সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: র্যাগিংয়ের অভিযোগ জানিয়ে উল্টো আতঙ্কের মুখে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের প্রথমবর্ষের ডাক্তারি পড়ুয়ারা। গত সোমবার প্রথমবর্ষের ছাত্রছাত্রীদের একটি অংশ কলেজ ফেস্টের চাঁদা নিয়ে জুলুমবাজি ও থ্রেট কালচারের ব্যাপারে ডিনকে লিখিত অভিযোগ জানান। তারই প্রেক্ষিতে কলেজের অ্যান্টি র্যাগিং কমিটি পরের দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার বৈঠক করে কলেজ কর্তৃপক্ষকে প্রস্তাব দেয়, অভিযুক্তরা ফেস্টে কোনও ভাবে যুক্ত থাকতে পারবে না। ফেস্টের জন্য জোর করে চাঁদা তোলা যাবে না এবং অভিযুক্তরা নজরদারিতে থাকবে।
সেদিনের বৈঠকে অভিযুক্তদের বক্তব্যও শোনা হয়। অনেকেই তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ একপ্রকার মেনে নিয়েছিল বলে জানান উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের অ্যান্টি র্যাগিং কমিটির সদস্য অমিত সরকার। কিন্তু বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রিন্সিপালের কাছে সেই রিপোর্ট জমা পড়েনি। উল্টো অভিযুক্তদের নতুন করে করা অভিযোগ নিয়ে আজ, শুক্রবার আবার বৈঠকে বসতে চলেছে অ্যান্টি র্যাগিং কমিটি।
প্রথমবর্ষের ওই পড়ুয়াদের একাংশের অভিযোগ, অভিযুক্ত সিনিয়রদের সুরক্ষা দিতে অ্যান্টি র্যাগিং কমিটির রিপোর্ট চেপে রেখে তাদের অভিযোগ জানানোর সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। এর পিছনে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের একটি অংশেরও মদত রয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রথমবর্ষের ওই পড়ুয়ারা। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, অ্যান্টি র্যাগিং কমিটির বৈঠকে প্রত্যেকটি অভিযোগ ধরে ধরে অভিযুক্ত সিনিয়রদের বয়ান নেওয়া হয়েছে। তার ভিত্তিতে বৈঠকে কিছু প্রস্তাব গৃহীত হয়। তারপর কীসের ভিত্তিতে অভিযুক্তরা পাল্টা প্রমাণ দাখিলের নাম করে অভিযোগ দায়ের করে। কলেজ কর্তৃপক্ষইবা কেন তাদের নতুন বক্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছে, প্রশ্ন প্রথমবর্ষের ওই পড়ুয়াদের। তাঁরা বলেন, এই প্রেক্ষাপটে আমরা নতুন করে হেনস্তা তথা র্যাগিংয়ের আশঙ্কা করছি। কলেজ কর্তৃপক্ষের ঢিলেঢালা মনোভাবের সুযোগ নিয়ে অভিযুক্তরা এই যাত্রায় রেহাই পেয়ে গেলে পরবর্তীতে নানান রকমভাবে হেনস্তা করতে পারে। তাই আমাদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে।
উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল ডাঃ সঞ্জয় মল্লিক বলেন, অভিযুক্ত ছাত্ররা আমাকে জানিয়েছে সেদিন হঠাৎ করে তাদের ডাকা হয়েছিল। তাই অ্যান্টি র্যাগিং কমিটির সামনে তারা তাদের স্বপক্ষে কিছু নথিপত্র দেখাতে পারেনি। সেই নথিপত্র তারা আমার কাছে জমা দিয়ে গিয়েছে। যা আমি অ্যান্টি র্যাগিং কমিটির কাছে দাখিল করেছি। তার ভিত্তিতেই শুক্রবার আবার বৈঠকে বসবে অ্যান্টি র্যাগিং কমিটি।
গত মঙ্গলবারের বৈঠকের রিপোর্ট প্রসঙ্গে ডাঃ সঞ্জয় মল্লিক বলেন, প্রথম মিটিংয়ের কোনও রিপোর্ট বা প্রস্তাব এখনও আমি পাইনি। অ্যান্টি র্যাগিং কমিটির কাছ থেকে সেই রিপোর্ট আসবে।
এদিকে অভিযোগ, এই সুযোগকে হাতিয়ার করে অভিযুক্তরা ফেস্টের আয়োজন থেকে হস্টেলে, ক্যাম্পাসে সর্বত্র দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। যা নিয়েই নিচু ক্লাসের ডাক্তারি পড়ুয়াদের মধ্যে ফের হেনস্তা, র্যাগিং হওয়ার মতো আশঙ্কা ছড়াচ্ছে। ফাইল চিত্র