সংবাদদাতা, রামপুরহাট: হাজিরা খাতায় সই করছেন নিয়মিত। অথচ বিপিএইচইসিতে দেখা মিলছে না অনুব্রত মণ্ডলকে ‘বেডরেস্টের’ প্রেসক্রিপশন দেওয়া রামপুরহাট ১ ব্লকের বিতর্কিত বিএমওএইচ হিটলার চৌধুরীর। বিশেষ প্রয়োজনে সাক্ষাতে এসে ঘুরে যাচ্ছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। ফোন করলেও তিনি কল রিসিভ করছেন না। কেন তিনি ‘লুকোচুরি’ খেলছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বোলপুরের আইসিকে ফোনে ছাপার অযোগ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন তৃণমূলের কোর কমিটির সদস্য অনুব্রত মণ্ডল। সেই অডিও সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হতেই রাজ্যজুড়ে শোরগোল পড়ে যায়। দলের নির্দেশে অনুব্রত মণ্ডল লিখিত ক্ষমা চাইলেও পুলিস তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা শুরু করে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হলেও হাজিরা এড়ান অনুব্রত। আইনজীবী পাঠিয়ে মেডিক্যাল সার্টিফিকেট জমা করেন তিনি। তাতে অনুব্রত মণ্ডলকে পাঁচদিন বেডরেস্ট লেখা প্রেসক্রিপশনে বোলপুরের বেসরকারি মেডিক্যালে কলেজের প্যাডে সই রয়েছে রামপুরহাট ১ ব্লকের বিএমওএইচ হিটলার চৌধুরীর। তিনি সরকারি স্বাস্থ্যদপ্তরের পদে থেকে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের আরএমও হিসাবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। এতে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, নন-প্র্যাকটিসিং পোস্টে থেকে কোনও চিকিৎসকের বেসরকারি হাসপাতালে কাজ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তারপরও কীভাবে তিনি বেসরকারি কলেজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন, তা নিয়ে সর্বত্র প্রশ্ন ওঠে। এই নিয়ে হইচই শুরু হতেই কার্যত ‘অন্তরালে’ চলে যান হিটলার। এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও ব্লক হাসপাতালে তাঁর দেখা মিলছে না বলে অভিযোগ। যদিও নিয়মিত হাজিরা খাতায় তিনি সই করছেন। সোমবারও তাঁকে ব্লক হাসপাতালে দেখা পাওয়া যায়নি। এদিন এই ব্লকের কুসুম্বা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান তৃণমূলের তোতা শেখ বিশেষ প্রয়োজনে বিএমওএইচের সঙ্গে সাক্ষাতে এসেছিলেন। তিনি বলেন, ‘কিছু সমস্যা নিয়ে বিএমওএইচের কাছে এসেছিলাম। কিন্তু দেখা পেলাম না। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মীরা জানালেন তিনি ফিল্ড ভিজিটে গিয়েছেন। কখন আসবেন সেটা বলতে পারবেন না।’ এদিকে বিএমওএইচকে বারংবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করছেন না। ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, আত্মীয়স্বজন এবং অফিসের বস ছাড়া কোনও কল রিসিভ করছেন না। এব্যাপারে রামপুরহাট স্বাস্থ্যজেলার এসিএমওএইচ আদিত্য হৃদয় চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘উনি ছুটি নিয়েছেন, এমন কোনও খবর আমার কাছে নেই।’ কিন্তু সরকারের ঘর থেকে নন প্র্যাকটিস পে তোলার পরও বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিষয়। এব্যাপারে যা বলার সিএমওএইচ বলবেন।’
অন্যদিকে সিএমওএইচ শোভন দে বলেন, ‘ওই বিএমওএইচ হাজিরা খাতায় সই করছেন। কিন্তু নিয়মিত অফিস করছেন কি না, তা বলতে পারব না।’ তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ এসেছে কি না, তাও বলতে চাননি তিনি। চিকিৎসকদের একাংশ অবশ্য বলছেন, বিএমওএইচ নন প্র্যাকটিসিং পোস্ট। এই পোস্টে থেকে কেউ রোগী দেখতে পারেন, কিন্তু সেটা টাকার বিনিময়ে নয়। স্বাস্থ্যদপ্তরের উচিত এভাবে যাঁরা নন প্র্যাকটিস পে তোলার পরও অন্য জায়গায় যুক্ত হয়ে বেতন তুলছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। নাহলে এই প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলবে।