সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: বাড়ি বাড়ি বসেছে ট্যাপকল। কিন্তু জল পড়ে না। প্রশাসনের কাছে একাধিকবার জানিয়েও কোনও কাজ হয়নি। দীর্ঘ চার বছর ধরে তীব্র জলকষ্টে ভুগছে বাবলারি পঞ্চায়েতের সিদ্ধেশ্বরী পাড়ার ১২৫টি পরিবার। জল সরবরাহের দায়িত্বে থাকা পিএইচই এই সমস্যার কথা মেনে নিয়েছে। প্রশাসনের এহেন উদাসীনতায় ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা গিয়েছে, ২০২১ সালে বাড়ি বাড়ি পাইপলাইনের সংযোগ মিলেছে। এতে স্থানীয়রা আশা করেছিলেন দীর্ঘদিনের জলসঙ্কট মিটবে। কিন্তু, চার বছর কেটে গেলেও আজও সেই ট্যাপকল থেকে জল মেলে না। অগত্যা গ্রামবাসীদের পানীয় জলের সমস্যা মেটাচ্ছে পুরনো দু’টি সরকারি টিউবওয়েল ও একটি সজলধারা প্রকল্প। গ্রামবাসীদের অনেকে পানীয় জল কিনে খাচ্ছেন। তাঁদের দাবি, পাইপ লাগানোর পর একদিনের জন্য কয়েকটি বাড়ির ট্যাপকলে জল পড়েছিল। কিন্তু, তারপর আর সিদ্ধেশ্বরী পাড়ার কোনও ট্যাপকলে জল আসেনি। স্থানীয় বাসিন্দা তথা নবদ্বীপ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য অভিজিৎ দত্ত বলেন, এই অঞ্চলে যে পাইপ লাইনের কাজ হয়েছে, তার অধিকাংশই ত্রুটিপূর্ণ। বাবলারি পঞ্চায়েতের রেললাইন সংলগ্ন রেলব্রিজের নীচ দিয়ে পাইপ লাইন নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সিদ্ধেশ্বরী পাড়ায়। তা বর্তমানে ভেঙে পড়ে রয়েছে। সেই পাইপ সরকারিভাবে পিএইচই দপ্তর থেকে মেরামত করা হয়নি। তার ফলে এলাকায় জল পৌঁছচ্ছে না। এবিষয়ে পঞ্চায়েতের জনস্বাস্থ্য বিষয়ক মিটিংয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা হয়েছে। কিন্তু, আশ্বাস ছাড়া কিছুই জোটেনি।
উল্লেখ্য, গত চার বছর আগে সিদ্ধেশ্বরী পাড়ায় বাড়ি বাড়ি ট্যাপকলের পাইপ লাইন বসানো হয়। বর্তমানে অধিকাংশ বাড়ির ট্যাপকলের গোড়ায় মরচে পড়ে গিয়েছে। কারও কারও বাড়ির কল ভেঙে পড়ে আছে। অনেকেই বাড়িতে টিউবওয়েল বসিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন।
স্থানীয় গৃহবধূ চায়না সাহা ও অপুরানি দাস বলেন, পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। সামান্য রোজগারে অতিকষ্টে দিন কাটে। তারই মধ্যে পানীয় জল কিনে খেতে হয়। কৃষ্ণনগরের সাব ডিভিশনের পিএইচই দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ওই এলাকায় নতুন করে কিছু পাইপ লাইনের কাজ হবে। সেই কাজের অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছি। অনুমোদন পেয়ে গেলেই এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
পিএইচই দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বাবলারি পঞ্চায়েতে থাকা জলাধারটির আড়াই লক্ষ লিটার জলধারণ করার ক্ষমতা রয়েছে। এর মাধ্যমে ১৫০০টি বাড়িতে জল সরবরাহ করা সম্ভব। কিন্তু, বর্তমানে ৩৩০০টি বাড়িতে জল সরবরাহ করা হয়। সেই কারণে প্রেসার কমে যাওয়ায় এখন অনেক জায়গায় জল ঠিকমতো পৌঁছচ্ছে না। এক্ষেত্রে নতুন জলাধার তৈরি হলে ওইসব এলাকায় জল সরবরাহ সম্ভব হবে। কিংবা ওই এলাকায় মিনি পাম্প বসিয়ে জল সরবরাহ করা যেতে পারে। এছাড়া, ওই পঞ্চায়েতের রামচন্দ্রপুর গ্রামেও একই সমস্যা রয়েছে। সেখানেও পাম্প বসিয়ে সমস্যার সমাধান হতে পারে।