সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: এযেন রাম জন্মানোর আগেই রামায়ণ! শিলিগুড়ি পুরসভায় জমা পড়া একটি ডিজিটাল বার্থ সার্টিফিকেটের আবেদন নিয়ে এমন মন্তব্য পুরকর্মীদের। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, সার্টিফিকেট ইস্যু হওয়ার দু’বছর আগের তারিখ দিয়ে জন্ম-মৃত্যু বিভাগের রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষর রয়েছে। এনিয়ে পুরকর্মীদের সন্দেহ সংশ্লিষ্ট সার্টিফিকেট জাল। নেপথ্যে বড় ধরনের জালিয়াতি চক্র রয়েছে বলেই সন্দেহ। সার্টিফিকেট ডিজিটাইজ করার ক্ষেত্রেও দালাল চক্র সক্রিয় বলে অভিযোগ। সমগ্র ঘটনা খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ।
রাজ্য সরকারের নির্দেশে জন্মের সার্টিফিকেট ডিজিটাল করছে পুরসভা। এজন্য আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। সেরকমই কিছু আবেদন সন্দেহজনক বলে মনে হয়েছে পুরসভার কর্মীদের। পুরসভা সূত্রে খবর, জন্মের শংসাপত্র ডিজিটাইজ করার জন্য ১০টাকার ফর্মে আবেদন করা নিয়ম। সঙ্গে পুরনো শংসাপত্রের আসল কপি, বাবা ও মা’র আধারকার্ডের ফটোকপি, ফোন নম্বর জমা দিতে হয়। কিন্তু জমা হওয়া কিছু সার্টিফিকেটের ফটোকপিতে সেটি ইস্যু হওয়ার ও রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষরের তারিখের মধ্যে ফারাক রয়েছে। কোনওটিতে রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষরই নেই। কয়েকটিতে আবার অবসরপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষর রয়েছে। আবার কোনওটির তারিখ, সই কাটাকাটি করা হয়েছে।
শিলিগুড়ি পুরসভার জন্ম-মৃত্যু বিভাগের মেয়র পরিষদ সদস্য অভয়া বসু বলেন, বেশকিছু জন্ম সার্টিফিকেট খতিয়ে দেখে সন্দেহজনক বলে মনে হচ্ছে। সেগুলি আলাদভাবে ফাইলবন্দি করে রাখা হয়েছে। শীঘ্রই এ ব্যাপারে মেয়র গৌতম দেবের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ও নেপাল সীমান্তবর্তী এই শহরে জালিয়াতি চক্র অনেকদিন ধরে সক্রিয়। বিভিন্ন সময় এখানে ধৃত বাংলাদেশিদের কাছ থেকে জাল ভোটার ও আধারকার্ড মিলেছে। এবার হদিশ মিলল জাল সার্টিফিকেটের। পুরসভার এক অফিসার জানান, কয়েকদিন আগে একটি বার্থ সার্টিফিকেট ডিজিটাইজ করার আবেদন জানান এক ব্যক্তি। ওই সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয় ২০০৫সালের মার্চ মাসে। সেটিতে জন্ম-মৃত্যু বিভাগের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষর করেছেন ২০০৩সালের মার্চ মাসে। অর্থাৎ রাম জন্ম নেওয়ার আগে রামায়ণ রচনা হওয়ার মতো ঘটনা। স্বাভাবিকভাবেই সংশ্লিষ্ট সার্টিফিকেট জাল বলেই মনে হচ্ছে। এধরনের বেশকিছু সন্দেহজনক সার্টিফিকেট রয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আসল সার্টিফিকেট হারিয়ে যাওয়ার অজুহাত দিয়ে ফটোকপি থেকে ডিজিটাল সার্টিফিকেট করার আবেদন জানানো হয়েছে। এর পিছনে বড়ধরনে