সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: পাড়ার ব্যস্ততম রাস্তার ধারে দিনভর গাড়ি রেখে কাজে বেরিয়েছেন মানুষজন। এর জেরে যানজটে নাজেহাল হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শিলিগুড়ি শহরে এ এক নতুন সমস্যা হয়ে উঠেছে। টোটোর দৌরাত্ম্য বৃদ্ধির সঙ্গে এভাবে অবৈধ পার্কিংয়ের ফলে পাড়ার রাস্তায় দুর্ঘটনাও বাড়ছে। শনিবার শিলিগুড়ি পুরসভার টক টু মেয়র ফোন ইন লাইভ অনুষ্ঠানে ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা প্রশান্ত দাস এনিয়ে মেয়রের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, আশ্রমপাড়ায় সারদামণি স্কুলের পাশে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় ধারে সারাদিন লাইন দিয়ে গাড়ি পার্ক করে রাখা হচ্ছে। অথচ এখানে পার্কিংয়ের কোনও নিয়ম নেই। পুলিসেরও নজরদারি নেই। এর ফলে রাস্তা অপরিসর হয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত হয়রানি হতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
শুধু সারদামণি স্কুলই নয়। শিলিগুড়ি বয়েজ স্কুলের দু’দিকের রাস্তা, দীনবন্ধু মঞ্চের সামনে সহ শহরের অনেক পাড়ার রাস্তাতেই এভাবে টোটো ও গাড়ি পার্কিং করার প্রবণতা বেড়ে গিয়েছে। যা শিলিগুড়ি শহরের এক জ্বলন্ত সমস্যা হয়ে উঠেছে। এব্যাপারে একমত মেয়র গৌতম দেব। তিনি বলেন, এনিএয় শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিসের ডিসিপি-র (ট্রাফিক) সঙ্গে কথা বলব। পাশাপাশি পুরসভাও সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছে।
শিলিগুড়ি শহরে পার্কিংয়ের জায়গা পাওয়াটাই সমস্যার। শহর বেড়েছে কিন্তু রাস্তা ও পার্কিংয়ের জায়গা বাড়েনি। এপ্রসঙ্গে মেয়র বলেন, আশ্রমপাড়ায় কিরণচন্দ্র ভবনের দ্বিতীয় পর্যায়ে সংস্কারের কাজ শেষের পথে। সেখানে দিনের বেলায় গাড়ি রাখার জন্য পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি স্টেশন ফিডার রোডে দমকল অফিসের পাশে আমাদের অনেকটা জায়গা রয়েছে। সেখানেও পার্কিং জোন খোলার চিন্তাভাবনা চলছে। পিএইচই দপ্তর কিছুটা জমি নিয়ে রেখেছে। তারা সে জমি ছেড়ে দেবে বলে জানিয়েছে। সেই জমি পাওয়া গেলে সেখানে বহুতল পার্কিং লট তৈরি করা হবে।
শিলিগুড়ি শহরের বিধান রোড, সেভক রোড, হিলকার্ট রোড সহ প্রধান প্রধান বাণিজ্যিক এলাকায় সেভাবে পার্কিংয়ের জায়গা নেই। বাইরে থেকে যাঁরা গাড়ি নিয়ে বাজার করতে বা অন্যান্য কাজে আসেন, তাঁরা গাড়ি রাখার জায়গা সেভাবে পাচ্ছেন না। সে কারণে তাঁরা এই প্রধান প্রধান রাস্তার কাছাকাছি পাড়া এলাকায় ঢুকে পড়ছেন। সেখানে রাস্তার ধারে গাড়ি রেখে বাজারে বা কাজে চলে যাচ্ছেন।
নিজস্ব চিত্র।