নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: শিলিগুড়ির ইস্টার্ন বাইপাস ও সেভক রোড দুষ্কৃতীদের আখড়া হয়ে উঠেছে। এই অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মহল থেকে উঠে আসছিল। আর এমন অভিযোগ যে পুরোপুরি মিথ্যে নয়, তা ফের একবার প্রমাণিত হল নিউ জলপাইগুড়ি এবং ভক্তিনগর থানার দু’টি পৃথক অভিযানে চার দুষ্কৃতী গ্রেপ্তার হওয়ার পর। সেভক রোড এবং ঠাকুরনগরে গণ্ডগোল পাকানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের।
প্রথম ঘটনাটি সেভক রোডের। ২৭ জুলাই সেভক রোডের একটি বারে ঢুকে তোলাবাজির চেষ্টা, বারের কর্মীদের মারধর করা এবং বারের সম্পত্তি নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছিল তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ নিয়ে ভক্তিনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। তবে শেষ পর্যন্ত রবিবার রাতে অভিযুক্ত তিনজনের নাগাল পায় পুলিস। তাদের গ্রেপ্তার করে ভক্তিনগর থানা।
পুলিস জানিয়েছে, ধৃতরা হল শুভঙ্কর পাল, বিজয় সরকার এবং মহম্মদ শাহনওয়াজ হোসেন। এই তিনজনের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক জায়গায় তোলাবাজির করার অভিযোগ ছিল। বারে ঢুকে, ক্যাফেতে গিয়ে ‘হপ্তা’ নিত এরা। বাণিজ্যিক এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছিল এই তিন যুবক। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হলেও গা ঢাকা দেওয়ায় পুলিস এদের নাগাল পাচ্ছিল না। তবে জোরদার তল্লাশি অভিযানে নেমে পুলিস সাফল্য পায়। রবিবার রাতে শিলিগুড়ি শহরেরই দশরথপল্লি থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে ভক্তিনগর থানার পুলিস। তদন্তকারী অফিসারদের সূত্রে জানা গিয়েছে, এর আগেও এলাকায় বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ঢুকে ভয় দেখিয়ে টাকা-পয়সা আদায় করেছিল। এদের সঙ্গে আরও কয়েকজন আছে। পুলিস এবার তাদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে।
অন্যদিকে, ঠাকুরনগরে একটি দোকানের সামনে ঝামেলা পাকানোর জেরে দোকান মালিক এবং কয়েকজন যুবকের সঙ্গে গণ্ডগোল বেঁধেছিল। দোকান মালিক ও তাঁর পরিবারের সদস্য এবং প্রতিবেশীদের মারধর করার অভিযোগ উঠেছিল একদল দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। প্রায় দু’মাস আগের ওই ঘটনার পরই ছ’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার রাতে ওই দলের আরও এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করে এনজেপি থানা।
পুলিস জানিয়েছে, ধৃতের নাম আশিস সরকার ওরফে উত্তম। তার বাড়ি ঠাকুরনগরেই। এলাকায় সম্প্রতি তৈরি হয়েছে একাধিক দুষ্কৃতী দল। এরা দলবেধে ঝামেলা করে। ভয় দেখিয়ে একাধিক কাজ হাসিল করাই এদের উদ্দেশ্য।
শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিসের ডিসিপি (পূর্ব) রাকেশ সিং বলেন, পুরনো দু’টি মামলায় মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাগুলির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও জালে তোলা হবে।