নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান ও সংবাদদাতা, কাটোয়া: কাটোয়ায় দলের জেলা কমিটির ডাকা বৈঠকে হাজির হলেন না মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। তিনি কয়েকদিন আগে জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়কে তোপ দেগেছিলেন। মন্তেশ্বরের তৃণমূল নেতা আহমেদ হোসেনকে কোলে বসিয়ে তিনি দুধভাত খাওয়াচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন। জেলা সভাপতিকে তিনি ‘কাটোয়ার বড়বাবু’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। তবে এই আক্রমণ প্রথমবার নয়, এর আগেও জেলা সভাপতিকে আক্রমণ করে তিনি বলেছিলেন, কাটোয়া থেকে মন্তেশ্বরে ছিপ ফেলা হচ্ছে। যদিও জেলা সভাপতি এসব বক্তব্য নিয়ে কোনও মন্তব্য না করে দলকে বিষয়টি জানাবেন বলেছিলেন।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নেতৃত্ব সবপক্ষকেই একসঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু এদিন মন্ত্রী বৈঠকে হাজির না থেকে বুঝিয়ে দিলেন ফাটল মেরামত হয়নি। এদিন তাঁকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তোলেননি। মন্ত্রী বৈঠকে হাজির না থাকলেও কটোয়ার বৈঠকে ছিলেন ভাইজান।
এদিন জেলা কমিটির বৈঠক থেকেও কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের জেলা সভাপতি বলেন, দলীয় নির্দেশ সবাইকে মেনে চলতে হবে। বাইরে দলের বিরুদ্ধাচারণ করা যাবে না। মঙ্গলবার কাটোয়ার সংহতি মঞ্চ থেকে তিনি এই বার্তা দেন। তিনি আরও বলেন, অনেকেই দলীয়ভাবে আমাদের হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে। তাদের যেন সুযোগ না করে দেওয়া হয়। দলের নিচুস্তর পর্যন্ত এই বার্তা পৌঁছে দিতে হবে।
এদিন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের নেতা মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, অপূর্ব চৌধুরী, দেবু টুডু সহ অন্যান্যরা। ব্লক সভাপতি এবং বিধায়করাও বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন। আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে এদিন জেলা নেতৃত্ব দলীয় বিধায়ক ও নেতাকর্মীদের বেশকিছু নির্দেশ দিয়েছে। ভোটার তালিকার সংশোধন ও সংযোজন, আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান কর্মসূচি প্রভৃতি বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সেখানেই জেলা সভাপতি সকলকে বার্তা দেন।
দলীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, মন্তেশ্বরের পাশাপাশি মঙ্গলকোট, মেমারি, আউশগ্রামেও দলের কোন্দল মাথাচাড়া দিয়েছে। দলের এক গোষ্ঠী অন্য গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছে। মন্তেশ্বরে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে। তাতে নেতৃত্বের অস্বস্তি বাড়ছে। এছাড়া সম্প্রতি জেলার এক নেতার ভাইরাল হওয়া অশ্লীল ভিডিও নিয়েও সমালোচনার ঝড় বইছে। দলে ভাবমূর্তি ক্ষতি হয় এমন কোনও কাজ করা যাবে না বলে নেতৃত্ব সকলকেই সতর্ক করেছে। কেউ নিজেকে দলের ঊর্ধ্বে ভাবলে তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে নেতৃত্ব সময় নষ্ট করবে না। সেটাও এদিনের বৈঠক থেকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।