ্যমে মোবাইল ফোন কিংবা কম্পিউটারের মাধ্যমে কমিশনের নির্দিষ্ট সাইটে আপলোড করা হচ্ছে। একেই বলে ডিজিটাইজেশনের কাজ। শনি থেকে রবিবার বিকেল পর্যন্ত মহকুমায় এই কাজের হার প্রায় ৫ শতাংশ। ফাঁসিদেওয়া বিধানসভা কেন্দ্রে এনিয়ে মানুষের মধ্যে আগ্রহ বেশি। ইতিমধ্যে সেখানে কয়েক হাজার মানুষের ফর্ম ডিজিটাইজেশন হয়েছে।
এদিকে, বিএলওদের কাজও প্রশাসন মূল্যয়ন করছে। প্রশাসন সূত্রের খবর, এক বিএলও’র বিয়ে আগামী ৩০ নভেম্বর। বিয়ের প্রস্তুতির পাশাপাশি তিনি এসআইআরের কাজ করছেন। তাঁকে একজন সহায়ক দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে একজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষক, একজন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এসআইআরের কাজ গুরুত্ব দিয়ে করছেন। প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, ওই বিএলওদের কাজ প্রশংসনীয়। এবিষয়ে জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের কাছে জানানো হবে। তাঁরা এব্যাপারে যা নির্দেশ দেবেন, সেইমতো পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে এসআইআরের শুরুর দিকে কয়েকজন রাজি ছিলেন না। এখন সকলেই প্রায় কাজটা করছেন।