Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শিলিগুড়িতে ডাকাতি: ইউপি থেকে ৩ জনকে ধরে আনল পুলিস

শিলিগুড়ির জুয়েলারি দোকানে ডাকাতির ঘটনায় উত্তরপ্রদেশ থেকে ধরে আনা হল আরও তিন দুষ্কৃতীকে। মঙ্গলবার সড়ক পথে তাদের নিয়ে আসা হয় শিলিগুড়ি।

শিলিগুড়িতে ডাকাতি: ইউপি থেকে ৩ জনকে ধরে আনল পুলিস
  • ২ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: শিলিগুড়ির জুয়েলারি দোকানে ডাকাতির ঘটনায় উত্তরপ্রদেশ থেকে ধরে আনা হল আরও তিন দুষ্কৃতীকে। মঙ্গলবার সড়ক পথে তাদের নিয়ে আসা হয় শিলিগুড়ি। ধৃতদের মধ্যে মা ও ছেলে ছাড়াও রয়েছে একজন পুরুষ। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ছ’জন গ্রেপ্তার হল। তদন্তকারী অফিসারদের সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছু সোনা ও রুপো উদ্ধার হয়েছে। যদিও তা ডাকাত দলের নিয়ে যাওয়া মূল্যবান ধাতুর যৎসামান্য। 

Advertisement

উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ের কাছে কাশগঞ্জ থেকে তিনজনকে শিলিগুড়ি থানায় নিয়ে আসে পুলিসের তদন্তকারী বিশেষ দল। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতদের নাম সুমিত কুমার ওরফে রাহুল, কমলেশদেবী ও শ্যাম সিং। এদের প্রত্যেকের বাড়ি উত্তরপ্রদেশের দাদরে। এদের মধ্যে কমলেশদেবী ও সুমিত মা ও ছেলে। শ্যাম দলের প্রবীণ সদস্য। এর কাজ ডাকাতি করে আনা সামগ্রী বিক্রি করা। 
শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিসের ডিসিপি (পূর্ব) রাকেশ সিং বলেন, আমরা ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করছি। তাদের থেকে একাধিক তথ্য মিলেছে। সবটাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ডিসিপি (পশ্চিম) বিশ্বচাঁদ ঠাকুর বলেন, ওই দলের কেউ বাইরে থেকে গাইডের কাজ করে থাকতে পারে। আমরা সবদিক খতিয়ে দেখছি। 
জুয়েলারি দোকানে ডাকাতির সময় পুলিসের গতিবিধির উপর শ্যেন দৃষ্টিতে হাসমিচকের ট্রাফিক পয়েন্টের বিপরীতে দাঁড়িয়ে নজরদারি চালাচ্ছিল দলের ‘গাইড’ এক সদস্য। গ্রেপ্তার ছ’জনকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদের পর এমনই তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারী অফিসারা। যদিও ধৃতদের মধ্যে কেউ সেই ‘গাইড’ নয়। 
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ডাকাতির পর দাদর জেলার বাড়ি ছেড়ে কাশগঞ্জে ভাড়া নেওয়া বাড়িতে ছিল সুমিত ও কমলেশদেবী। বাড়ির চারদিকে উঁচু দেওয়াল। ঘটনার পর উত্তরপ্রদেশ পুলিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে শিলিগুড়ির তদন্তকারীরা জানতে পারেন কয়েক বছর আগে সুমিতের বিরুদ্ধে পুলিসকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ ছিল। সিসি ক্যামেরায় ছবি দেখার পর সুমিতের কাশগঞ্জে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে স্থানীয় পুলিস। রাতে উঁচু দেওয়াল টপকে অভিযান শুরু করে তিনজনকে একসঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের হেফাজত থেকে কয়েকশো গ্রাম সোনা ও রুপোর সামগ্রী উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিস। তবে লুট হওয়া সামগ্রীর পরিমাণের কাছে উদ্ধার সামগ্রী অতিসামান্য বলে দাবি করছেন তদন্তকারী অফিসাররা। 
গত রবিবার উত্তরপ্রদেশের আদালত থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়ে আসার সময় ওই রাজ্যের সীমান্তে পুলিসের গাড়ি খারাপ হয়ে যায়। এরপর বিহার ঢুকে বক্তিয়ারপুর পুলিসের কাছে সাহায্য চান তদন্তকারীরা। সেখান থেকে দু’টি গাড়িতে ধৃতদের সড়কপথে শিলিগুড়ি নিয়ে আসা হয়েছে।  নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ