Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শিলিগুড়িতে পথবাতি রক্ষণাবেক্ষণে বিদ্যুতের খুঁটিতে জিও ট্যাগিং পুরসভার

এবার শিলিগুড়ি শহরের বিদ্যুতের খুঁটিতে বসবে নম্বর। একই সঙ্গে খুঁটিগুলি জিও ট্যাগিং করা হবে।

শিলিগুড়িতে পথবাতি রক্ষণাবেক্ষণে বিদ্যুতের খুঁটিতে জিও ট্যাগিং পুরসভার
  • ২৩ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: এবার শিলিগুড়ি শহরের বিদ্যুতের খুঁটিতে বসবে নম্বর। একই সঙ্গে খুঁটিগুলি জিও ট্যাগিং করা হবে। বিদ্যুৎ অপচয়, পোল রক্ষণাবেক্ষণ করতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিলিগুড়ি পুরসভা। তবে শহরে এখনও বহু বিদ্যুতের খুঁটি বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। সেগুলিতে ‘আর্থিং’ হয়নি। শহরে এমন বিপজ্জনক পোলের সংখ্যা প্রায় ছ’হাজার। এই সমস্যা মেটাতেও তাৎপর হয়েছে পুরসভা। তারা এজন্য প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা খরচ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Advertisement

শিলিগুড়ি শহরে বিদ্যুতের খুঁটি অসংখ্য। সেগুলি সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করার দাবি বহুদিনের। বিভিন্ন সময় বোর্ড মিটিংয়ে এব্যাপারে সরব হন বিরোধীরা। এবার বিদ্যুতের খুঁটিগুলি রক্ষণাবেক্ষণে পুরসভা উদ্যোগী হয়েছে। পুরসভা সূত্রের খবর, শহরের ৪৭টি ওয়ার্ডে বিদ্যুতের খুঁটির সংখ্যা প্রায় ৩৩ হাজার। আর পথবাতির সংখ্যা প্রায় ৩২ হাজার। পোলগুলি সঠিকভাবে চিহ্নিতকরণ করে, তাতে নম্বর দেওয়া হবে। এজন্য প্রতিটি পোলের গোড়া রং করা হবে। সেই সঙ্গে পোলগুলি জিও ট্যাগিং করা হবে। এজন্য প্রতিটি পোলের ছবি পুরসভার সফটওয়্যারে লোড করা হচ্ছে। তাতে এলাকার ভৌগলিক অবস্থানও থাকছে।
পুরসভার বিদ্যুৎ বিভাগের মেয়র পরিষদ সদস্য কমল আগরওয়াল বলেন, পোলগুলিতে নম্বর বসাতে এবং সেটিগুলি জিও ট্যাগিং করতে প্রায় ৫৭ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হবে। এজন্য ঠিকাদার সংস্থাকে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বরাত দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর সঠিকভাবে পোলগুলি রক্ষণাবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। কোথায়, কোন পোল কী অবস্থায় রয়েছে, তা জিও ট্যাগিংয়ের মাধ্যমে পুরভবনে বসেই বোঝা যাবে। অর্থাৎ দিনে কোথায় পোলে বাতি জ্বলছে, আবার কোন পোল বিপজ্জনকভাবে হেলে গিয়েছে, তা সহজে জানা যাবে।
এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে শহরের অসংখ্য পোল বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। পুরসভা সূত্রের খবর, এক বছর আগে শহরে ন’হাজার পোলকে আর্থিং করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এখনও পর্যন্ত ৯৫ লক্ষ ২০ হাজার টাকা খরচ করে মাত্র ৩১৫০টি পোল আর্থিং করা হয়েছে। যা আর্থিংবিহীন পোলের মধ্যে মাত্র ৩৫ শতাংশ। অর্থাৎ, এখনও শহরে আর্থিংবিহীন পোলের সংখ্যা ৫৮৫০টি। যারমধ্যে অধিকাংশ শহরের সংযোজিত ১৪টি ওয়ার্ডে রয়েছে। সেই এলাকাগুলিতে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে দঁড়ি বেঁধে ভেজা জামাকাপড় শুকান বাসিন্দারা। বর্ষার মরশুমে সেগুলি বিপজ্জনক হয় বলে অভিযোগ।
স্থানীয় বাসিন্দারা এব্যাপারে পুরসভার ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছেন। বাসিন্দাদের একাংশ বলেন, বর্ষার মরশুমে আর্থিংবিহীন খুঁটিগুলিতে হাত দেওয়া যায় না। মাঝেমধ্যেই শক করে। তাঁদের অভিযোগ, এবিষয়ে পুরসভাকে একাধিকবার জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। পুরসভার বিদ্যুৎ বিভাগের মেয়র পরিষদ সদস্য অবশ্য বলেন, এবার আরও ৭২০০টি পোলে আর্থিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। এজন্য খরচ হবে প্রায় ৮১ লক্ষ টাকা। কাজেই আমরা হাত গুঁটিয়ে বসে নেই। পুরসভার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ঠিক নয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ