Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভিনরাজ্যের দুষ্কৃতীদের ডেরা হয়ে উঠছে শিলিগুড়ি!

কখনও জালিয়াতি, কখনও আবার দিনে-দুপুরে ডাকাতি, আবার কখনও এটিএম লুট।

ভিনরাজ্যের দুষ্কৃতীদের ডেরা হয়ে উঠছে শিলিগুড়ি!
  • ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: কখনও জালিয়াতি, কখনও আবার দিনে-দুপুরে ডাকাতি, আবার কখনও এটিএম লুট। প্রায় সবক্ষেত্রেই বেশিরভাগ অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশকে ছুটতে হচ্ছে ভিনরাজ্যে। দুষ্কৃতীরা শিলিগুড়িতে ডেরা করে  অপরাধ সংগঠিত করছে। অপারেশন শেষ করে চম্পট দিচ্ছে ভিনরাজ্যে। বিহার, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজ্য থেকেই দুষ্কৃতীদের ধরে আনতে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের তদন্তকারীদের। রীতিমতো রেকি করে দলবেঁধে অপরাধ সংগঠিত করে চম্পট দিচ্ছে তারা। কাজেই ঘটনা ঘটতেই পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও দ্রুত তথ্য সংগ্রহ করতে সমস্যায় পড়ছে। যদিও পরবর্তীতে একাধিক সূত্রের উপর নির্ভর করে শেষ পর্যন্ত দুষ্কৃতীদের ধরতে সক্ষম হচ্ছেন তদন্তকারীরা।

Advertisement

শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসিপি রাকেশ সিং বলেন, বাইরে থেকে এসে যারা অপরাধ করে ভিনরাজ্যে পালিয়ে যাচ্ছে তাদের যে কোনও মূল্যে গ্রেফতার করে আনি। কিছুটা সময় লাগলেও আমাদের অফিসাররা এবিষয়ে যথেষ্ট অভিজ্ঞ।
উল্লেখ্য, শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন এলাকাতে বেশ কয়েকবছর ধরেই একাধিক বড় বড় অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। বছর দুয়েক আগে মাটিগাড়ার একটি গাড়ির শোরুমের নিরাপত্তারক্ষীদের বেঁধে রেখে টাকা ভর্তি লকার নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল একদল দুষ্কৃতী। পরে জানা যায় মধ্যপ্রদেশের পাদ্রি গ্যাংয়ের সদস্যরা ওই কাণ্ড ঘটিয়েছিল। এনজেপি এলাকায় হোটেল ভাড়া নিয়ে তারা রেইকি করেছিল। চলতি বছরে শিলিগুড়িতে দুটি এটিএম মেশিন লুট হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে হরিয়ানার নূহ গ্যাং এতে জড়িত। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানা থেকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।
শিলিগুড়ির হিলকার্ট রোডের একটি সোনার দোকানে দিনের বেলায় ডাকাতি করে একদল দুষ্কৃতী। সেই ঘটনার পিছনে বিহার ও উত্তরপ্রদেশের দুষ্কৃতীরা ছিল। তারাও বিধাননগরে ডেরা নিয়ে শহরে রেইকি করে ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছিল। তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগ এখন পুলিশের হাতে থাকলেও সমস্ত লুটের সামগ্রী উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। 
শিলিগুড়ির ডাঙ্গিপাড়ায় ডেরা বেঁধে নকল শ্যাম্পু তৈরির কারখানা চালু করেছিল আগ্রার দুষ্কৃতী দল। তাদের পর্দাফাঁস করলেও এখনও দলের মূলপান্ডা বেপাত্তা। বিহারের কুখ্যাত সোনা চোরদের ডেরা যে শহরের বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে তা পুলিশের অজানা নয়। সোনা পরিষ্কার করার নাম করে এই কাণ্ড ঘটাত তারা। আশিঘর ও এনজেপি থানার পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল এনজেপি এলাকাতে। এছাড়াও চুরি, খুনের চেষ্টা থেকে শ্লীলতাহানি চলতি বছরে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের অন্তর্গত যে’কটি থানা এলাকাতে হয়েছে তার প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই নাম জড়িয়েছে ভিনরাজ্যের দুষ্কৃতীদের। সম্প্রতি শিলিগুড়ির এক ব্যক্তির থেকে শেয়ার বাজারে লগ্নি করার নামে সাড়ে ৪৭ লক্ষ টাকার প্রতারণা করা হয়। সেই ঘটনাতে তদন্তে নেমে পুলিশ দিল্লি থেকে একজন, গুজরাত থেকে তিন জন ও পাঞ্জাব থেকে একজনকে গ্রেফতার করেছিল। এছাড়াও শিলিগুড়ির বিভিন্ন ফাঁকা এলাকায় বিহারের একটি বিশেষ দলের কর্মকাণ্ড মাঝেমধ্যেই নজরে আসে। মহিলা, বাচ্চাদের আড়ালে ট্রেন বাস থেকে শুরু করে যেকোনও গণ পরিবহণ থেকে চুরি ছিনতাইয়ের ঘটনায় নাম জড়ায় তাদের।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ