সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: জলের আরএক নাম জীবন। সেই জল নিয়েই এবার অসহযোগিতার অভিযোগ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে! এমন অভিযোগ তুলেছেন পুরসভার জল সরবরাহ বিভাগের মেয়র পরিষদ সদস্য দুলাল দত্ত। তাঁর অভিযোগ, ছ’মাস আগে আবেদন করা হলেও মেগা জল প্রকল্পের ইনটেক ওয়েলের অনুমোদন দেয়নি কেন্দ্রীয় সরকার। ফলে প্রকল্পটি ঝুলছে। পাল্টা, পুরসভার বিরোধী দলনেতা বিজেপির অমিত জৈনের দাবি, নিজেদের ব্যর্থতা ধামাচাপা দিতেই ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে এরা। দু’পক্ষের মধ্যে এমন তরজা চললেও শহরে পানীয় জলের সংকট অব্যাহত। শীতে বেশকিছু এলাকায় চাহিদা মতো জল মিলছে না। এনিয়ে নাগরিকরা রীতিমতো ক্ষুব্ধ। পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্যাংক নামিয়েছে পুরসভা।
১০০ দিনের কাজ, রাস্তা, আবাস সহ বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এবার শিলিগুড়ি শহরের মেগা জল প্রকল্প নিয়েও সেই অভিযোগ উঠেছে। পুরসভা সূত্রে খবর, শহরের ৫০০ কোটিরও বেশি টাকায় গড়া হচ্ছে মেগা জল প্রকল্প। এটি দু’টি পর্যায়ে গড়া হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে অপরিস্রুত জল নিয়ে আসার পাইপ লাইন বসানো, পাম্প ও পাওয়ার হাউস এবং জেটি, ইনটেক ওয়েল তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। গজলডোবায় তিস্তা নদীতে ইনটেক ওয়েল করা হবে। তারজন্য কেন্দ্রীয় সরকারের বন্যপ্রাণ বিভাগের অনুমতির প্রয়োজন। এজন্য ছ’মাস আগে নির্দিষ্ট পোর্টালে আবেদন করা হলেও তা মেলেনি।
পুরসভার জল সরবরাহ বিভাগের মেয়র পারিষদ বলেন, মেগা জল প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে অপরিস্রুত জলের পাইপ লাইন পাতার কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্র অনুমোদন না দেওয়ায় ইনটেক ওয়েল তৈরির পরিকল্পনা আটকে আছে। কেন্দ্রের অসহযোগিতা মানা যায় না। বিরোধীরা শুধু অহেতুক কিছু বিষয়ে হাওয়া গরম করার চেষ্টা করছে।
যদিও এমন অভিযোগ মানতে নারাজ পুরসভার বিরোধী দলনেতা। তিনি বলেন, প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ের কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে করার কথা। জল প্রকল্প গড়ার অভিজ্ঞতা না থাকলেও পুরসভা নিজে প্রকল্পটি তৈরি করছে। ওরা সময়ের মধ্যে কোনও কাজই করতে পারছে না। বিধানসভা ভোটের মুখে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে। উভয়পক্ষের এমন চাপানউতোর চললেও শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে জল সংকট অব্যাহত। কিছু জায়গায় কল দিয়ে নিয়মিত জল পড়ছে না। কিছু জায়গায় জলের ফোর্স নেই। সুতোর মতো জল পড়ছে। কোনও কোনও দিন নির্ধারিত সময়ের কম সময় জল সরবরাহ করা হচ্ছে। এনিয়ে নাগরিকরা তিতিবিরক্ত। তাঁদের বক্তব্য, শাসক-বিরোধী সকলে গলা ফাটালেও জল সংকট মেটেনি। শীতেও জল অপ্রতুল। মেয়র পারিষদ বলেন, শহরের যে এলাকাগুলিতে জল নেই, সেই এলাকাগুলিতে ট্যাংক পাঠানো হয়েছে। ফাইল চিত্র