সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: নৈহাটির বড়মার পাশাপাশি এবার শিলিগুড়িতে কালীপুজোয় শান্তিপুরের বামা কালীরও দর্শন মিলবে। চমকের প্রতিযোগিতায় ২০২৩ সাল থেকে হায়দরপাড়ার মহামায়া স্পোর্টিং ক্লাব নৈহাটির বড় মা’র আদলে প্রতিমা বানিয়ে পুজো করে সাড়া ফেলেছে। এবার ৪৬ তম বর্ষেও তারা সেই ধারা অব্যাহত রাখেছে। এবারও মহামায়া স্পোর্টিং ক্লাব নৈহাটির বড়মার আদলেই পুজো করছে। ২৬ ফুট উঁচু মূর্তির গয়না, সাজসজ্জা থেকে শুরু করে পুজোপদ্ধতি সবকিছুই নৈহাটির বড়মার পুজো অনুকরণে হচ্ছে বলে জানান ক্লাবের অন্যতম সদস্য বিশাল দত্ত।
শহরের অপরপ্রান্ত সুভাষপল্লির তরুণ অ্যাথলেটিক ক্লাব নজর কাড়বে ৪০ ফিট উঁচু বামা কালীর মূর্তিতে। এবার ৬২ তম বর্ষের পুজোয় তারা শান্তিপুরের বামা কালী মূর্তি বানাচ্ছে। শিলিগুড়ির কুমোরটুলির মৃৎশিল্পী পুজো প্রাঙ্গণে এই বিশাল মূর্তি বানাচ্ছেন। বামা কালীর পুজোর অন্যতম আকর্ষণ মশাল জ্বালিয়ে শোভাযাত্রা করে মায়ের মূর্তি মণ্ডপে আনা। কিন্তু এখানে মণ্ডপে ৪০ ফুট উঁচু মূর্তি নিয়ে আসা সম্ভব নয়। তাই ছোট আকারের বামা কালীর মূর্তি কুমোরটুলি থেকে মশাল জ্বালিয়ে শোভাযাত্রা করে মণ্ডপে আনা হবে বলে জানান এই পুজো কমিটির অন্যতম সদস্য সায়ন্ত ভৌমিক।
নৈহাটির বড়মার অনুকরণে বা শান্তিপুরের বামা কালীর মূর্তি বানিয়ে পুজো করার ক্ষেত্রে দুই ক্লাবেরই ভাবনা এক। ক্লাব কর্মকর্তারা বলেন, শিলিগুড়িতে বসে অনেকের পক্ষেই নৈহাটিতে গিয়ে বড়মা এবং শান্তিপুরে গিয়ে বামা কালী পুজো দেখা সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাই নিজের শহরে বসেই সকলে যাতে এই দুই জাগ্রত মায়ের দর্শন করতে পারেন সেই ভাবনাতেই এই পুজোর আয়োজন। মহামায়া স্পোর্টিং ক্লাবের সদস্য বিশাল দত্ত, বলেন ২০২৩ সালে প্রথম আমরা নৈহাটির বড়মার মূর্তি গড়ে পুজো করে ভালো সাড়া পেয়েছি। তারপর থেকে আমাদের পুজোয় দর্শনার্থীর ভিড় বেড়েই চলেছে। শিলিগুড়ির বাইরে থেকেও বহু মানুষ পুজো দেখতে আসে। তাই আমরা এই ধারা অক্ষুণ্ণ রাখব। নৈহাটিতে যে নিয়মে পুজো হয় আমরা সেই রীতি মেনে পুজো করব। মণ্ডপে এসে সকলে পুজো দিতে পারবেন। তার ব্যবস্থাও থাকছে। তরুণ অ্যাথলেটিক ক্লাবের সায়ন্ত ভৌমিক বলেন, বামা কালীর ৪০ ফুট উঁচু মূর্তি অন্যতম আকর্ষণ। পাশাপাশি লাইট অ্যান্ড সাউন্ডের মাধ্যমে মায়ের আগমনের বিভিন্ন কাহিনি তুলে ধরা হবে। নিজস্ব চিত্র।