Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ট্রলি নেই, ওয়ার্ডে যাওয়ার পথে করিডরেই মৃত্যু অসুস্থ যুবকের

ট্রলি বা হুইল চেয়ার কিছুই মেলেনি। পিঠে চাপিয়ে ছেলেকে মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করতে ছুটেছিলেন বৃদ্ধ বাবা। মাঝপথে ক্লান্ত হয়ে অসুস্থ ছেলেকে করিডরে বসিয়ে আবার ট্রলি, হুইল চেয়ারের খোঁজ করেন অসহায় বাবা।

ট্রলি নেই, ওয়ার্ডে যাওয়ার পথে করিডরেই মৃত্যু অসুস্থ যুবকের
  • ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: ট্রলি বা হুইল চেয়ার কিছুই মেলেনি। পিঠে চাপিয়ে ছেলেকে মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করতে ছুটেছিলেন বৃদ্ধ বাবা। মাঝপথে ক্লান্ত হয়ে অসুস্থ ছেলেকে করিডরে বসিয়ে আবার ট্রলি, হুইল চেয়ারের খোঁজ করেন অসহায় বাবা। অনেক খুঁজেও তা পাননি। মেডিসিন ওয়ার্ড পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া আগেই করিডরে চোখের সামনে ছেলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। 

Advertisement

শুক্রবারে মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে মৃতের নাম বিশ্বজিৎ চন্দ (৩৫)। বাড়ি বাগডোগরার ত্রৈলক্য কলোনিতে। ট্রলি, হুইল চেয়ার না পেয়ে রোগী হয়রানির ঘটনা বারবার ঘটছে। মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। তাতেও যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ টনক নড়েনি, এদিনের ঘটনা তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখাল। 
এদিনের এই মর্মান্তিক ঘটনায় হাসপাতালের চূড়ান্ত অব্যবস্থার পাশাপাশি ইমার্জেন্সি বিভাগের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগও উঠেছে। মৃত বিশ্বজিৎ চন্দের বাবা গোপালচন্দ্র চন্দ বলেন, গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ছেলেকে উত্তরবঙ্গ মেডিকলের জরুরি বিভাগে এনেছিলাম। সেখান থেকে ডাক্তার মেডিসিন ওয়ার্ডে ছেলেকে ভর্তি করার জন্য নিয়ে যেতে বলেন। ট্রলি, হুইল চেয়ার চাইলে তারা জানিয়ে দেন তাদের কাছে নেই। ২৫ নম্বর ঘরে পাওয়া যাবে। সেখানে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও পাইনি। তাই ফিরে এসে পিঠে চাপিয়ে ছেলেকে মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করাতে নিয়ে যাচ্ছিলাম। ক্লান্ত হয়ে পড়ায় ব্লাড সেন্টারের সামনে করিডরে ছেলেকে বসিয়ে রেখে আবার ট্রলি, হুইল চেয়ারের খোঁজ করি। কিন্তু কোথাও তা পাইনি। সেই সময়ে করিডর দিয়ে একজন একটি খালি ট্রলি নিয়ে যাচ্ছে দেখে চেয়েছিলাম। কিন্তু তিনি ২০০ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় লোকটি নিষ্ঠুনের মতো পাশ কাটিয়ে চলে যায়। তারপরই চোখের সামনে আমার ছেলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। 
এদিকে, এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এ ধরনের মুমূর্ষু রোগীকে কেন অবজার্ভেশন ওয়ার্ডে রেখে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করা হল না? জরুরি বিভাগে ডিউটিতে থাকা চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কর্তব্যে গাফিলতির জোরালো অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের ডেপুটি সুপার সুদীপ্ত মণ্ডল এই অভিযোগকে সঙ্গত বলেই মনে করেন। তিনি বলেন, কেন ট্রলি বা হুইল চেয়ার পাওয়া যায়নি তা খতিয়ে দেখা হবে। এ ধরনের রোগীকে কেন  অবজার্ভেশন ওয়ার্ডে রেখে জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হল না। ইমার্জেন্সিতে ১০টি ট্রলি, হুইল চেয়ার দেওয়া আছে। রোগী নিয়ে যাওয়ার জন্য কর্মীও রয়েছেন। তাহলে কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার কেন ওই রোগীর ক্ষেত্রে এই দিকগুলি অনুসরণ করেননি, তা খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ