নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি ও সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: এসআইআর ফর্ম অপ্রতুল! তাই শিলিগুড়ি শহরের সংযোজিত ১৪টি ওয়ার্ডে ভোটারদের কাছে প্রদান করা হচ্ছে একটি করে ফর্ম। একই ধরনের ঘটনা আলিপুরদুয়ার, ধূপগুড়ি ও ময়নাগুড়িতে ঘটেছে বলে অভিযোগ। এনিয়ে ভোটারদের একাংশ ক্ষুব্ধ। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার মনোজ আগরওয়াল অবশ্য বলেন, ইনিউমারেশন ফর্ম নিয়ে কোনও সমস্যা হবে না। পর্যাপ্ত ফর্ম পাঠানো হবে।
শিলিগুড়ি পুরসভার ৪৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৪টি সংযোজিত। অর্থাৎ ৩১ থেকে ৪৪-এই ১৪টি ওয়ার্ড জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের অংশ। যা ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। তিন দিন ধরে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডগুলির বাসিন্দাদের মধ্যে ইনিউমারেশন ফর্ম একটি করে বিলি করছেন বিএলও’রা। এনিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ রীতিমতো ক্ষুব্ধ। তাঁদের অভিযোগ, দু’টি করে ফর্ম দেওয়ার কথা থাকলেও বিএলও দিচ্ছেন একটি করে ফর্ম। আর একটি ফর্ম কবে দেওয়া হবে, তা বিএলও জানাতে পারছেন না। সেই একটি ফর্ম পূরণ করে দেওয়ার পর ভোটারদের কাছে কোনও নথি থাকবে না। ভোটার তালিকায় নাম তোলায় কোনও গোলমাল হলে, তখন কী করব?
শিলিগুড়ি শহরের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলার তথা পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের মেয়র পরিষদ দুলাল দত্ত বলেন, তিন দিনে এব্যাপারে প্রায় ৪০জন নাগরিকের কাছ থেকে এমন অভিযোগ পেয়েছি।
এর নেপথ্যে গেরুয়া শিবিরের কোনও চক্রান্ত থাকতে পারে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের পাশাপাশি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে জানানো হয়েছে। যদিও বিজেপির শিলিগুড়ি সাংগঠনিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাজু সাহা বলেন, তৃণমূলের অভিযোগ ভিত্তিহীন। তবে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্র বিজেপির দখলে। কাজেই, সেখানকার ভোটার তালিকা থেকে বাসিন্দাদের নাম কাটতে তৃণমূলই হয়ত চক্রান্ত করছে।
শুধু শিলিগুড়ির সংযোজিত ওয়ার্ড নয়, আলিপুরদুয়ার, ধূপগুড়ি ও ময়নাগুড়িতে এমন ঘটনা ঘটেছে। এসআইআরের প্রথম দিন ধূপগুড়িতে এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিএলওদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন ঢাকঢোল পিটিয়ে এসআইআর চালু করেছে। কিন্তু প্রস্তুতিতে কিছু খামতি রয়েছে।
ইনিউমারেশন ফর্ম অনেক জায়গায় অপ্রতুল। চাহিদার তুলনায় ছাপানো হয়েছে কম। তিন দিনে আলিপুরদুয়ার জেলায় এসেছে মাত্র দু’লক্ষ ফর্ম। কিছু জায়গায় বিএলওদের কিটও সময়মতো দেওয়া হয়নি।