Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সাইবার ক্যাফেতে বসেই ডকুমেন্ট ট্যাম্পারিংয়ের কারবার চালাত রকি

সাইবার ক্যাফেতে বসেই ডকুমেন্ট ট্যাম্পারিংয়ের কারবার চালাত রকি
  • ১৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, কালিয়াচক: ‘কম্পিউটার জিনিয়াস’! ট্যাব কাণ্ডের পান্ডা রকি শেখ গ্রেপ্তার হতেই তাঁর সম্পর্কে উঠে আসছে নতুন নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য। নকলকে কীভাবে আসলের মতো তৈরি করতে হয়, সেটা নাকি রকির কেরামতি না দেখলে বিশ্বাস হওয়া কঠিন। বৈষ্ণবনগরের একাংশ বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে এমনই সব কথা জানা গেল বৃহস্পতিবার।
Advertisement
স্থানীয়দের দাবি, বৈষ্ণবনগর বাজারের আশু মার্কেটে রকির একটি সাইবার ক্যাফে রয়েছে। সেখানে বসে তিনি অনলাইনে বিভিন্ন কাজ করতেন। পাশাপাশি চলত ডিটিপির কাজকর্ম। যদিও পর্দার আড়ালে তিনি বিভিন্ন সরকারি নথির তথ্য ট্যাম্পার করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বৈষ্ণবনগরের এক বাসিন্দার বক্তব্য, রকির সাইবার ক্যাফেতে জাল আধার কার্ড থেকে শুরু করে জন্ম সার্টিফিকেট পর্যন্ত বানানো হতো। যার বিনিময়ে নেওয়া হতো মোটা টাকা। পাশাপাশি সরকারি দপ্তরের জাল সিল‌ বানানোতেও সিদ্ধহস্ত তিনি। টাকা দিলেই ওই ক্যাফেতে মিলত সবধরনের নকল নথি। আসলের সঙ্গে যার ফারাক করা দুষ্কর।
রকির এই নকল নথি এতটাই নিখুঁত যে অনলাইনে ভেরিফাই করার ব্যবস্থা না থাকলে দেখে ধরা মুশকিল। কোনও নথিতে কিউআর বা বারকোড থাকলে সেটাও নিমেষে নকল করে ফেলতেন তিনি। এই দক্ষতার জন্য রকিকে এলাকার অনেকে ‘কম্পিউটার জিনিয়াস’ বলতেন।
বৈষ্ণবনগরের রুপম তিওয়ারি জানালেন, রকি বহুদিন ধরে সাইবার ক্যাফে চালাচ্ছেন। আগে তাঁর একটি কম্পিউটার সেন্টার থাকলেও কোন‌ও কারণে সেটি বন্ধ করে দেন। ২০২১ সালে স্থানীয় একটি স্কুলে কম্পিউটার শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। তবে বহুদিন ধরে তাঁর দোকানে অবৈধ কার্যকলাপ চলছিল। কোনও নথির তথ্য বদলানোর জন্য দূরদূরান্ত থেকে লোকজন আসতেন ওই  ক্যাফেতে। রকির হাত ধরেই হাসান, শ্রবণ, জামাল ও পিন্টুরা কাজ শিখেছেন বলে জানিয়েছেন রুপম।
কৃষ্ণপুর গ্রামের জাকির হোসেনের দাবি, শ্রবণ ও রকিদের প্রায় প্রতিদিনই একসঙ্গে দেখতাম। গভীর রাত পর্যন্ত নিজেদের ক্যাফেতে কাজ করতেন তাঁরা। এছাড়াও কয়েকজনকে চিনতে পারিনি। গভীর রাতে কী হতো সেখানে, তা নিয়ে সন্দেহ হতো স্থানীয়দেরও। সবাই বলত ওনারা অবৈধ কাজ করতেন। তাঁদের সেই কর্মকাণ্ডের মাথায় রয়েছে রকি।
পড়শিরা রকিকে ভালো ছেলে হিসেবেই জানতেন। কারও সঙ্গে গণ্ডগোলেও জড়াননি। কিন্তু তিনি যে এমন প্রতারণার ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে পারেন, কেউ বিন্দুমাত্র আন্দাজ করতে পারেননি। 
মঙ্গলবার গভীর রাতে হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের পরেই রকির নাম জানতে পারে পুলিস। জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য পুলিস রাতে রকিকে তুলে নিয়ে গেলেও সকালে ছেড়ে দিয়েছিল। সূত্রের খবর, আর কারা জড়িত রয়েছে জানার জন্যই রকিকে সেদিন ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। বাড়ি ফেরার পর কার কার সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করছেন সেই তথ্য পেতে মরিয়া ছিলেন গোয়েন্দারা। সর্বক্ষণ রকির উপর নজরদারি চালাচ্ছিলেন তাঁরা। পুলিস সূত্রে খবর, প্রথমবার ছাড়া পেয়ে বাকিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অন্য রাজ্যে পালিয়ে যাওয়ার ছক কষেছিলেন রকি। তবে তার আগেই ফের তাঁকে পাকড়াও করা হয়।
সম্পর্কিত সংবাদ